বড়দিনের উৎসবের আগে ব্যস্ততম দিনগুলোর অন্যতম দিন ২৩ ডিসেম্বর। এ দিন নিউইয়র্কের অন্যতম জেএফকে বিমানবন্দর থাকে সবচেয়ে ব্যস্ত। অথচ এবার এই দিনটিতে জেএফকে বিমানবন্দরজুড়ে ছিল সুনসান নীরবতা। যাত্রী উপস্থিতির পরিমাণ ছিল খুবই কম।

গেল ২০১৯ সালে বছরজুড়ে জেএফকে বিমানবন্দর ব্যবহারকারী ভ্রমণকারীদের সংখ্যা ছিল প্রায় ৮৫ লাখ। চলতি বছরের শুরু থেকে দুনিয়াজুড়ে করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় ভ্রমণকারীর মোট সংখ্যা নেমে আসে অর্ধেকের কম, মাত্র ৩৫ লাখে।

যুক্তরাষ্ট্রে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ বিভাগের দেওয়া সতর্কবাণী মেনে অধিকাংশ মার্কিন এবার বড়দিনের ছুটিতে স্বজনদের দেখার উদ্দেশ্যে সব ধরনের ভ্রমণ বিশেষ করে আকাশভ্রমণ সীমিত করে নেয়। তারপরও কিছু কিছু মার্কিন সতর্কতা অবলম্বন করে স্বজনদের সঙ্গে বড়দিন উদ্‌যাপন করতে আকাশ পথে ভ্রমণ করছেন।

বিজ্ঞাপন

ফ্লোরিডা ও কলোরাডো থেকে নিউইয়র্ক আসা যাত্রীরা জেএফকে কর্তৃপক্ষের গৃহীত সংক্রমণ প্রতিরোধ কার্যক্রম দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। কেউ কেউ বলেন, তারা দেখেছেন বিমানবন্দরের সর্বত্র সংক্রমণনাশক ছিটানো হচ্ছে এবং হাতের ছোঁয়া লাগে এমন স্থান জীবাণুনাশক দিয়ে নিয়মিত মুছে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি বিমান বন্দরের দেয়ালকে জীবাণুমুক্ত রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।

নিউইয়র্ক নগরের ব্রঙ্কস এলাকার এক ভ্রমণকারী বলেন, ‘আমি ইতিপূর্বে এমন সতর্কতা কখনো দেখিনি। এ ছাড়া বিমানের অভ্যন্তরে ও বিমানবন্দরের সব জায়গা খুবই পরিষ্কার ও ভয়মুক্ত। হাত জীবাণুমুক্তকরার স্যানিটাইজারের ছড়াছড়ি। আমি দুবার শৌচাগার ব্যবহার করার সময় দেখেছি, সেখানে কর্মীরা যথেষ্ট সাবধানতা অবলম্বন করে শৌচাগার পরিচ্ছন্ন ও করোনার সংক্রমণমুক্ত রাখতে কাজ করছেন।’

ডেনবার থেকে আসা যাত্রী মার্ক কয়েং বলেন, ‘আমি প্রতিবছর নিউইয়র্কে থাকা পরিবারকে দেখতে আসি। এবারের অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। বিশেষ করে যাত্রী সংখ্যা অনেক কম হওয়ায় বিমানবন্দর থেকে বের হতে সময় লেগেছে অনেক কম। যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান ‘এএএ’–এর হিসাবে, চলতি বছর যাত্রী ভ্রমণের হ্রাসের হার ২৯ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন