বাইডেন-কামালায় আশা দেখছে ডেমোক্র্যাটরা

বিজ্ঞাপন
default-image

আমেরিকার রাজনৈতিক অঙ্গনে কামালা হ্যারিস এই মুহূর্তে সবচেয়ে আলোচিত নাম। ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জো বাইডেন তাঁকে রানিংমেট ঘোষণা করার পর থেকে তাঁকে কেন্দ্র করেই সব আলোচনা চলছে। এর প্রথম কারণটি নিঃসন্দেহে তাঁর নারী ও অশ্বেতাঙ্গ পরিচয়। দ্বিতীয় কারণটি তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও বক্তব্য উপস্থাপনের চাতুর্য। নড়েচড়ে বসেছে রিপাবলিকান শিবিরও। কারণ ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদকালে যে কয়েকজন ডেমোক্র্যাট সিনেটর ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে উচ্চকণ্ঠ ছিলেন, তার মধ্যে কামালা হ্যারিস অন্যতম।

কামালা হ্যারিস ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হলে আমেরিকার নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হবে-এ কথাও উভয়ের বক্তৃতায় উঠে আসে। নির্বাচিত হলে

প্রথম কোনো নারী আমেরিকার দ্বিতীয় শীর্ষ পদে যাবেন। কামালা হ্যারিস হবেন আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে প্রথম কোনো অশ্বেতাঙ্গ নারী।

রানিংমেট হিসেবে নাম ঘোষণার পর ১২ আগস্ট প্রথমবারের মতো জো বাইডেনের সঙ্গে মঞ্চে দাঁড়ান কামালা হ্যারিস। প্রাথমিক তালিকা থেকে শেষ পর্যন্ত তাঁকে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে বেছে নেওয়ার কারণ বহুবিধ। এর মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কামালা হ্যারিসের সরাসরি দ্বৈরথ যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দীর্ঘ দিন কাজ করার অভিজ্ঞতা। সিনেট তদন্ত কমিটির একজন সদস্য হওয়ায় হোয়াইট হাউসের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও ট্রাম্পের জন্য ক্ষতিকর নথিও রয়েছে কামালা হ্যারিসের হাতে। আসন্ন নির্বাচন এবং তার আগের বিভিন্ন প্রচারকাজে এসব তথ্য বিশেষভাবে কাজে লাগবে সন্দেহ নেই। সঙ্গে ঝানু আইনজীবী হিসেবে বক্তব্য উপস্থাপন ও ঠান্ডা মাথায় প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা করার কৌশলও তাঁর রপ্ত।

প্রথম দিন বাইডেনের সঙ্গে মঞ্চে উঠেই কামালা তাঁকে রানিংমেট করার কারণটি স্পষ্ট করলেন। মঞ্চে কামালা হ্যারিস শুরুর দিনই ট্রাম্পকে এক হাত নেন। তিনি বলেন, ‘বৈশ্বিক মহামারিকালে প্রেসিডেন্টের অব্যবস্থাপনার জন্য আজ আমরা মহামন্দার পর সবচেয়ে বাজে অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি। বর্ণবৈষম্য ও কাঠামোগত অবিচারের সংস্কৃতি গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে নৈতিক অধঃপতন ঘটানো হয়েছে। আর এটিই রাজপথে নামতে বাধ্য করেছে সচেতন অংশকে, যারা পরিবর্তন চায়। আমেরিকা নেতৃত্বের জন্য উদ্গ্রীব হয়ে আছে। আমাদের একজন প্রেসিডেন্ট থাকলেও তিনি জনগণের চেয়ে তাঁকে নির্বাচিত করার দিকেই বেশি মনোযোগী।’

ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে মঞ্চে প্রথম হাজির হয়েই কামালা হ্যারিস নিজের রাজনৈতিক চাতুর্যের পরিচয় দিয়েছেন, যা ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মাইক পেন্সের শঙ্কিত হওয়ার জন্য যথেষ্ট। মহামারিকালে সাধারণ গড়পড়তা আমেরিকানদের লড়াইয়ের জায়গাটা সম্পর্কে কামালা অনেক বেশি ওয়াকিবহাল। ফলে তাঁর পক্ষে দৃঢ়ভাবে ট্রাম্প প্রশাসনের ভাষ্যকে মোকাবিলা করা সম্ভব। ওই দিনের বক্তব্যেই তিনি মহামারি মোকাবিলায় ট্রাম্পের ব্যর্থতার কথা সবিস্তারে তুলে ধরেন। চলমান অর্থনৈতিক মন্দা ও লাখো আমেরিকানের মৃত্যুর জন্য সরাসরি তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘দায়িত্বজ্ঞানহীনতাকে’ দায়ী করেন। তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প সঠিক সিদ্ধান্ত নিলে করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব ছিল। ট্রাম্পই দেশকে অর্থনৈতিক মহামন্দায় নিয়ে গেছেন। ট্রাম্প দেশকে বৈষম্যের দিকে ঠেলে দিয়েছেন। তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার উত্তরাধিকার পেয়েছিলেন। অন্য সবকিছুর মতোই এ অগ্রযাত্রাকে তিনি মাটিতে নামিয়ে দিয়েছেন।’

১২ আগস্ট ডেলাওয়ার অঙ্গরাজ্য থেকে জো বাইডেন ও কামালা হ্যারিসের এই বক্তব্য রেডিও-টিভিতে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়। রয়্যাল ব্লু স্যুট পরে ডেমোক্রেটিক দলের এই দুই প্রার্থী উইলমিংটন হাইস্কুলের জিমনেশিয়ামে উপস্থিত হন। দুজনই তাঁদের বক্তব্যে স্মরণ করেন জো বাইডেনের প্রয়াত ছেলে বিউ বাইডেনকে। জো বাইডেন ও কামালা হ্যারিসের মধ্যে পরিচয়ের সূত্র ছিলেন ২০১৫ সালে মাত্র ৪৫ বছর বয়সে ব্রেইন ক্যানসারে মারা যাওয়া বিউ বাইডেন।

ওই দিনের বক্তব্যে জো বাইডেন ও কামালা হ্যারিস প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিদ্বেষমূলক রাজনীতির তীব্র সমালোচনা করেন। কামালার প্রশংসা করে বাইডেন বলেন, ‘একজন জ্যামাইকান ও ভারতীয় অভিবাসীর সন্তান হিসেবে অনেক বৈরী পরিস্থিতি তাঁকে মোকাবিলা করতে হয়েছে। তিনি আমেরিকার অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যে বেড়ে উঠেছেন। কর্মজীবনে ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে অস্ত্র এবং জ্বালানি লবির সঙ্গে তাঁকে সংগ্রাম করতে হয়েছে। সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটিতে কাজ করার সুবাদে তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বহু অপনীতির জন্য প্রশাসনকে জবাবদিহিতে রাখার চেষ্টা করেছেন।’

এদিকে ৭৭ বছর বয়সী জো বাইডেন নির্বাচিত হলে আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি শপথ গ্রহণ করবেন। সে ক্ষেত্রে সিনেটর কামালা যে একজন অভিজ্ঞ এবং দক্ষ ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে শুরুর দিন থেকেই কাজ করতে পারবেন, সে বিষয়টি তাঁদের বক্তৃতায় উঠে আসে। জো বাইডেন বলেন, ‘কামালা জানেন কীভাবে প্রশাসন চালাতে হয়, কখন শক্ত অবস্থানে যেতে হয়। প্রথম দিন থেকেই তিনি কাজের উপযুক্ত।’

বাইডেনের সঙ্গে তাঁর যুগলবন্দী বিশেষভাবে ‘সুইং স্টেটগুলোতে’ সহায়ক হবে। অভিবাসী থেকে শুরু করে আমেরিকার পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে দলে ভেড়াতে তাঁর সংযুক্তি বাইডেনকে এগিয়ে রাখবে।

রানিংমেট হিসেবে কামালা হ্যারিসের নাম ঘোষণার পর উজ্জীবিত হয়েছে ডেমোক্র্যাট শিবিরও। জো বাইডেনের প্রচারশিবিরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে কামালার নাম আসার পর মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ঘোষণার পরের ২৪ ঘণ্টায় নির্বাচনী তহবিলে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ জমা পড়েছে।

আগামী সপ্তাহে ডেমোক্রেটিক দলের জাতীয় কনভেনশনে জো বাইডেন ও কামালা হ্যারিস দলের আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন গ্রহণ করবেন। করোনা মহামারির কারণে এবার কোনো দলই ব্যাপকভাবে জাতীয় কনভেনশন করতে পারছে না। অধিকাংশ সভা ও বক্তৃতা ভার্চ্যুয়াল হবে বলে জানানো হয়েছে। এ কনভেনশনে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও কামালা বক্তব্য দেবেন আসছে বুধবার। পরদিন বৃহস্পতিবার জো বাইডেনের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে কনভেনশন শেষ হবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন