বাংলাদেশিদের সমর্থনে ট্রাম্প নাকি বাইডেন

বিজ্ঞাপন
default-image

বহু জাতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের অভিবাসনের দ্বিতীয় প্রজন্ম চলছে। সংখ্যার দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশিরা কোনো মুখ্য অভিবাসী গোষ্ঠী নয়। যদিও নির্বাচন পদ্ধতিতে কোনো কোনো রাজ্যে অল্প ভোটও জয় পরাজয়ের নিয়ামক হয়ে উঠতে পারে। নির্বাচনে শুধু নিজেদের সমর্থনের প্রার্থীর জয়ের জন্য ভোট দেওয়া ছাড়াও ভোট প্রদান করা খুব জরুরি নানা কারণে। একটি অভিবাসী গোষ্ঠী সামাজিকভাবে কতটা শক্তিশালী হয়ে উঠছে, তার একটা হিসেব বেরিয়ে আসে নির্বাচনে ভোট প্রদানের মাধ্যমে।

জাতীয় নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক রাজ্য হিসেবে পরিচিত রাজ্যগুলোতে বাংলাদেশিদের বসবাস বেশি। এর মধ্যে পেনসিলভানিয়া, ফ্লোরিডা ও মিশিগান এবারের নির্বাচনের ব্যাটল ফিল্ড হিসেবে উঠে আসছে। গত নির্বাচনে এর দুটি রাজ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প জয়ী হয়েছেন অল্প ভোটে। এসব রাজ্যে বেশ কিছু বাংলাদেশি অভিবাসীর বসবাস। যদিও ডেমোক্রেটিক বা রিপাবলিকান দলের প্রচারে বাংলাদেশিরা টার্গেট জনগোষ্ঠী নয়। নিউইয়র্ক, নিউজার্সি ও ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মতো অন্যান্য রাজ্যেও বাংলাদেশিদের ডেমোক্রেটিক দলের সমর্থক হিসেবে ধরে নেওয়া হয়। আলাপকালে নিউইয়র্কের বাংলাদেশিরা এবারের নির্বাচন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

বাংলাদেশিদের মধ্যে ভোটার তালিকাভুক্তি ও নির্বাচনে ভোট দেওয়ার হার কম। নিউইয়র্কের গত স্থানীয় নির্বাচনে বাংলাদেশি এক ডজন প্রার্থী থাকার পরও বাংলাদেশির কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে অতটা দেখা যায়নি। ভোটার তালিকাভুক্তিতেও বাংলাদেশিদের তেমন আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়নি।

ভোটকেন্দ্রে যাবেন বা ডাকযোগে ভোট দেবেন কিনা—এমন প্রশ্ন নিউইয়র্কের ১০জন বাংলাদেশিকে করা হয় প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার পক্ষ থেকে। মাত্র দুজন বলেছেন, তাঁরা ভোটকেন্দ্রে যাবেন। একজন বলেছেন, তিনি ডাকযোগে ভোট দেবেন। আর সাতজনই জানিয়েছেন, তাঁরা ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত কিনা, নিশ্চিত নন। অর্থাৎ নিজেই জানেন না, ভোটার তালিকাভুক্তির কথা।

ভোট দেওয়া বা না দেওয়ার কথায় না গিয়েও অন্যান্য অভিবাসী গোষ্ঠীর চেয়ে বাংলাদেশিদের মধ্যে রাজনৈতিক আলোচনা সব সময় প্রাধান্য পায়। হোটেল রেস্তোরাঁর আলাপের সঙ্গে সঙ্গে ঘর বাড়ির বৈঠকে ট্রাম্প ভালো না বাইডেন ভালো—এ আলোচনার কোনো কমতি নেই।

জ্যামাইকায় বাস করেন সালেহা খাতুন। তিনি জানালেন, তাঁর ভোটার তালিকাভুক্তি আছে কিনা, তা তিনি নিশ্চিত নন। তিনি ডেমোক্রেটিক দলের সমর্থক। ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিবাসনবিরোধী। তিনি নিজের পরিবারের জন্য অভিবাসনের আবেদন করেছেন। ট্রাম্প নির্বাচিত হলে এসব বন্ধ হয়ে যাবে বলে তিনি মনে করেন।

নগরীর উডহ্যাভেন এলাকায় থাকেন মোহাম্মদ আহমেদ। পেশায় ক্যাব চালক আহমেদ জানালেন, করোনার সময়ে ট্রাম্প অনেক নাগরিক সুবিধা দিয়েছেন। এখন আরও সুবিধা দেওয়ার কথা বলছেন। তিনি ভোটকেন্দ্রে গেলে ট্রাম্পকেই ভোট দেবেন।

নিউইয়র্কের গত স্থানীয় নির্বাচনে বাংলাদেশি এক ডজন প্রার্থী থাকার পরও বাংলাদেশির কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে অতটা দেখা যায়নি। ভোটার তালিকাভুক্তিতেও বাংলাদেশিদের তেমন আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়নি
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

ব্রঙ্কসে বাস করেন তাসকির আলী। পেশায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাসকির আলী বলেন, ডেমোক্রেটিক দলের ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে কমলা হ্যারিসের মনোনয়নে তিনি খুশি হননি। তাঁর কাছে ট্রাম্প যা, বাইডেনও তাই। তবে ভারতীয় মিশ্রণের কমলা হ্যারিসের পক্ষে ভোট দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

নগরীর এস্টোরিয়া এলাকায় বসবাস করেন আবদুর রহমান। তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে ডোনাল্ড ট্রাম্পই অভিবাসীদের কল্যাণে কাজ করবেন। ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার আন্দোলনের নামে সহিংসতা আর লুটপাটকে প্রশ্রয় দেওয়ার জন্য তিনিও ডেমোক্রেটিক দলকে দায়ী করলেন।

এস্টোরিয়ার বাসিন্দা নাসিমা সুলতানা বলেন, তিনি রেজিস্টার্ড ডেমোক্র্যাট। তাই দলের পক্ষেই ভোট দেবেন। যদিও ডেমোক্রেটিক দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেনকে তিনি নিজের পছন্দের প্রার্থী হিসেবে মনে করেন না।

নিউইয়র্কের সানি সাইডের অবিনাশ দাশ বলেন, তিনি ট্রাম্পের সমর্থক। ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচিত হলে আমেরিকার অর্থনীতি চাঙা থাকবে বলে তিনি মনে করেন।

জ্যামাইকায় বসবাসরত মঈনুল হোসেন জানান, এবারে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ভোট দেবেন। তিনি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থীকেই ভোট দেবেন।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশি জনসমাজ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি সম্পর্কে এখনো পুরোপুরি সচেতন নয়
প্রবাসী সাংবাদিক মাহবুবুর রহমান

অভিবাসী হিসেবে নিউইয়র্কে বাংলাদেশি জনসমাজের রাজনৈতিক ভাবনা নিয়ে কথা হয় প্রায় তিন দশক থেকে প্রবাসী সাংবাদিক মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে। মাহবুবুর রহমান বলেন, বাংলাদেশি জনসমাজ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি সম্পর্কে এখনো পুরোপুরি সচেতন নয়। সাধারণ প্রবাসীদের মধ্যে নিজেদের সমস্যা মানে অভিবাসনের সমস্যা, নাগরিক নানা সুযোগ-সুবিধার সহজ প্রাপ্তির সুবিধাকে ধরে নেওয়া হয়। জাতীয় রাজনীতিতে যেসব ইস্যু যেমন গর্ভপাত, সমলিঙ্গের বিয়ে, জলবায়ু সংরক্ষণ, ক্লিন এনার্জি উদ্যোগ, জুডিশিয়াল আইনের সংস্কার ইত্যাদি নিয়ে বাংলাদেশি সাধারণ জনসমাজে তেমন কোনো আলোচনাও নেই।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

নিউইয়র্কের কোলাহলপ্রিয় কমিউনিটির অনেকেই দেশের রাজনীতির চালচিত্রের নিত্য খোঁজ রাখলেও এখানে কোন কেন্দ্রে তাঁকে ভোট দিতে হবে তা তিনি জানেন না। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নির্বাচনে ইলেকটোরাল কলেজ নিয়ে যথেষ্ট ধারণাও নেই অনেকের।

সাংবাদিক মাহবুবুর রহমান মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি নতুন প্রজন্ম রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে অগ্রসরমাণ। বাংলাদেশি জনসমাজের এ অংশের মধ্যে অতি প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাটদের প্রতি সমর্থন ব্যাপক বলে মাহবুবুর রহমান মনে করেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন