default-image

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হওয়ায় ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী জো বাইডেনকে অভিনন্দন জানালেন দেশটির সাবেক রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ।

গতকাল রোববার ফোনকলে এ অভিনন্দন জানান তিনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।

বিজ্ঞাপন

জর্জ ডব্লিউ বুশ বলেছেন, এবারের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ছিল একেবারেই সুষ্ঠু। আর এই নির্বাচনের ফলাফলও স্পষ্ট।

তবে বুশ এ কথাও বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আইনি লড়াই ও ভোট পুনর্গণনা চাওয়া অধিকার আছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন পর্যন্ত পরাজয় মেনে নিতে অস্বীকার করেছেন। তবে তাঁর রিপাবলিকান পার্টির সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ নবনির্বাচিত ডেমোক্র্যাট প্রার্থী বাইডেনকে অভিনন্দন জানানোর কাজ সেরে ফেললেন।

এক বিবৃতিতে বুশ বলেছেন, তিনি গতকাল জো বাইডেন ও কমলা হ্যারিসকে ফোন করেছেন।

বুশ বলেছেন, ‘যদিও আমাদের মধ্যে রাজনৈতিক পার্থক্য আছে, তা সত্ত্বেও আমি মনে করি, জো বাইডেন ভালো মানুষ হবেন। তিনি দেশকে নেতৃত্ব দেওয়া ও ঐক্যবদ্ধ করার সুযোগ জিতেছেন। তিনি (বাইডেন) পুনরাবৃতি করেছেন, ডেমোক্র্যাট হিসেবে লড়লেও তিনি সব আমেরিকানের প্রেসিডেন্ট হবেন। আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ওবামার জন্য যা চেয়েছিলাম, জো বাইডেনের জন্যও তা–ই চাইছি। আমি তাঁর সাফল্য কামনা করি।

আমি যদি কোনোভাবে পারি, তবে তাঁকে সাহায্য করব।’

বুশ তাঁর বিবৃতিতে ট্রাম্পকে কঠিন লড়াইয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন। ট্রাম্প সম্পর্কে তিনি বলছেন, ৭ কোটির বেশি মার্কিন নাগরিকের ভোট পাওয়া একটি অসাধারণ রাজনৈতিক অর্জন, যা বাইডেনের পর ইতিহাসের সর্বোচ্চ ভোট।

বুশ ২০০০ সালে বাইডেনের চেয়ে স্বল্প ব্যবধানে তৎকালীন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আল গোরের বিরুদ্ধে নির্বাচনে জিতেছিলেন। ফ্লোরিডায় তাঁদের ভোটের ব্যবধান ছিল মাত্র ৫৩৭। পরে সুপ্রিম কোর্ট বুশের পক্ষে রায় দেন।

বুশ বলেছেন, নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হলেও ট্রাম্পের আইনি লড়াইয়ের অধিকার রয়েছে। মার্কিন নাগরিকেরা এ ব্যাপারে আশ্বস্ত থাকতে পারে যে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

২০০৯ সালের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর থেকে বুশ রাজনীতি থেকে অনেকটাই দূরে ছিলেন। ২০১৬ সালে রিপাবলিকান নির্বাচনী প্রচারে ভাই জেব বুশের পক্ষে একবার উপস্থিত হয়েছিলেন তিনি। তখন ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রাইমারিতে লড়েছিলেন ফ্লোরিডার সাবেক গভর্নর জেব বুশ।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য প্রয়োজন ২৭০টি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট। বাইডেন ইতিমধ্যে তাঁর চেয়ে বেশি ভোট নিশ্চিত করে ফেলেছেন। সিএনএন বলছে, এখন পর্যন্ত বাইডেনের ইলেক্টোরাল কলেজ ভোটের সংখ্যা ২৭৯। আর ট্রাম্পের ২১৪। এখনো আলাস্কা, অ্যারিজোনা, জর্জিয়া ও নর্থ ক্যারোলাইনার ফল পাওয়া যায়নি।

রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প পরাজয় মেনে নেবেন না বলে আগেই জানিয়েছেন। ভোটে কারচুপি, ভোট গণনা বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ইতিমধ্যে তাঁর পক্ষে মামলা করা হয়েছে। তিনি সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন।
বাইডেন তাঁর বিজয়ী ভাষণে জাতির ক্ষত সারানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। দিয়েছেন ঐক্যের ডাক।

মন্তব্য পড়ুন 0