default-image

বেসরকারি পর্যায়ে কারাগার পরিচালনার বিষয়টিকে সীমিত করতে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। আজ মঙ্গলবার এ সম্পর্কিত নির্বাহী আদেশে তিনি সই করতে পারেন। একই সঙ্গে স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের বিষয়টি সীমিত করতেও একটি নির্বাহী আদেশ আসছে আজ।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এমন এক সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় যেসব পরিবর্তন এনেছিলেন, তা থেকে ফিরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই জো বাইডেনের নেতৃত্বাধীন নতুন প্রশাসন এ পদক্ষেপ নিচ্ছে। ট্রাম্পের নেওয়া সেসব পদক্ষেপের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বর্ণবৈষম্য বেড়ে গেছে বলে সমালোচনা রয়েছে। এ অবস্থায় বেসরকারি পর্যায়ে কারাগার পরিচালনা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের বিষয়টি সীমিত করতে আজ মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট বাইডেন নির্বাহী আদেশ জারি করবেন।

এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস ও বিচার বিভাগের কাছ থেকে মন্তব্য চেয়েও পায়নি রয়টার্স।

বিজ্ঞাপন

রয়টার্স জানায়, হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি পরিষদে পাঠানো এ সম্পর্কিত পরিকল্পনার নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, জো বাইডেন প্রশাসন বিচার বিভাগের ক্ষেত্রে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রশাসনের সময়ের কিছু নীতিকে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করেছে। ২০১৪ সালে মিসৌরির ফার্গুসনে পুলিশের গুলিতে এক কৃষ্ণাঙ্গ তরুণের নিহত হওয়ার ঘটনার পর তৎকালীন ওবামা প্রশাসন স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহে সীমা আরোপ করেন। সে সময় স্থানীয় পুলিশ যেন সব ধরনের সামরিক সরঞ্জাম না পায়, সে ব্যবস্থা করা হয়। একই সঙ্গে হেলিকপ্টার ও রায়ট হেলমেটের প্রাপ্যতার ক্ষেত্রেও যথাযথ কারণ দর্শানোর বিষয়টিকে এ সম্পর্কিত নীতিতে যুক্ত করা হয়। ওবামার সময়েই বেসরকারি পর্যায়ে কারাগার পরিচালনার বিষয়ে সীমা আরোপ করা হয়।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে একের পর এক আন্দোলন হয়েছে। মূলত পুলিশের গুলিতে কয়েকজন কৃষ্ণাঙ্গ হত্যার ঘটনাতেই উত্তাল হয়ে ওঠে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে গত বছরের মে মাসে জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলন বহু স্থানে শেষে সহিংসতায় রূপ নেয়। এই আন্দোলন দমনে পুলিশের অনুসৃত পন্থা নিয়েও রয়েছে বেশ সমালোচনা। এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পুলিশ বিভাগ সংস্কারের দাবি জোরালো হয়।

অভিযোগ ওঠে, কাঠামোগত বর্ণবাদের। কৃষ্ণাঙ্গদের সঙ্গে পুলিশের আচরণ নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক সমালোচনা। একের পর এক ঘটনা সামনে আসতে থাকে। এ প্রেক্ষাপটেই জো বাইডেন বর্ণবৈষম্যের বিষয়টি মাথায় রেখে এমন পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে।

জো বাইডেন নিশ্চিতভাবেই এখানে থামবেন না। তাঁর করা পরিকল্পনায় পুরো পুলিশ প্রশাসনকে আরও মানবিক করতে আরও কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হবে অচিরেই। তবে রয়টার্স জানায়, তাদের কাছে এ সম্পর্কিত যে নথি রয়েছে, সেখানে এ বিষয়গুলো বিস্তারিত উল্লেখ নেই। তবে ফৌজদারি অপরাধের ক্ষেত্রে ন্যূনতম শাস্তির বিধানকে আরও সহনীয় করতে একটি পদক্ষেপ আসতে। এটিও সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রশাসনের সময় নেওয়া হয়েছিল, যা ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণ করেই বাতিল করে দেন।

বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন