default-image

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নানা উদ্যোগ থামিয়ে দিতে মার্কিন রক্ষণশীলরা ভিন্ন প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর অনুগতদের সহযোগিতায় নানা কৌশলী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহে রক্ষণশীল অর্থ দাতাদের একটি সম্মেলন হতে যাচ্ছে। ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের ‘মার এ লাগো’ ক্লাবে আয়োজন করা হচ্ছে এই সম্মেলন।

যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল রাজনীতির জন্য অঢেল অর্থের প্রবাহ নিশ্চিত করাই এই সম্মেলনের লক্ষ্য। কনজারভেটিভ পার্টনারশিপ ইনস্টিটিউট নামের একটি রক্ষণশীল সংগঠনের তত্ত্বাবধানে এই সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন সব রক্ষণশীল ধনকুবের দাতারা।

মার্কিন রাজনীতিতে উদারনৈতিক ভাবাদর্শ প্রচারের জন্য এমন অর্থদাতাদের জোট দীর্ঘদিন থেকেই সক্রিয় রয়েছে। ডেমোক্রেটিক দলের রাজনীতির জন্য সহায়ক এসব অর্থদাতা নিজেদের নানা সুবিধার বিনিময়ে প্রকাশ্যে, অপ্রকাশ্যে অঢেল অর্থ দিয়ে আসছেন। এই অর্থ প্রবাহ সরাসরি রাজনৈতিক তৎপরতার বাইরে নানা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যয় করা হয়।

ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে এখন মার্কিন রক্ষণশীল ঘরানার লোকজন ও চাঁদাদাতাদের এমন তৎপরতা শুরু হয়েছে। রিপাবলিকান দলের বাইরে ট্রাম্প সমর্থক প্রার্থীদের ২০২২ সালের নির্বাচনে সহযোগিতা করাই তাঁদের আশু লক্ষ্য। পাশাপাশি রক্ষণশীল নাগরিক সংগঠন ও অলাভজনক সংগঠনের মাধ্যমে ট্রাম্পের ভাবাদর্শের পক্ষে কাজ চালাতে অঢেল অর্থপ্রবাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময় হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা মার্ক মেডৌস ও রক্ষণশীল সাবেক সিনেটর জিম ডেমিন্ট কনজারভেটিভ পার্টনারশিপ ইনস্টিটিউট নামের সংগঠনের নেতা। তাঁদের আহ্বানে ৯ এপ্রিল থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত সম্মেলন ডাকা হয়েছে। গত নির্বাচনে ট্রাম্পের হেরে যাওয়ার পেছনে প্রধান কারণ নিয়ে আলোচনা করা হবে সম্মেলনের শুরুর দিনেই। নৈশভোজের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের শুরু হবে এবং উদ্বোধনী বক্তৃতা করবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম পলিটিকো জানায়, প্রথম দিনের আলোচনায়ই ট্রাম্প প্রশাসনে কাজ করেছেন এমন কর্মকর্তাদের মধ্যে স্টিফেন মিলার, রাস ভাট, রিক গ্রেনেল প্রমুখ বক্তৃতা করবেন। রক্ষণশীলদের মতে, তাঁদের ভাবাদর্শ প্রচার ও সংরক্ষণে যথেষ্ট উদ্যোগের অভাবে গত নির্বাচনে হেরেছেন ট্রাম্প। উদারনৈতিক বিভিন্ন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রে নানা সংগঠন যেভাবে কাজ করে, সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাঁদের একই ধরনের কাজ করতে হবে। সরাসরি রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীকে অর্থ সহযোগিতা দেওয়া ছাড়াও নাগরিক সংগঠন, ধর্মীয় সংগঠনের মাধ্যমে অর্থ ব্যয় করে রাজনৈতিক সুফল তুলতে হবে।

কনজারভেটিভ পার্টনারশিপ ইনস্টিটিউটের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, রক্ষণশীলদের এখন এক কাতারে আসতে হবে। সংকটের এই সময়ে নিজেদের ভাবাদর্শ অক্ষুণ্ন রেখে রাষ্ট্রক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে নতুন নতুন কৌশল গ্রহণের তাগিদ দেওয়া হয়েছে প্রস্তাবে। বলা হয়েছে, উদারনৈতিক কাজে অর্থদাতারা নানা উপায়ে তাদের সুবিধা গ্রহণ করছে, নিজেদের অর্থ প্রবাহ অলাভজনক সংগঠনের তহবিলে দিয়ে কর সুবিধা গ্রহণ করছে। রক্ষণশীল ভাবাদর্শের চাঁদাদাতারা এসব সুবিধা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে না। তাদের ভাবাদর্শের সঙ্গে মিলে না, এমন কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনকে তারা চাঁদা দিতে চায় না। শুধু আইনে অনুমোদিত অর্থই রাজনৈতিক চাঁদা হিসেবে দেয়। বিষয়টিকে রক্ষণশীল চাঁদা দাতাদের জন্য সমস্যা হিসেবে সম্মেলনের প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

রক্ষণশীল চাঁদা দাতাদের রাজনৈতিক সুপার প্যাক গঠনের মাধ্যমে রিপাবলিকান বা রক্ষণশীল প্রার্থীর জন্য যথেষ্ট অর্থ সহযোগিতা দিয়ে আসছে। কিন্তু নানা অলাভজন সংগঠনের মাধ্যমে অর্থ ব্যয়ে উদারনৈতিকদের চেয়ে তাঁদের পিছিয়ে থাকতে দেখা গেছে। গত নির্বাচনে উদারনৈতিক পক্ষ সরাসরি রাজনৈতিক চাঁদার বাইরে এমন ৫০০ মিলিয়ন ডলারের অর্থ প্রবাহের সুবিধা পেয়েছে। রক্ষণশীল প্রার্থীদের এই সুবিধা মাত্র ২০০ মিলিয়ন ডলারের। ‘ওপেন–সিক্রেট’ নামের একটি সংগঠন এ তথ্য দিয়েছে।

রক্ষণশীলদের মতে, গত নির্বাচনে জর্জিয়া রাজ্যে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পেছনে নাগরিক সংগঠন ‘ফেয়ার ফাইট’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ডেমোক্র্যাট নেতা স্টেসি আব্রামস এ সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। রাজ্যের উদারনৈতিক রাজনীতির পক্ষের ব্যক্তিদের সংগঠিত করতে এই সংগঠন ভালো ভূমিকা রেখেছে।

‘সেইভ আমেরিকা অ্যালায়েন্স’ নামে সম্প্রতি আরেকটি রক্ষণশীল সংগঠন গড়ে তোলা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের উদারনৈতিক কর্মসূচিগুলোতে বাধাগ্রস্ত করাই হবে এ সংগঠনটির কাজ। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বাইডেন প্রশাসনের কাজে আইনি বাধা দিতে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্টকালীন উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার আগে থেকেই একটি রক্ষণশীল আইনজীবী দল গড়ে তুলেছেন।

বিজ্ঞাপন

সেভ আমেরিকা অ্যালায়েন্স নামের রক্ষণশীল সংগঠন ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘ডেমোক্রেসি অ্যালায়েন্স’ নামের সংগঠনের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে চায়। গত ১৫ বছর উদারনৈতিক রাজনীতিতে ডেমোক্রেসি অ্যালায়েন্স উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে আসছে এবং এ সংগঠনের সঙ্গে প্রতিটি রাজ্যের উদারনৈতিক সংগঠনগুলো যুক্ত হয়ে কাজ করে থাকে।

উদারনৈতিক মহল থেকে ডেমোক্রেসি অ্যালায়েন্সকে পর্যাপ্ত অর্থ দেওয়া হয়। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রক্ষণশীল লোকজন এমন একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে এবং এখনই তাঁর উপযুক্ত সময় বলে তাঁরা বিবেচনা করছে। দীর্ঘদিনের রক্ষণশীল অর্থ সংগ্রাহক ক্যারোলাইন উরেন সেভ আমেরিকা সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা এবং রিপাবলিকান সিনেটর ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের বন্ধু লিন্ডসে গ্রাহাম এই সংগঠনের অর্থ পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন