বিচ্ছেদ নয়, ভালোবাসাই টানছে তাঁদের

বিজ্ঞাপন
default-image

তাঁদের অনেকের হয়তো বেড়ে ওঠা ভেঙে যাওয়া পরিবারে। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের মধ্য দিয়ে তাঁদের বড় হতে হয়েছে। বন্ধুদেরও হয়তো একই পরিস্থিতির মধ্যে বড় হতে দেখেছেন। এরপরও খুব আশ্চর্যজনকভাবে এই প্রজন্মের মার্কিন তরুণ দম্পতিদের মধ্যে বিয়ে টিকিয়ে রাখার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। অর্থনৈতিক বিষয়ে অনেক বেশি বাস্তবজ্ঞান, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আয়ের ক্ষেত্রে সমতা ও স্বকীয়তাকে গুরুত্ব দেওয়ার মানসিকতা এই মিলেনিয়াল (১৯৮১ থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্য যাঁদের জন্ম) দম্পতিদের মধ্যে বিয়ে টিকিয়ে রাখার আগ্রহ তৈরি করেছে। এ কারণে বিচ্ছেদের চেয়ে ভালোবাসার টানটাকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন তাঁরা। এই দম্পতিদের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ ১৮ শতাংশ কমেছে।

বিবিসি অনলাইনের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে এখন মিলেনিয়াল একজন বিবাহিত হলে তাঁকে অভিনন্দন জানানোই যেতে পারে, বাবা-মায়ের চেয়েও তাঁদের বিয়ের স্থায়িত্ব বেশি হওয়ার সুযোগ রয়েছে। মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রে ২০০৮ ও ২০১৬ সালের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদের হার ১৮ শতাংশ কমেছে। ১৯৮০ ও নব্বই দশকের মধ্যবর্তী সময়ে জন্ম নেওয়া তরুণ-তরুণীদের মধ্যে তাঁদের বাবা–মায়ের চেয়ে বিবাহবিচ্ছেদের প্রবণতা কম। গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিবাহবিচ্ছেদের জন্য আইনি বিষয়টি আরও সহজ হওয়ার পরও বিয়ে আগের চেয়ে বেশি নির্বাচিত ও স্থিতিশীল হচ্ছে। দাদা-দাদির চেয়ে তাঁদের বিয়ে করার হার তিন গুণ কমলেও যাঁরা বিয়ের গাঁটছড়া বাঁধছেন, তাঁরা সহজে একে অন্যকে ছেড়ে যাচ্ছেন না। বাবা-মায়ের চেয়েও তাঁদের মধ্যে বিয়ে টিকিয়ে রাখার প্রবণতা বেশি।

default-image

বিবিসির প্রতিবেদনে মেহমেত আলপাস্লান (৩১) ও জ্যাকুলিন (৩৩) দম্পতির কথা তুলে ধরে বলা হয়, ২০১৩ সালে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তিন বছর একসঙ্গে বসবাসের পর দুই বছর আগে তাঁরা বিয়ে করেন। যুক্তরাষ্ট্রের সমাজে এখনো ধর্ম ও সামাজিক রীতি মেনে বিয়ে করাকেই উৎসাহিত করা হয়, বিয়ে ছাড়া একসঙ্গে কোনো দম্পতিকে বসবাস করতে দেখলে অনেকেই চোখ কপালে তোলেন। নানা কিছু মিলিয়ে বিশেষ করে অর্থনৈতিক বিষয়টির কথা ভেবে অন্যান্য বৈষয়িক মিলেনিয়াল দম্পতির মতোই মেহমেত ও জ্যাকুলিন বিয়ের চিন্তাভাবনা শুরু করেন। এ প্রসঙ্গে মেহমেত বললেন, ‘আমরা অনেক ভালো বন্ধু ছিলাম। বাকি জীবন একসঙ্গে দুজনে বন্ধু হয়েই কাটাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমরা হঠাৎ খেয়াল করলাম, বিয়ে করলে আইনি সুবিধা অনেক বেশি। বিবাহিত দম্পতিরা বিমা, কর ইত্যাদি ক্ষেত্রে বেশ কিছু সুবিধা পায়। তাই আমরা বিয়ের সিদ্ধান্ত নিলাম।’

৩০ বছরের তরুণী জেনি চ্যানের সঙ্গে জ্যাক গ্রিনের পরিচয় হয় ২০১৩ সালে। জেনি বলেন, সঙ্গী নির্বাচনে যাঁকে আমি শ্রদ্ধা করতে পারি এবং তাঁর কাছ থেকে শ্রদ্ধা পেতে পারি—এমন একজন মানুষকে খুঁজে পাওয়া আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

প্রযুক্তির প্রসার তরুণদের জন্য সঙ্গী নির্বাচনের ব্যাপক ক্ষেত্র তৈরি করেছে। জেনির ভাষায়, ডেটিং অ্যাপগুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের বিভিন্ন ব্যক্তিত্বের মানুষের দেখা পাওয়া যায়। এখন অনেকে দেরিতে বিয়ে করেন। সে ক্ষেত্রে যে বিয়েগুলো টেকে না সেগুলো থেকে শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ পান তাঁরা।

কোনো কোনো দম্পতির মতে, বিয়ে বিষয়টি সবার সামনে করা অঙ্গীকার হয়ে দাঁড়ায়। এর মানে এই নয় যে বিয়েটা টিকবেই। তবে টেকানোর চেষ্টা করতে অঙ্গীকার তো করা হলো। ওই দম্পতিরা মনে করেন, বিয়ের সম্পর্কে শ্রদ্ধার বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একজনের অনুভূতি, আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্নকে যতটা পারা যায় নিজের বলে ভাবতে হবে। কখনোই কোনো ছোট জিনিসকে ঝগড়া করে বড় হতে দেওয়া যাবে না।

default-image

ব্রিটিশ নাগরিক নাতালে (২৯) ও মার্কিন নাগরিক কুইন্সি সিলের (৩২) পরিচয় হয় সাত বছর আগে স্কটল্যান্ডের রাজধানী এডিনবরায়। ২০১৬ সালে বিয়ের আগে একসঙ্গে তাঁরা বসবাস করেননি। খ্রিষ্টধর্মে বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিক বোধ থেকে তাঁরা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। এখন তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে একটি ছোট ব্যবসা করছেন।

বিয়ের প্রতি সমর্থন জানিয়ে নাতালে বলেন, খ্রিষ্টান বিয়ের এই বিষয় নিয়ে অনেকের খারাপ ধারণা আছে। কিন্তু যখন বিয়েকে আক্ষরিক অর্থে ‘চুক্তি’ বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে, নতুন করে শুরু, নতুন প্রতিজ্ঞা, একটি নতুন পরিবার যেখানে অন্য লোকজন যোগ দেবে বলা হচ্ছে, সেখানে বিয়ের অর্থ অনেক গভীর হয়ে দাঁড়ায়।

নাতালে ও কুইন্সি মনে করেন, তাঁদের স্বাধীনতা ও জীবন সম্পর্কে অভিজ্ঞতা তাঁদের দুজনের সম্পর্ককে তাঁদের বাবা-মায়ের প্রজন্ম থেকে আলাদা করেছে। নাতালের মতে, বিয়েটা তখনই আরও শক্তিশালী হবে, যখন একজন অপরজনের স্বাতন্ত্র্য বোধকে প্রাধান্য দেবেন, একে অপরকে আগের মতোই ভালোবাসবেন এবং তাঁদের এখনো যেসব প্রত্যাশা রয়েছে, সেসব পূরণে একে অপরের পাশে থাকবেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন