default-image

প্রেসিডেনশিয়াল বিতর্কের মঞ্চে নিয়মনীতি কঠোরভাবে মেনে চলার শর্ত আরোপের কথা বলা হচ্ছে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীদের প্রথম বিতর্ক নিয়ে নানামুখী আলোচনা শুরু হয়েছে। মঞ্চে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণহীন আচরণের কথাই আলোচিত হচ্ছে বেশি। নির্বাচনের আগে আর কোনো বিতর্কে ট্রাম্পের সঙ্গে মঞ্চে না যাওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বাইডেনকে। ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সঞ্চালক ব্যর্থ হয়েছেন বিতর্কের সাধারণ নিয়মনীতি রক্ষা করতে। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের আগে আরও দুই দফা বিতর্ক হওয়ার কথা ট্রাম্প ও বাইডেনের।

গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত প্রেসিডেনশিয়াল বিতর্কে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঞ্চালকের ওপর হামলে পড়া, নির্ধারিত সময়ের বাইরে কথা বলা ও বাইডেনের বক্তব্যকে বারবার বাধাগ্রস্ত করা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। মায়ামি ও ন্যাশভিলে অনুষ্ঠেয় পরের দুটি বিতর্কে নামার আগে প্রচার শিবির থেকে সাবধানতা অবলম্বনের আভাস দেওয়া হয়েছে। কেউ কেউ বিতর্কের নামে বিশৃঙ্খলা এড়াতে ট্রাম্পের সঙ্গে একই মঞ্চে আর না যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বাইডেনকে।

প্রথম বিতর্কের বিশৃঙ্খলার অভিজ্ঞতা কোনো পক্ষের জন্যই স্বস্তির নয়। ডেমোক্র্যাট সমর্থকেরা মনে করছেন, জনমত জরিপে এমনিতেই এগিয়ে রয়েছেন জো বাইডেন। এ অবস্থায় যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে তাঁর আর কোনো ঝামেলায় যাওয়ার দরকার নেই। বাইডেনের প্রচার দলের উপব্যবস্থাপক কেট বেডিংফিল্ড বলেছেন, বিতর্ক কমিশনের সঙ্গে তাঁদের কথা চলছে। সামনের বিতর্কের জন্য কমিশনের সঙ্গে নানা বিষয়ে কথা শুরু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বিতর্কের উদ্দেশ্য জনগণের কাছে নির্বাচনের বার্তা পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতের বিতর্ক এ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। আগামী বিতর্কগুলোতে নিয়মনীতির কিছু পরিবর্তন নিয়ে ডেমোক্র্যাট শিবির থেকে কথা বলা হচ্ছে। সঞ্চালক নিজে বিতর্কে জড়িয়ে না পড়াসহ মাইক্রোফোন বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টিও আলোচিত হচ্ছে।
ক্রিস কুনস, ডেলাওয়ার অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্রেটিক সিনেটর

বাইডেনের সমর্থক সিনেটর ক্রিস কুনস বলেছেন, বিতর্কের উদ্দেশ্য জনগণের কাছে নির্বাচনের বার্তা পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতের বিতর্ক এ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। আগামী বিতর্কগুলোতে নিয়মনীতির কিছু পরিবর্তন নিয়ে ডেমোক্র্যাট শিবির থেকে কথা বলা হচ্ছে। সঞ্চালক নিজে বিতর্কে জড়িয়ে না পড়াসহ মাইক্রোফোন বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টিও আলোচিত হচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উগ্র সমর্থকেরা অবশ্য মনে করেন, তিনি খুব ভালো করেছেন বিতর্কে। ট্রাম্পের এমন আগ্রাসী মনোভাবই মানায়। যদিও বহু রিপাবলিকান সমর্থক বিতর্ক মঞ্চে ট্রাম্পের এমন অগোছালো আচরণ পছন্দ করেননি। তাঁদের মতে, এখনো মনস্থির না করা ভোটারদের কাছে ট্রাম্প এমন আচরণের মাধ্যমে পৌঁছাতে পারবেন না।

জর্জ বুশের সময় হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা ছিলেন স্কট জেনিংস। প্রেসিডেনশিয়াল বিতর্ক সম্পর্কে তিনি বলেন, ট্রাম্প নিজেকে আক্রমণাত্মক রাখতে গিয়ে বেপরোয়া হয়েছেন। বিতর্কের মাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্প জনসমর্থনের ক্ষেত্রে কী অর্জন করেছেন, তা ৩ নভেম্বর দেখা যাবে। স্কট মনে করেন, ‘ট্রাম্পের উদ্দেশ্য যদি হয়—আরও কিছু নারী ভোট হারানো, তবে তা তিনি অর্জন করেছেন।

একই মত দিয়েছেন নিউজার্সির সাবেক গভর্নর ক্রিস ক্রিস্টিও। বিতর্কে ট্রাম্প ‘অতিমাত্রায় আক্রমণাত্মক’ হয়ে উঠেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

বাইডেনের প্রচার শিবির ও ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ট্রাম্পকে ক্ষুব্ধ ও ক্লান্ত মনে হয়েছে। জনমত জরিপে ট্রাম্প এমনিতেই হারছেন বলে দেখা যাচ্ছে। কিন্তু মঙ্গলবার রাতে (বিতর্কে) ট্রাম্প তাঁর মেজাজটাও হারিয়েছেন।

বিতর্ক নিয়ে নানামুখী আলোচনায় বসে থাকার সময় নেই কোনো প্রার্থীরই। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ৩০ সেপ্টেম্বরই যাচ্ছেন মিনিয়াপোলিসের এক প্রান্তিক নগরীতে। সেখানে তাঁর যুক্তরাষ্ট্রকে আবার মহান করার (মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন) জন্য একটি সমাবেশ করার কর্মসূচি রয়েছে। মার্চ মাস থেকে এ নিয়ে তিনবার ট্রাম্প মিনিয়াপোলিস সফর করছেন। ঐতিহাসিকভাবে মিনিয়াপোলিস ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে সব সময় থাকলেও ২০১৬ সালে হিলারি অল্প ভোটে সেখানে জয়ী হন। ডেমোক্র্যাটদের হাত থেকে এবার অঙ্গরাজ্যটি ছিনিয়ে আনার চেষ্টা করছে ট্রাম্প শিবির।

এদিকে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন তাঁর স্ত্রী জিল বাইডেনকে নিয়ে ট্রেন যাত্রা শুরু করেছেন। ওহাইও থেকে পেনসিলভানিয়া পর্যন্ত এ ট্রেনযাত্রা। অন্তত চারটি পৃথক সমাবেশে তাঁর বক্তৃতা করার কথা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন