default-image

যুক্তরাষ্ট্রে ৭ নভেম্বর শনিবার ভোর। নিউইয়র্কসহ অন্যান্য রাজ্যের মানুষ কেউ কেউ তখনো ঘুমে। অনেকের ঘুম ভাঙলেও চা বা কফিতে তখনো চুমুক দেননি। ঠিক তখনই চারিদিক থেকে খবর আসতে শুরু করল, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

নিউইয়র্ক থেকে মায়ামি, ইস্ট থেকে ডেনভার, অস্টিন থেকে ওয়েস্ট—সব জায়গায় উৎসবের জোয়ার বইয়ে দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সমর্থকেরা। এবার সেই উৎসবের জোয়ারে যোগ হয়েছেন বাংলাদেশি মার্কিনরাও।

বাইডেন সমর্থকদের স্লোগান শুনে মনে হচ্ছে, তাদের আনন্দ যতটা না নতুন প্রেসিডেন্ট পেয়ে, তার চেয়ে বেশি ট্রাম্পকে বিদায় করতে পেরে।

নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে কয়েক হাজার মানুষ করোনাভাইরাসের ঝুঁকি উপেক্ষা করে জড়ো হয়েছিলেন নিজ দলের প্রেসিডেন্টপ্রার্থীর বিজয় উদ্‌যাপন করতে। শুধু মার্কিন নয়, নতুন প্রেসিডেন্টকে বরণ করতে সেদিন যোগ দিয়েছিলেন কয়েক শ বাঙালি।

বাইডেনের পক্ষে বিজয়ী স্লোগানের পাশাপাশি হেইট ক্রাইম (বিদ্বেষপ্রসূত অপরাধ), ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার, ইমিগ্রান্টসহ নানা ইস্যুতে সমর্থকেরা স্লোগান দেয়। স্লোগানে মুখরিত টাইমস স্কয়ারে সবার একটাই প্রত্যাশা, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমান দুর্যোগ কাটিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়াবে।

এদিকে ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের সামনে শত শত মানুষ জড়ো হয়ে এভাবে সুর তোলেন, ‘নাহ নাহ নাহ নাহ, হে হে হে, শুভ বিদায়।’

বিজ্ঞাপন

বাইডেন সমর্থকদের বিজয় উদ্‌যাপনের কারণে হোয়াইট হাউস এলাকায় বেশ যানজটের ‍সৃষ্টি হয়। সাধারণ মানুষ গাড়ি থামিয়ে ওপরে উঠে গানের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বাদ্যযন্ত্র বাজাতে থাকেন।

এ সময় কয়েকজনের হাতে ‘দুঃস্বপ্ন শেষ হল’ লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। এর আগে বিভিন্ন স্থানে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ করেন ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান সমর্থকেরা।

ভোট গণনা বাতিলের দাবিতে অস্ত্র হাতে রাস্তায় দেখা যায় রিপাবলিকান প্রার্থী ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকদের।

মিশিগানের ডেট্রয়টে ট্রাম্প সমর্থকদের বিক্ষোভের কেন্দ্রস্থলের পাশেই বর্ণবাদবিরোধীরাও বিক্ষোভ করেছেন। তবে পুলিশি তৎপরতায় দুপক্ষের মধ্যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

ফিলাডেলফিয়া কনভেনশন সেন্টারের সামনে বাইডেনের জয় উদ্‌যাপনে অংশ নেন ৩৭ বছর বয়সী শিক্ষক সিন ত্রুপ্পো। সঙ্গে থাকা চার বছর বয়সী মেয়েকে দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প যখন ক্ষমতা নেন, তখন আমার এই মেয়ের জন্ম। তাকে এখানে এনেছি ট্রাম্পের বিদায়ের সাক্ষী করতে।

মন্তব্য পড়ুন 0