বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

ভিডিওতে পুলিশকে সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়তে দেখা যায়। একই সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের এলাকা ছেড়ে যাওয়ার কথা বলা হয় বারবার। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা সেই ডাকে সাড়া দেননি। বরং রাস্তায় আগুন জ্বেলে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন তাঁরা।

পোর্টল্যান্ডে বর্ণবাদী বৈষম্যের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলছে তিন মাসের বেশি সময় ধরে। এই বিক্ষোভ পরে সহিংসতায় রূপ নেয়, যা সময়ের সঙ্গে শুধু বাড়ছে। বিক্ষোভকারী ও ট্রাম্প-সমর্থকদের মধ্যে যেমন সংঘর্ষ হচ্ছে, তেমনি পুলিশের সঙ্গেও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হচ্ছে।

এই সহিংসতার ধারাবাহিকতাতেই গতকালের ঘটনাটি ঘটে। জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানালেও ঠিক কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তার কোনো সুস্পষ্ট সংখ্যা জানানো হয়নি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিক্ষোভকারীদের ছোড়া একটি হাতবোমা থেকে একজন সাধারণ মানুষের গায়ে আগুন ধরে যায়। গতকালের সহিংসতায় আহত এক ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিক স্বাস্থ্যসেবা দেন সেখানে উপস্থিত এক স্বাস্থ্যকর্মী। পরে তাঁকে নিকটস্থ এক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

আজ রোববার পোর্টল্যান্ড পুলিশের দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, এটা দাঙ্গা। জননিরাপত্তার জন্য এক ভয়াবহ বিপদ ডেকে এনেছে এ ধরনের অপরাধকর্ম। এ বিপদ কমিউনিটির সবার।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হাতবোমায় এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আরও কয়েকজন বিক্ষোভকারীদের ছোড়া ইট-পাথরে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত পেয়েছেন।

default-image

শনিবারের পরিস্থিতির বিষয়ে স্থানীয় পুলিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছে, শুরুতে কয়েক শ লোক ছিল। কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।

পুলিশের বরাত দিয়ে এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে অবশ্য অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের তথ্য দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দুজনের পরনে বর্ম-জাতীয় পোশাক ছিল আর একজনের কাছে ছিল ধারালো ছুরি। তবে কাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বা তাদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।

এদিকে রচেস্টার পুলিশ জানিয়েছে, একই দিনে সশস্ত্র পুলিশ ও বর্ণবাদ-বিরোধী বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে লুইসভিলেও। কেনটাকি ডার্বি শুরুর কিছু আগে এ সংঘর্ষ হয়।

গত মে মাসে পুলিশের নির্যাতনে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বর্ণবাদ-বিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে গত মাসে লুইজিয়ানায় আরেক কৃষ্ণাঙ্গ পুলিশের গুলিতে মারা গেলে বিক্ষোভ নতুন মাত্রা পায়। কাছাকাছি সময়ে উইসকনসিনে জ্যাকব ব্লেক নামের আরেক কৃষ্ণাঙ্গকে বিনা কারণে গুলি করে পুলিশ। একের পর এক ঘটনায় বিক্ষোভের আগুন আরও জোর পায়। এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার বদলে নানা বক্তব্যের মাধ্যমে উসকে দিচ্ছেন। তিন মাসের বেশি পেরিয়ে গেলেও সে বিক্ষোভ এখনো থামছে না।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন