default-image

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের রাজ্যসভা রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত। সম্প্রতি রাজ্য আইনসভায় এসবি ২০২ নামের একটি আইন পাস হয়েছে। এ আইনে বেশ কিছু নিয়ন্ত্রণমূলক বিধিনিষেধ রয়েছে। আইনটির প্রতিবাদে সর্বত্র উদারনৈতিকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠান এই আইনের বিরোধিতা করেছে, তাদের বয়কট করার আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বলা হয় জর্জিয়ার নির্বাচনের ফলাফলেই যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্র ক্ষমতা নির্ধারিত হয়েছে। এক সময়ের রিপাবলিকান রাজ্য হিসেবে পরিচিত এ রাজ্যে ডেমোক্র্যাটদের উত্থান রক্ষণশীলদের চিন্তায় ফেলে দিয়েছে।

জানা গেছে, ভোটার তালিকাভুক্তির সময় দেওয়া স্বাক্ষরের সঙ্গে মিলে গেলেই ডাকযোগে ব্যালট পাঠানোর আগের বিধি নতুন আইনে বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। নতুন আইনে অ্যাবসেন্টি (অনুপস্থিত) ব্যালটের জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স, সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর এবং ভোট গ্রহণের সময় সকাল সাতটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
default-image

উদারনৈতিক মহলের মতে, জর্জিয়ার রক্ষণশীলরা এমনভাবে এ আইন প্রণয়ন করেছেন, যাতে সংখ্যালঘু ভোটাররা সহজে ভোট প্রদান না করতে পারেন। কৃষ্ণাঙ্গ ও অভিবাসীদের ব্যাপক ভোট প্রদান রোধ করতে পারলে রিপাবলিকানদের লাভ, এমন চিন্তা থেকেই এ নতুন আইনটি পাস করা হয়েছে বলে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

জর্জিয়ার এ নির্বাচনী আইন পরিবর্তনের বিতর্ক এখন দেশের সর্বত্র। বড় বড় করপোরেশন থেকে শুরু করে, খেলাধুলা, রাজনীতির ঘটক, অনুঘটক—সবাই এ বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। বড় বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে জর্জিয়ার এ বৈষম্যমূলক আইনের বিরোধিতা করার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্রীড়াক্ষেত্রে বড় প্রতিষ্ঠান মেজর লিগ বেসবল (এমএলবি) জর্জিয়ার এ আইন প্রণয়নের প্রতিবাদে জানিয়েছে। তারা ২০২১ সালের ‘অল স্টার গেম’ জর্জিয়ায় না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জর্জিয়ার নির্বাচনী আইনের বিরোধিতাকারীদের বিপক্ষে সরাসরি দাঁড়িয়ে গেছেন। যেসব বড় বড় মার্কিন প্রতিষ্ঠান বিরোধিতাকারীদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে, তাদের বয়কটের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জর্জিয়ার নির্বাচনী আইনের বিরোধিতাকারীদের বিপক্ষে সরাসরি দাঁড়িয়ে গেছেন। যেসব বড় বড় মার্কিন প্রতিষ্ঠান বিরোধিতাকারীদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে, তাদের বয়কটের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি

৩ এপ্রিল এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেছেন, উদারনৈতিক নৈরাজ্যবাদীরা দেশটাকে ধ্বংস করে দিতে চাচ্ছে। এখন সময় এসেছে রিপাবলিকান ও রক্ষণশীলদের ঘুরে দাঁড়ানোর। আমরা এখনো অন্যদের চেয়ে সংখ্যায় অনেক বেশি। মেজর লীগ বেসবল, কোকা কোলা, ডেল্টা এয়ারলাইনস, জেপি মরগান চেজ, সিটি গ্রুপ, সিসকো, ইউপিএস এবং মার্কের মতো কোম্পানির নাম উল্লেখ করে ট্রাম্প রক্ষণশীলদের এসব প্রতিষ্ঠান বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ভাষায় বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে আত্মার প্রশান্তির লড়াইয়ের পরীক্ষা শুরু হয়ে গেছে। জর্জিয়ায় এমন আইন প্রবর্তনের মধ্য দিয়ে নির্দিষ্ট ভোটারদের আটকে দেওয়া গেলে অন্য রাজ্যেও একই প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলো আশঙ্কা করছে। ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে রিপাবলিকানরা এ কৌশলের পথে এখন থেকেই হাঁটতে শুরু করেছে।

জর্জিয়া রাজ্যে ভোট কৌশলে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেই কংগ্রেসের উভয় কক্ষে ২০২২ সালে রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠতা চলে আসতে পারে।

রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কের কেন্দ্র হয়ে ওঠা জর্জিয়া রাজ্যের সিনেটর হিসেবে দীর্ঘদিন থেকে দায়িত্ব পালন করা বাংলাদেশি আমেরিকান শেখ রহমান একজন ডেমোক্র্যাট। তাঁর বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম পলিটিকো বলছে, এসবি ২০২ আইনটি রিপাবলিকান দলের জন্য শাপে বর হতে পারে। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে জর্জিয়ায় বসবাসরত এশীয় আমেরিকান এবং প্যাসিফিক আইল্যান্ডার্সরা বসে থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন শেখ রহমান।

বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন