default-image

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি ভাড়া দিতে না পারা ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদ প্রক্রিয়া আগামী জুন মাস পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে দুর্দশায় পড়া ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদ প্রক্রিয়া এর আগে ৩১ মার্চ পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছিল।

২৯ মার্চ সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) ভাড়াটিয়াদের সব ধরনের উচ্ছেদের প্রক্রিয়া জুন মাসের শেষ পর্যন্ত স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে। এতে বাড়ি ভাড়া না দিতে পারলেও কোনো ভাড়াটিয়াকে মালিকপক্ষ উচ্ছেদ করতে পারবেন না। কোনো আদালতও এ সময়ে স্থগিতাদেশের যোগ্য কোনো ভাড়াটিয়াকে উচ্ছেদের মামলা গ্রহণ করবেন না।

করোনা মহামারিতে যুক্তরাষ্ট্রের অসংখ্য মানুষ এখনো কর্মহীন। দফায় দফায় নাগরিক প্রণোদনা দেওয়া হলেও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর মধ্যে এখন চলছে চরম টানাপোড়েন। অর্থনৈতিক চাঞ্চল্য এখনো ফেরেনি। বেকার ভাতা ও প্রণোদনার নগদ অর্থের সঙ্গে ফুড স্ট্যাম্প, বিনা মূল্যের স্বাস্থ্য সুবিধা নিয়ে বহু পরিবারকে চলতে হচ্ছে। গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় সংক্রমিত সাড়ে পাঁচ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন
সিডিসি ভাড়াটিয়াদের সব ধরনের উচ্ছেদের প্রক্রিয়া জুন মাসের শেষ পর্যন্ত স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে। এতে বাড়ি ভাড়া না দিতে পারলেও কোনো ভাড়াটিয়াকে মালিকপক্ষ উচ্ছেদ করতে পারবেন না। কোনো আদালতও এ সময়ে স্থগিতাদেশের যোগ্য কোনো ভাড়াটিয়াকে উচ্ছেদের মামলা গ্রহণ করবেন না

এই পরিস্থিতিতে ভাড়াটিয়ারা যেমন বাসা ভাড়া দিতে পারছেন না, তেমনি অনেক বাড়ির মালিকও ভাড়া আদায় করতে না পেরে সমস্যায় পড়েছেন। ব্যাংক থেকে আনা গৃহঋণের কিস্তি বাকি পড়েছে। কোনো কোনো ভাড়াটিয়া উচ্ছেদ স্থগিতাদেশের সুযোগও গ্রহণ করছেন। ইচ্ছা করে ভাড়া দিচ্ছেন না অনেকে। এ নিয়ে ছোট ছোট বাড়ির মালিকেরা বেশি বিপাকে পড়েছেন।

করোনাকালে যুক্তরাষ্ট্রে ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদ স্থগিত করা হয়। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ক্ষমতা গ্রহণের পর মার্চ মাস পর্যন্ত এমন উচ্ছেদ স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। অর্থনৈতিক কারণে উচ্ছেদের শিকার হয়ে লোকজন যাতে গৃহহীন না হয়ে পড়ে, এ নিয়ে নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলো স্থগিতাদেশের সময় বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিল।

নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলোর সমন্বয়ক জন পলোক বলেছেন, সরকার ভাড়াটিয়াদের প্রণোদনা প্রদান করেছে। এসব প্রণোদনা ও ভাড়া প্রদানের সহযোগিতা প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগবে। সে সময় পর্যন্ত উচ্ছেদ স্থগিত রাখাই উপযুক্ত সিদ্ধান্ত।

জন পলোক আরও বলেন, দেশে বাড়ি ভাড়া প্রদানে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে কৃষ্ণাঙ্গরা শীর্ষে। এ জনগোষ্ঠীর প্রায় ৩৩ শতাংশেরই বাড়ি ভাড়া বকেয়া পড়ে আছে।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন