default-image

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চার বছরের মেয়াদকাল গোটা বিশ্বের জন্যই এক অভিনব সময়। এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্র এমন সব সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার ব্যাখ্যা কোনো কিছু দিয়েই করা যায় না। কোনো প্রতিপক্ষকে নিজের পক্ষে টানতে না পারলেও অনেক মিত্রকে এই চার বছরে দূরে ঠেলে দিয়েছেন ট্রাম্প। শুধু তাই নয়, আন্তর্জাতিক পরিসরে এমন কিছু পদক্ষেপ তাঁর প্রশাসন নিয়েছে, যা গোটা বিশ্বকেই অনিরাপদ করে তুলেছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে একটি নির্বাচন যথেষ্ট নয়। আগামী কয়েকটি প্রশাসনকেই শুধু এই চার বছরে হওয়া ক্ষতি পোষাতে কাজ করতে হবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আগে সারা বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব একতরফা ছিল। কিন্তু গত চার বছরে এই একতরফা নেতৃত্বের প্রতি বিশ্ববাসীর আস্থার ঘাটতি তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক কমিউনিটির বিন্যাস ও বৈশ্বিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার যে ক্ষতি হয়েছে, তা এক কথায় অপূরণীয়। এই ক্ষতি পোষাতে বিশ্বের এক দশকের বেশি সময় লাগবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্পের চার বছরের মেয়াদকালে ওয়াশিংটন বহু একনায়ককে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে বহুজাতিক অনেক সংস্থার সঙ্গে নিজেদের বিচ্ছেদ ঘটিয়েছে। আন্তর্জাতিক অনেক চুক্তিকে পায়ে দলে গেছে। শুধু তাই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও গণতান্ত্রিক সব রীতিনীতিকে তিনি ও তাঁর প্রশাসন অগ্রাহ্য করেছে।

এর মধ্য দিয়ে এত দিন ধরে বিবেচিত হয়ে আসা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মূল ভিতগুলো নড়বড়ে হয়ে গেছে। বিশ্বের বহু দেশে এখন নামকাওয়াস্তে গণতন্ত্র বিদ্যমান। নির্বাচন, ভোট ও গণতন্ত্রের নামে বহু দেশে যা চলছে, তাকে গণতন্ত্র হিসেবে কোনোভাবেই আর চিহ্নিত করা যাচ্ছে না। বরং একনায়কতন্ত্রের সঙ্গেই এর ঢের মিল।

বিজ্ঞাপন
তিনি এমন বহু বিষয়কেই স্বাভাবিক করে তুলেছেন, যেগুলোকে আগে নিষিদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। অন্য কোনো পশ্চিমা নেতা যদি ট্রাম্পের মতো আচরণ করতেন, তবে তাঁকে প্রান্তে ঠেলে দেওয়া হতো
নানজালা নায়াবোলা, নাইরোবিভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক

এ বিষয়ে নাইরোবিভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক নানজালা নায়াবোলা সিএনএনকে বলেন, ‘তিনি এমন বহু বিষয়কেই স্বাভাবিক করে তুলেছেন, যেগুলোকে আগে নিষিদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। অন্য কোনো পশ্চিমা নেতা যদি ট্রাম্পের মতো আচরণ করতেন, তবে তাঁকে প্রান্তে ঠেলে দেওয়া হতো। বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের নেতা হিসেবে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিশ্বাস ও আস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন সংস্থা ও রীতিকে একেবারে অগ্রাহ্য করে নানা পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। আর এটিই হবে ট্রাম্পের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব।’

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবজ্ঞার মাত্রাটি বুঝতে হলে তাকাতে হয় একনায়ক ও কর্তৃত্ববাদী শাসকদের প্রতি তাঁর আবেগ ও প্রেমের দিকে। সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে তিনি বর্ণনা করেছেন নিজের ‘ব্যক্তিগত বন্ধু’ হিসেবে। শুধু তাই নয়, তাঁর ভাষ্যমতে, বিন সালমান ‘চমৎকার কিছু কাজ’ করেছেন। ভোটাধিকার না থাকা দেশটির রাজপরিবারের বিরুদ্ধে রয়েছে দশকের পর দশক ধরে মানবাধিকার লঙ্ঘনে বৈশ্বিক নেতৃত্ব দেওয়ার মতো অভিযোগ।

উত্তর কোরিয়ার একনায়ক কিম জং উনেরও অনুরাগী ট্রাম্প। তাঁর দৃষ্টিতে কিম জং উন একজন ‘সত্যিকারে নেতা’ যার সঙ্গে তিনি ‘সত্যিই ভালো’ কাজ করতে পারেন। অথচ উত্তর কোরিয়ায় সম্ভবত এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে বাজে স্বৈরশাসনটি চলছে, যেখানে বিরোধিতা মানেই কারাভোগ এবং প্রতিপক্ষ মানেই মৃত্যুদণ্ড।

ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বৈরশাসকদেরই শুধু ভালোবাসেন না। নামকাওয়াস্তে গণতন্ত্র রয়েছে বা গণতন্ত্রের আড়ালে যেসব দেশে আদতে কর্তৃত্ববাদী শাসনই চলছে, সেসব দেশের নেতাদের প্রতিও তাঁর অনুরাগ ভীষণ। তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে নির্বাচনে জয়ের জন্য অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন। অথচ এ দুই দেশেরই নির্বাচন শুধু আনুষ্ঠানিকতা সারতে হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক মহলের। তুরস্কে যেটা হয়েছে, তা হলো সাংবিধানিক গণভোট। এর আয়োজন করা হয়েছিল শুধু এরদোয়ানের হাতে আরও বেশি ক্ষমতা তুলে দেওয়ার লক্ষ্যে। আর পুতিনের নির্বাচন নিয়ে কিছু না বলাই ভালো।

বিদ্যমান গণতান্ত্রিক কাঠামোর নৈতিক নেতা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে বিবেচনা করা হয়। এই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট যখন অন্যায্য ও ভোটের নামে ভাঁওতার নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত নেতাদের অভিনন্দন জানান বা একেবারে ঘোষিত একনায়কদের নিজের বন্ধু হিসেবে আখ্যা দেন, তখন সেসব নেতাদেরই জয় হয়। তাঁরা একটি ভিত্তি পেয়ে যান
নিক চিজম্যান, বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতন্ত্র বিষয়ে অধ্যাপক

এ বিষয়ে বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতন্ত্র বিষয়ে অধ্যাপক নিক চিজম্যান সিএনএনকে বলেন, ‘বিদ্যমান গণতান্ত্রিক কাঠামোর নৈতিক নেতা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে বিবেচনা করা হয়। এই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট যখন অন্যায্য ও ভোটের নামে ভাঁওতার নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত নেতাদের অভিনন্দন জানান বা একেবারে ঘোষিত একনায়কদের নিজের বন্ধু হিসেবে আখ্যা দেন, তখন সেসব নেতাদেরই জয় হয়। তাঁরা একটি ভিত্তি পেয়ে যান। ট্রাম্পের এই সম্মতির সঙ্গে বৈশ্বিক মঞ্চে তাঁর কম উপস্থিতিকে মিলিয়ে দেখলে বোঝা যাবে, তিনি কীভাবে সারা বিশ্বের কর্তৃত্ববাদীদের হাতকে আরও বলিষ্ঠ করেছেন এবং নিজ দেশে ও আন্তর্জাতিক পরিসরে তাঁদের যথেচ্ছাচারে অনুপ্রাণিত করেছেন।’

স্বৈরশাসকদের নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ ছিল একেবারে কম। এমনকি ভয়ানক অপরাধের ক্ষেত্রেও তিনি চুপ থেকেছেন। সৌদি আরবের একটি ঘাতক দল যখন ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটের ভেতরে জামাল খাশোগিকে হত্যা করল, তখন গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে ‘দূষিত ও হিংস্র’ অঞ্চল হিসেবে আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প প্রকারান্তরে তাঁর ঘোষিত বন্ধু সৌদি যুবরাজের পাশেই দাঁড়ালেন। ২০১৬ সালের মার্কিন নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের প্রমাণ মিললেও ভ্লাদিমির পুতিনকে নিন্দা জানানোর বিষয়টি তিনি বরাবর প্রত্যাখ্যান করেছেন। আর গত বছর জি-সেভেন সম্মেলনে মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিকে ‘প্রিয় একনায়ক’ আখ্যা দিয়েই তিনি থামলেন না। বললেন, আল-সিসি গুরুত্বপূর্ণ একজন মার্কিন মিত্র।

এ তো গেল গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক রীতিনীতি ও মূল্যবোধকে মানেন না এমন নেতাদের প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরাগের বর্ণনা। এমন বর্ণনা আরও অজস্র দেওয়া যাবে। এবার যদি তাকানো যায় গোটা বিশ্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও উদ্যোগ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্থানের দিকে, তবে নিঃসন্দেহে ভীষণ বিস্মিত হতে হবে। গত চার বছরে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন চুক্তি থেকে সরে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকেও নিজেকে প্রত্যাহার করেছে, যেগুলো আর্থিক ও রাজনৈতিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল। তিনি বহুপক্ষীয় বিভিন্ন উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা ও কার্যকারিতাকে প্রশ্নের সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

অধ্যাপক নিক চিজম্যান বলেন, বৈশ্বিক মহামারির মাঝখানে যখন ট্রাম্প বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতো একটি সংগঠন থেকে বেরিয়ে যান তাঁরা চীনের হয়ে কাজ করছে অভিযোগ তুলে, তখন বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে এই সংস্থাটির আন্তর্জাতিক পরিসরে কাজের বিশ্বাসযোগ্যতাকেই দীর্ঘ সময়ের জন্য প্রশ্নের সামনে দাঁড় করিয়ে দেন। এর ভুক্তভোগী হতে হচ্ছে বিশ্বের সবাইকে। যখন তিনি প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে বেরিয়ে যান, তখন তিনি গাছ কাটা কমানোর জন্য একটি দেশকে আন্তর্জাতিক কমিউনিটির আহ্বান জানানোর ক্ষমতাও খর্ব করেন আসলে। প্রশ্ন ওঠে—যুক্তরাষ্ট্রই যদি না থাকে, তবে অন্য কেউ কেন থাকবে?’

আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ট্রাম্পের একলা চলো নীতির কারণে দুই ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। প্রথমত, ন্যাটো ও জাতিসংঘের মতো সংস্থার সমালোচনার মধ্য দিয়ে তিনি বহু দশক ধরে সততা ও বিশ্বস্ততাকে পুঁজি করে তৈরি হওয়া ভিত্তি ও এ সম্পর্কিত বিভিন্ন সংস্থাকে বিতর্কিত করে তুলেছেন। দ্বিতীয়ত, ট্রাম্পের নেতৃত্বের অনিয়ন্ত্রিত ও অসংযত ধরন সারা বিশ্বে মার্কিন প্রেসিডেন্সি সম্পর্কিত ধারণায় বদল এনেছে। এতে মার্কিন প্রেসিডেন্সির কাছ থেকে অন্য দেশগুলোর প্রত্যাশায় বদল এসেছে। বিশেষত গণতান্ত্রিক দেশগুলো এখন সংকটকালে আর যুক্তরাষ্ট্রের দিকে তাকানোটাকে প্রথম পছন্দ বলে মনে করেন না। একই সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কর্তৃত্ববাদী শাসকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার বদলে বিশ্বকে স্থিতিশীল রাখতে সচেষ্ট থাকার মতো যেসব প্রত্যাশা ওয়াশিংটনকে ঘিরে থাকে, তাতেও বড় ধরনের পরিবর্তন হয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ওভাল অফিস থেকে চলে গেলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্তরাষ্ট্র এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠবে এমন নয়। নির্বাচনের পর ট্রাম্পের স্থলাভিষিক্ত যিনিই হবেন, তাঁকেও এসব সমস্যা মোকাবিলা করতে হবে। ডোনাল্ড ট্রাম্প যে আস্থাহীনতার স্তরে যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে গেছেন, তা থেকে রাতারাতি উত্তরণ হবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা

মুশকিল হলো, ডোনাল্ড ট্রাম্প ওভাল অফিস থেকে চলে গেলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্তরাষ্ট্র এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠবে এমন নয়। নির্বাচনের পর ট্রাম্পের স্থলাভিষিক্ত যিনিই হবেন, তাঁকেও এসব সমস্যা মোকাবিলা করতে হবে। ডোনাল্ড ট্রাম্প যে আস্থাহীনতার স্তরে যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে গেছেন, তা থেকে রাতারাতি উত্তরণ হবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কূটনীতি বিষয়ক গবেষক জেনিফার ক্যাসিডি সিএনএনকে বলেন, ‘তাঁর (ডোনাল্ড ট্রাম্পের) আচরণের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে শত্রু-মিত্র উভয়ের প্রত্যাশার মানদণ্ডটিই পাল্টে গেছে। যেমন, ইরান এখন বলতেই পারে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তারা আর কোনো দিন আলোচনায় বসবে না। তাঁদের এই কথাকে গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ তারা এখন বিশ্বাসযোগ্যভাবেই বলতে পারে যে, আবার যদি ট্রাম্পের মতো কেউ আসেন ক্ষমতায়, তবে সব আলোচনা ও চুক্তিকেই তিনি আবার ভাগাড়ে ছুড়ে ফেলতে পারেন।’

হ্যাঁ, এবারের নির্বাচনে যদি ট্রাম্প বিজয়ী না হন। আগামী জানুয়ারিতে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে যদি জো বাইডেন শপথ নেন, তবে হয়তো তিনি প্রথম দিন থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্ক নবায়নের উদ্যোগ নেবেন। কিন্তু তাঁর এই চেষ্টার মধ্যেই, তা যত আন্তরিকই হোক না কেন, সারা বিশ্বের সামনে নজির হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকবেন ট্রাম্প। বিশ্বের সামনে একটি সত্যই থাকবে—ট্রাম্পের মতো ব্যক্তি একবার যেহেতু যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হয়েছেন, ভবিষ্যতেও এমন প্রেসিডেন্ট আসতে পারেন। আর এটি যে শঙ্কা তৈরি করবে, তা হবে ভয়াবহ। কারণ, পরবর্তী ট্রাম্প সংস্করণ আরও নবীন ও আরও বুদ্ধিমান হতে পারেন। আর তেমনটি হলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর বিশ্বের যে আপাত স্থিতিশীল কাঠামো সেটিও আর অবশিষ্ট থাকবে না হয়তো। এই অবিশ্বাস ডিঙিয়ে বাইডেনের পক্ষে শেষ পর্যন্ত কতটা করা সম্ভব—তা এক বড় প্রশ্ন। শুধু বাইডেন কেন, পরবর্তী বেশ কয়েকজন মার্কিন প্রেসিডেন্টকে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

মন্তব্য পড়ুন 0