default-image

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আরও বেশি পরিমাণে সরাসরি প্রণোদনা চেক বিতরণের ওপর জোর দিচ্ছেন। কিন্তু এই চেক পাওয়ার যোগ্য কারা হবেন, তা নিয়ে এখন নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য হিল গতকাল সোমবার এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়, বাইডেন যে হারে সরাসরি প্রণোদনা চেক বিতরণ করতে চাইছেন, তাতে নতুন করে কিছু প্রশ্ন উঠেছে। মূল প্রশ্নটি হচ্ছে, আয়সীমা কত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে প্রণোদনা চেক পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচনা করা হবে। বহু রিপাবলিকান ও মধ্যপন্থী ডেমোক্র্যাট নেতা প্রশ্নটি সামনে নিয়ে এসেছেন। তাঁদের মতে, এভাবে সরাসরি প্রণোদনা চেক বিতরণের ক্ষেত্রে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে আগে শনাক্ত করা প্রয়োজন। যাদের এই চেকের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি, তাদের এটি দেওয়া উচিত। সে ক্ষেত্রে এই অর্থ তারা দ্রুত খরচ করবে, যা অর্থনীতিকে অনেক বেশি সচল করবে।

গত রোববার বাইডেনের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই বিতর্কটি উপস্থাপন করেন ১০ রিপাবলিকান সিনেটর। একই সঙ্গে তাঁরা নিজেদের একটি করোনাভাইরাস পুনরুদ্ধার প্রস্তাবও হাজির করেন। সেখানেই তাঁরা ‘সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন এমন পরিবারগুলোকে সরাসরি প্রণোদনা চেক’ দেওয়ার প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এ বিষয়ে বাইডেনের সঙ্গে তাঁদের দেখা করার কথা রয়েছে।

এদিকে প্রগতিশীল অংশটি মনে করছে, প্রণোদনা পাওয়ার যোগ্যতার মানদণ্ডটি সম্প্রসারণ করলে এর বিতরণ সহজ ও দ্রুত হবে। একই সঙ্গ এর মাধ্যমে যাদের আয় করোনার কারণে কমে গেছে, তাদের কাছেও সহায়তা পৌঁছে যাবে। জো বাইডেন অবশ্য আগেই ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন, তিনি সরাসরি প্রণোদনা চেক বিতরণের ক্ষেত্রে যোগ্য ব্যক্তির আয়সীমা কত হবে, তা নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত। গত সপ্তাহেই এ সম্পর্কিত এক বক্তব্যে তিনি এ ইঙ্গিত দেন। তাঁর প্রাথমিক প্রস্তাবে নতুন করে ১ হাজার ৪০০ ডলারের সরাসরি প্রণোদনা চেক কারা পাবেন, তার কোনো যোগ্যতার মানদণ্ড স্থির করা নেই।

বিজ্ঞাপন
default-image

এর আগে করোনাভাইরাসের জন্য নাগরিক প্রণোদনার অংশ হিসেবে দুটি প্যাকেজ গত বছর কংগ্রেসে অনুমোদন পায়। সেখানে সরাসরি প্রণোদনা চেক পাওয়ার যোগ্যতা হিসেবে বলা হয়, যেসব ব্যক্তির আয় বছরে ৭৫ হাজার ডলার বা তার কম এবং যেসব বিবাহিত দম্পতির যৌথ আয়ের পরিমাণ বছরে দেড় লাখ ডলার বা তার কম, তারা এই চেক পাওয়ার যোগ্য। এই সীমা থেকে কারও আয় যত বেশি হবে, তাদের পাওয়া প্রণোদনার চেকের অঙ্ক তত কম হবে।

একটি ডানপন্থী ট্যাক্স ফাউন্ডেশনের বরাত দিয়ে দ্য হিল জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন এমন লোকের ৯০ শতাংশই উভয় প্যাকেজ থেকে চেক পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছেন। আর যারা আয়কর রিটার্ন জমা দেন না, তাদের নিম্ন আয়ের মানুষ হিসেবে এমনিতেই ধরে নেওয়া হয়।

আইআরএসের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় সরাসরি চেক পাওয়া ব্যক্তিদের ১৫ শতাংশের আয় ১ লাখ ডলার বা তার চেয়ে বেশি ছিল।

জো বাইডেন ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি ডলারের যে তৃতীয় প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন, তা নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছেন রিপাবলিকান নেতারা। তাঁদের বক্তব্য, ডিসেম্বরে ৯০ হাজার কোটি ডলারের প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণার কয়েক মাসের মধ্যে কেন নতুন করে এত বড় অঙ্কের প্যাকেজ ঘোষণা করতে হবে। এই প্রেক্ষাপটে রিপাবলিকান দলের ১০ সিনেটরের পক্ষ থেকে যে প্রস্তাব পাঠানো হচ্ছে, তার পরিসর ৬০ হাজার কোটি ডলারের বেশি নয় বলে জানিয়েছে দ্য হিল।

এ বিষয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসের রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডি গত রোববার ফক্স নিউজকে বলেন, বাইডেন ঘোষিত প্যাকেজের এক-তৃতীয়াংশেরও কম অনুমোদন করতে প্রস্তুত রিপাবলিকানরা। তাঁদের প্রস্তাবে বাইডেনের ঘোষণায় উল্লিখিত ১ হাজার ৪০০ ডলারের বদলে ১ হাজার ডলারের সরাসরি প্রণোদনা চেক বিতরণের কথা বলা হচ্ছে।

রিপাবলিকান সিনেটরদের কাছ থেকে আসা প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আলোচনার জন্য প্রস্তুত আছে প্রশাসন।
ব্রায়ান ডিজ, হোয়াইট হাউসের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা

একইভাবে চেক পাওয়ার যোগ্যতার মানদণ্ডও সংকুচিত করে আনতে চাইছেন রিপাবলিকানরা। এ বিষয়ে সিএনএনের ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়নে’ দেওয়া বক্তব্যে ওহাইওর রিপাবলিকান সিনেটর রব পোর্টম্যান বলেন, সরাসরি চেক পাওয়ার যোগ্যতার মানদণ্ড হিসেবে আয়সীমা ৫০ হাজার ডলার এবং দম্পতিদের ক্ষেত্রে এ সীমা ১ লাখ ডলার করার প্রস্তাব করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘যারা সবচেয়ে বেশি সংকটে আছে, তাদের দিকে আমাদের তাকাতে হবে।’

এই নতুন প্রস্তাবের সঙ্গে থাকা অন্য রিপাবলিকান নেতাদের মধ্যে রয়েছেন, মেইন অঙ্গরাজ্যের সিনেটর সুসান কলিনস ও ইউটাহ অঙ্গরাজ্যের সিনেটর মিট রমনি।

এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ব্রায়ান ডিজ সিএনএনকে বলেন, রিপাবলিকান সিনেটরদের কাছ থেকে আসা প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আলোচনার জন্য প্রস্তুত আছে প্রশাসন।

তবে যত কিছুই হোক, পরবর্তী প্রণোদনা প্যাকেজের বিষয়ে রিপাবলিকানদের প্রভাব অত বেশি থাকবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। এরই মধ্যে রিপাবলিকান দলের পক্ষ থেকে করা বিরোধিতার মুখে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা বিলটি পাসে বিকল্প পন্থা নিয়েও ভাবতে শুরু করেছেন, যাতে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতেই এটি পাস করা যায়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে কোনো রিপাবলিকান আইনপ্রণেতার সমর্থন না পেলে সিনেটে অন্তত বিলটি পাস করতে হলে ডেমোক্র্যাটদের সবার সমর্থন থাকতে হবে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রস্তাবের পক্ষে সব ডেমোক্র্যাট থাকবেন এমন নিশ্চয়তা নেই। বিশেষত মধ্যপন্থী ডেমোক্র্যাটদের কেউ কেউ অনেকটা রক্ষণশীল ভঙ্গিতেই কথা বলছেন। তাঁদের বক্তব্য, যাদের প্রয়োজন তারা আর্থিক সহায়তা পেলে তাঁরা খুশিই হবেন। তবে এটা নিশ্চিত করতে হবে, এই সহায়তা যেন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন—এমন লোকেরাই পায়।

বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন