default-image

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, শিগগির তিনি নতুন বিচারপতির মনোনয়ন ঘোষণা দেবেন। আর ডেমোক্রেটিক দল বলেছে, এমন করা হলে রাজনৈতিকভাবে প্রতিশোধ নেওয়া হবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে সব রাজনৈতিক ইস্যুকে ছাপিয়ে এখন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তুঙ্গে।

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি রুথ বডার গিন্সবার্গ ৮৭ বছর বয়সে ১৮ সেপ্টেম্বর মারা গেছেন। তাঁর মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রাজনৈতিক লড়াই শুরু হয়ে গেছে। ১৯ সেপ্টেম্বর নর্থ ক্যারোলাইনার এক নির্বাচনী প্রচার সভায় দেওয়া বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, তিনি শিগগির একজন নারী বিচারপতিকে মনোনয়ন দেবেন। তবে তাঁর নাম উল্লেখ না করে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি খুবই বুদ্ধিমান, খুবই প্রতিভাবান হবেন। পুরুষদের চেয়ে তিনি নারীদের বেশি ভালোবাসেন বলে উল্লেখ করেছেন।

default-image

সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুযোগে নির্বাচনের আগেই নতুন বিচারপতি নিয়োগ করলে পরিণতি ভয়াবহ হবে বলে হুমকি দিয়েছেন ডেমোক্রেটিক দলের নেতারা। সিনেটে ডেমোক্রেটিক দলের নেতা চার্লস শুমার ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে ডেমোক্রেটিক ককাসের ভার্চ্যুয়াল সভায় বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সব মূল্যবোধ আজ ঝুঁকির মুখে। আসছে জানুয়ারির আগে নতুন বিচারপতি মনোনয়নে রিপাবলিকানরা উদ্যোগ নিলে সম্ভাব্য প্রতিশোধের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

বিজ্ঞাপন
default-image

সিনেটর চার্লস শুমার সতর্ক করে বলেছেন, নতুন বিচারপতি নিয়োগ সমাজের অনেক কিছুর ওপর প্রভাব ফেলবে। প্রজনন অধিকার, বৈষম্য প্রতিরোধ, অপরাধ, বিচারব্যবস্থার ভবিষ্যৎ, প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা, অভিবাসীদের অধিকার, কর আইন, নাগরিক আইন ও স্বাস্থ্যসেবাসহ নানা বিষয়ে এর প্রভাবের কথা তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।

যুক্তরাষ্ট্রের গত ৫০ বছরের মধ্যে এই প্রথম মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে রক্ষণশীলদের নিশ্ছিদ্র সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। রুথ গিন্সবার্গের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে স্বল্প বয়সের কোনো রক্ষণশীল বিচারকের অভিষেক ঘটতে পারে। এ মুহূর্তে যারা আলোচনায় এগিয়ে আছেন, তাঁদের বয়স ৫৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে।

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি আমৃত্যু দায়িত্ব পালন করতে পারেন। শারীরিক অবস্থার কারণে বা অন্য কোনো কারণে নিজে থেকে সরে না দাঁড়ালে তাঁদের অপসারণ করা প্রায় অসম্ভব। মার্কিন শাসনতন্ত্রের অন্যতম রক্ষাকবচ সুপ্রিম কোর্টের নয়জন বিচারপতি। বিচারপতি নিয়োগের জন্য সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠতার অনুমোদন লাগে। সব রিপাবলিকানদের ভোট প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে পারলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বা রিপাবলিকান দলের বিচারপতি নিয়োগের উদ্যোগ ডেমোক্র্যাটরা থামাতে পারবেন না। যদিও অন্তত দুজন রিপাবলিকান সিনেটর এর মধ্যে জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা তাড়াহুড়ার পক্ষে নেই। আবার ডেমোক্রেটিক দলের কোনো সিনেটরও ট্রাম্পের বিচারপতি মনোনয়নের পক্ষে ভোট দিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে দলীয় কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। সিনেটররা নিজেদের স্বাধীন চিন্তায় সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি আমৃত্যু দায়িত্ব পালন করতে পারেন। শারীরিক অবস্থার কারণে বা অন্য কোনো কারণে নিজে থেকে সরে না দাঁড়ালে তাঁদের অপসারণ করা প্রায় অসম্ভব
বিজ্ঞাপন
default-image

ডেমোক্রেটিক সিনেটর অ্যাড মারকেই বলেছেন, যদি রিপাবলিকান দল এখনই বিচারপতি নিয়োগ নিয়ে এগিয়ে যায়, তাহলে তাদের মোকাবিলা করা হবে। যদি প্রেসিডেন্ট হিসেবে জো বাইডেন নির্বাচিত হন, যদি সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় তখন পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। সে ক্ষেত্রে যেকোনো বিচারপতির বিরুদ্ধে অভিশংসনের প্রস্তাব আনা হতে পারে। এমন প্রক্রিয়ায় সুপ্রিম কোর্টের কোনো বিচারপতিকে অপসারণের জন্য সিনেটরদের সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় হবে না। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাগবে। এ ব্যবস্থায় এগিয়ে যাওয়ার জন্য কংগ্রেসে ফিলাবাস্টার (ধারাবাহিক বক্তৃতার মাধ্যমে আইন প্রস্তাব ঠেকিয়ে দেওয়ার আইন) বিধানটি বাতিল করতে হবে। প্রয়োজনে ফিলাবাস্টার বিধানটি বাতিল করা হবে বলে সিনেটর মারকেই বলেছেন।

সিনেট জুডিশিয়ারি কমিটিতে সর্বমোট ১০ জন ডেমোক্রেটিক সিনেটর আছেন। সবাই কমিটির চেয়ারম্যান রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের কাছে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট শপথ নেওয়ার আগ পর্যন্ত কোনো নতুন বিচারপতি নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু না করার আহ্বান জানিয়েছেন। ডেমোক্রেটিক দলের পক্ষ থেকে প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতির সংখ্যা বৃদ্ধির আইন প্রণয়নের কথাও বলা হচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বা সিনেট রিপাবলিকানদের পক্ষ থেকে ডেমোক্র্যাটদের এমন আহ্বানকে কোনো পাত্তাই দেওয়া হচ্ছে না। মার্কিন সংবাদমাধ্যমে বলা হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট দুই একদিনের মধ্যেই নাম ঘোষণা করতে পারেন। সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা রিপাবলিকান মিচ ম্যাককনেল বলেছেন, প্রেসিডেন্টের মনোনয়নের পক্ষে নির্বাচনের আগেই সিনেটে ভোট সম্ভব।

যদি রিপাবলিকান দল এখনই বিচারপতি নিয়োগ নিয়ে এগিয়ে যায়, তাহলে তাদের মোকাবিলা করা হবে
ডেমোক্রেটিক সিনেটর অ্যাড মারকেই
বিজ্ঞাপন
default-image

ডেমোক্রেটিক দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেন বলেছেন, নির্বাচনের আগে কোনো মনোনয়ন দেওয়া যাবে না। ১৮ সেপ্টেম্বর রাতেই জো বাইডেন বলেছেন, পরিষ্কার করে বলতে চাই, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ যখন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সম্পন্ন করবে, তখনই প্রেসিডেন্ট বিচারপতি মনোনয়ন দেবেন।

নির্বাচনী বিতর্কে অন্যান্য ইস্যুগুলো এখন আর শীর্ষে নেই। যুক্তরাষ্ট্রে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন রক্ষণশীলতা উসকে উঠেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ রক্ষণশীলতাকে উসকে দিয়েই ক্ষমতায় থাকতে চান। বিচারপতি রুথ গিন্সবার্গের মৃত্যু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে আরেকটি সুযোগ অবারিত করেছে। মনোনয়নের জন্য নাম ঘোষণা করবেন তিনি। আর ডেমোক্রেটিক দল এর তীব্র বিরোধিতা করবে। রক্ষণশীলরা মনে করে, ট্রাম্প জয়ী না হলে তাঁদের ৫০ বছরের মধ্যে পাওয়া এ সুযোগটা হাতছাড়া হয়ে যাবে। এ কারণে ট্রাম্পের জন্য তাঁরা আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভোটকেন্দ্রে যাবে।

পরিষ্কার করে বলতে চাই, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ যখন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সম্পন্ন করবে, তখনই প্রেসিডেন্ট বিচারপতি মনোনয়ন দেবেন
জো বাইডেন

উদারনৈতিক ও ডেমোক্র্যাটরাও বসে থাকবে না। রাজনীতির চাল সব সময় সরলরেখায় যায় না। তবে বিচারপতি নিয়োগের এ বিতর্ক শুধু নির্বাচন পর্যন্তই নয়, আরও প্রলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নির্বাচনেও এর প্রভাব কোনো পক্ষই এড়িয়ে যেতে পারবে না। যেকোনো এক পক্ষকে মূল্য দিতে হবে এবং এর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়বে মার্কিন সমাজে।

মন্তব্য পড়ুন 0