default-image

অভিবাসন নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নির্দেশনা শুরুতেই আদালতে বাধার মুখে পড়েছে। ক্ষমতা নেওয়ার পরই নথিপত্রহীন অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়নের (ডিপোর্টেশন) সব প্রক্রিয়া এক শ দিনের জন্য স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছিল বাইডেন প্রশাসন। ২৬ জানুয়ারি টেক্সাসের এক ফেডারেল আদালত নির্দেশনার বিপক্ষে রায় দিয়েছেন।

এই রায়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ভেঙে পড়া অভিবাসন ব্যবস্থার সংস্কারের জন্য নতুন প্রশাসনের উদ্যোগ শুরুতেই বাধার মুখ পড়ল বলে মনে করা হচ্ছে।

আগামী এক শ দিনের জন্য নথিপত্রহীন অভিবাসীদের বিতাড়ন বন্ধের জন্য বাইডেন প্রশাসনের দেওয়া আদেশের পরই রক্ষণশীল রাজ্য টেক্সাসের পক্ষ থেকে এ নিয়ে মামলা করা হয়। ডিস্ট্রিক্ট জাজ ড্রিউ টিপটন বিতাড়ন স্থগিত করার জন্য হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের নির্দেশনার ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞার আদেশ জারি করেছেন।

আদেশে বিচারক বলেছেন, এক শ দিনের জন্য নথিপত্রহীন অভিবাসীদের বিতাড়ন বন্ধের নির্দেশনায় বাইডেন প্রশাসন সুনির্দিষ্ট ও যৌক্তিক কারণ দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
default-image

রক্ষণশীল বিচারক ড্রিউ টিপটনের এমন আদেশে বাইডেন প্রশাসনের অভিবাসন সংস্কারের প্রয়াসের সফলতা নিয়ে অভিবাসী গ্রুপগুলোর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ১ কোটি ১০ লাখের বেশি নথিপত্রহীন অভিবাসীদের নাগরিকত্ব পাওয়ার বিষয়টি উন্মুক্ত করবেন।

ক্ষমতায় আসার পরই অন্যান্য নির্বাহী আদেশে সঙ্গে মুসলমানপ্রধান দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা নিষেধাজ্ঞা বাইডেন বাতিল করেছেন। অপ্রাপ্ত বয়স্ক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসা অভিবাসীদের অভিবাসন কর্মসূচিতে প্রবেশের সুযোগ করে দিয়েছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় এসে ডিফারড অ্যাকশন ফর চাইল্ডহুড অ্যারাইভাল (ডাকা) কর্মসূচি স্থগিত করেছিলেন। প্রেসিডেন্ট বাইডেন ক্ষমতায় এসেই ডাকা কর্মসূচি আবার চালু করার নির্দেশ দিয়েছেন।

একটি সমন্বিত অভিবাসন আইন প্রণয়নের জন্য প্রেসিডেন্ট বাইডেন ইতিমধ্যে কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। নির্বাচনী প্রচারের সময় জো বাইডেন বলেছিলেন, শপথ নেওয়ার পর তিনি এক শ দিনের জন্য নথিপত্রহীন অভিবাসীদের বহিষ্কারের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করবেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের নির্দেশনা ছিল, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত নথিপত্রহীন যেকোনো ব্যক্তি এ দেশ থেকে বহিষ্কারের অগ্রাধিকারে থাকবে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে জো বাইডেনের শপথ নেওয়ার দিন ২০ জানুয়ারি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি ডেভিড পেকোস্কি ট্রাম্প প্রশাসনের নির্দেশনা পাল্টে দেওয়ার এক আদেশে স্বাক্ষর করেন

সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর অভিবাসনবিরোধী একের পর এক নির্বাহী আদেশ জারি করতে থাকেন। তাঁর ওই সব নির্বাহী আদেশকে আদালতে চ্যালেঞ্জ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল উদারনৈতিক রাজ্যগুলোর পক্ষ থেকে। নিউইয়র্ক ও ক্যালিফোর্নিয়াসহ অভিবাসীবহুল রাজ্যগুলো এ কাজে নেতৃত্ব দিয়েছে।

এবার রক্ষণশীল রাজ্য হিসেবে পরিচিত টেক্সাস শুরুতেই বাইডেন প্রশাসনের অভিবাসন সংস্কারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময় থেকেই টেক্সাস অভিবাসীদের বিপক্ষে। ২৬ জানুয়ারি দেওয়া বিচারক ড্রিউ টিপটনের রায়ের মধ্য দিয়ে টেক্সাস রাজ্যের রক্ষণশীল অবস্থানের জয় হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। অভিবাসন নিয়ে আগামী দিনে এমন আইনি এবং রাজনৈতিক লড়াই শুরুতেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের নির্দেশনা ছিল, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত নথিপত্রহীন যেকোনো ব্যক্তি এ দেশ থেকে বহিষ্কারের অগ্রাধিকারে থাকবে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে জো বাইডেনের শপথ নেওয়ার দিন ২০ জানুয়ারি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি ডেভিড পেকোস্কি ট্রাম্প প্রশাসনের নির্দেশনা পাল্টে দেওয়ার এক আদেশে স্বাক্ষর করেন। ২২ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া আদেশে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা প্রায় সব নথিপত্রহীন অভিবাসীর এক শ দিনের জন্য বহিষ্কার স্থগিত হয়ে পড়ে। এতে লাখো অভিবাসীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছিল।

টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল ক্যান প্যাক্সটন আদালতের শুনানিতে বলেন, বাইডেন প্রশাসনের নতুন নির্দেশনা ফেডারেল অভিবাসন আইনের লঙ্ঘন। এ ছাড়া টেক্সাস রাজ্যের সঙ্গে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের চুক্তিতে বলা আছে, এমন কোনো পরিবর্তনের নির্দেশনা জারির আগে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে রাজ্য সরকারের আলোচনা করতে হবে। বাইডেন প্রশাসনের নির্দেশনাকে এমন চুক্তির লঙ্ঘন বলেও শুনানিতে ক্যান প্যাক্সটন উল্লেখ করেন।

বাইডেন প্রশাসনের নতুন নির্দেশনা ফেডারেল অভিবাসন আইনের লঙ্ঘন। এ ছাড়া টেক্সাস রাজ্যের সঙ্গে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের চুক্তিতে বলা আছে, এমন কোনো পরিবর্তনের নির্দেশনা জারির আগে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে রাজ্য সরকারের আলোচনা করতে হবে
ক্যান প্যাক্সটন, টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল

টেক্সাস রাজ্যের ফেডারেল আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে বাইডেন প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্কিট আদালতে আপিল করা হতে পারে। এ নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ থেকে কিছু জানানো হয়নি। আপিল আদালতে এ রায় স্থগিত না হলে নথিপত্রহীন অভিবাসীদের বিতাড়ন প্রক্রিয়া ট্রাম্প সময়ের অবস্থার মতোই বহাল থাকছে।

বিজ্ঞাপন
default-image

টেক্সাস রাজ্যের আদালতে নথিপত্রহীন অভিবাসীদের বিতাড়ন স্থগিতের মামলা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে অভিবাসী গ্রুপগুলো। রাজনৈতিক খেলার মাধ্যমে লাখো অভিবাসীর জীবন নিয়ে ছিনিমিনি না করে দ্রুত সমন্বিত অভিবাসন সংস্কার আইন প্রণয়নের জন্য দাবি উচ্চারিত হয়েছে অভিবাসী গ্রুপগুলোর প্রতিক্রিয়ায়।

ট্রাম্প প্রশাসনের সময় উদারনৈতিক রাজ্যগুলোর পাল্টা ভূমিকায় এখন অবতীর্ণ হবে রক্ষণশীল রাজ্যগুলো। এ খেলা থামিয়ে বাইডেন প্রশাসন অভিবাসন সংস্কারে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে, তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে
মঈন চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে অভিবাসনবিষয়ক অ্যাটর্নি

যুক্তরাষ্ট্র সুপ্রিম কোর্টে দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ এবং অভিবাসন নিয়ে কাজ করেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আইনজীবী অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী। প্রথম আলো উত্তর আমেরিকাকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, দুঃখজনক হলেও বাস্তবতা হচ্ছে নথিপত্রহীন অভিবাসীদের বহিষ্কারের স্থগিত করার আদেশটি এখন স্থগিত হয়ে পড়েছে। এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালত থেকে রায় না পাওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি আগের অবস্থায় ফিরে গেছে।

অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী বলেন, অভিবাসন নিয়ে চরমভাবে বিভক্ত মার্কিন সমাজ। ট্রাম্প প্রশাসনের সময় উদারনৈতিক রাজ্যগুলোর পাল্টা ভূমিকায় এখন অবতীর্ণ হবে রক্ষণশীল রাজ্যগুলো। এ খেলা থামিয়ে বাইডেন প্রশাসন অভিবাসন সংস্কারে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে, তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে বলে মনে করেন ডেমোক্র্যাট দলের ডিস্ট্রিক্ট লিডার অ্যাট লার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন