default-image

আটলান্টিক মহাসাগরঘেঁষা যুক্তরাষ্ট্রের সর্ব দক্ষিণ–পূর্বের অঙ্গরাজ্য ফ্লোরিডা। ভোটের রাজনীতিতে নামটি যখন আসে, তখন রিপাবলিকানদের উচ্ছ্বসিত মুখ আর ডেমোক্র্যাটদের হতাশার চিত্রই ভেসে ওঠে। অঙ্গরাজ্যটি উদারপন্থীদের স্বপ্নভঙ্গের স্থান হিসেবেও বিবেচিত। দু–একটা উদাহরণ দিলেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে। ২০১৮ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সারা দেশে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের জোয়ার বইলেও ফ্লোরিডায় সিনেট ও গভর্নর পদে সামান্য ব্যবধানে হেরে যায় দলটি। ২০০০ সালে মাত্র ৫৪০ ভোট বেশি পেয়ে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আল–গোরের হোয়াইটে হাউসে ওঠার স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দেন রিপাবলিকান জর্জ ডব্লিউ বুশ।

ফ্লোরিডা যেন ডেমোক্র্যাটদের অবিশ্বস্ত বন্ধু। তার মানে, যখন ফ্লোরিডায় জয় দরকার, তখন সেখানে জয় পায়নি দলটি। হেরে যাওয়া গত তিনটি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দুটিতেই ডেমোক্র্যাটরা জিতে যেতে পারত, যদি ফ্লোরিডায় তারা জয় পেত।

বিজ্ঞাপন

২০১৬ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন সারা দেশের জনপ্রিয় ভোটে এগিয়ে থাকলেও অঙ্গরাজ্যভিত্তিক ইলেকটোরাল কলেজ ভোট বেশি পেয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ডোনাল্ড ট্রাম্প। হিলারির কপালে যে শনিরদশা লাগতে যাচ্ছে, তা গত নির্বাচনে ফ্লোরিডার ফলাফলেই টের পাওয়া যাচ্ছিল। চার বছর পর অঙ্গরাজ্যটি আবার আলোচনায়। এই ব্যাটেলগ্রাউন্ড অঙ্গরাজ্যের ভোটেই চূড়ান্ত হতে পারে প্রেসিডেন্ট কে হচ্ছেন। জনমত জরিপও বলছে, এবারও ফ্লোরিডায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।

২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ের পর ফ্লোরিডার প্রতি ট্রাম্পের মনোযোগ আরও বেড়েছে। তিনি প্রায়ই রাজ্যে অবস্থিত নিজের মার–এ–লাগো রিসোর্টে ভ্রমণ করেন। অঙ্গরাজ্যটিকে নিজের পক্ষে ধরে রাখতে নিজের নিউইয়র্কের বাসভবনও একরকম ছেড়েই দিয়েছেন। ট্রাম্প ফ্লোরিডাকে নিজের ‘জন্মভূমি’ হিসেবেও পরিচয় দিতে ভালোবাসেন। নির্বাচনী প্রচারের জন্য রাজ্যটি চষেও বেড়াচ্ছেন তিনি।

default-image

ভোটের জন্য ফ্লোরিডার গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল প্যানসাকোলা। এটা রক্ষণশীলদের ঘাঁটি। এখানে অনেক সেনা কর্মকর্তাদের বাস। তাঁরা মূলত রিপাবলিকানদের ভোট দিয়ে থাকেন। ফলে ফ্লোরিডার অন্য এলাকায় দলটি কম ভোট পেলেও অঞ্চলটি তা পুষিয়ে দেয়। প্যানসাকোলার বাসিন্দা ডানা আরডুনি বলেন, ট্রাম্পের লাজুক ভোটারদের নিয়ে কথা উঠেছে। এসব ভোটার জনমত জরিপে অংশ নেন না। তবে ভোট ঠিকই দেন। কিন্তু ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের সমর্থকেরা আলাদা। তাঁরা প্রকাশ্যেই ট্রাম্পের পক্ষে কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন
ট্রাম্পের নির্বাচনী শিবির জরিপকে খুব একটা পাত্তা দিচ্ছে না। তাদের দাবি, ট্রাম্প ডাকযোগে ভোট প্রদানের ঘোরবিরোধী। তাই অনেক রিপাবলিকান পার্টির সমর্থক ডাকে ভোট দেননি। নির্বাচনের দিন কেন্দ্রে গিয়ে যখন ট্রাম্পের সমর্থকেরা ভোট দেবেন, তখন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর এগিয়ে থাকার বিষয়টি একেবারে মিইয়ে যাবে

ডেমোক্র্যাটদের আশা ও ভয়

গত শনিবার প্যানসাকোলার বিমানবন্দরে সমাবেশ করেন ট্রাম্প। এর এক দিন আগে বাইডেনের পক্ষে ওই রাজ্যেই প্রচারণায় যান সাবেক দুইবারের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। মিয়ামির ওই সমাবেশে তিনি বলেন, ‘ফ্লোরিডায় জিতলে খেলা শেষ।’

ভোটের এখনো সপ্তাহখানেক বাকি। ফ্লোরিডাবাসী কয়েক সপ্তাহ আগ থেকেই ডাকযোগে ভোট দিচ্ছেন। আর আগাম ভোট শুরু হয়েছে গত সোমবার। তবে ডেমোক্র্যাটদের জন্য আশার খবর হচ্ছে, রিপাবলিকানদের চেয়ে ৬ লাখ বেশি ভোট দিয়েছেন অঙ্গরাজ্যটির নিবন্ধিত ডেমোক্র্যাট ভোটাররা। আগাম ভোট ও ডাকযোগের ভোট, সব মিলিয়ে বাইডেন ৩ লাখ ৬৬ হাজার বেশি আগাম ভোট পেতে পারেন বলে জরিপগুলোতে উঠে এসেছে।

তবে ট্রাম্পের নির্বাচনী শিবির এসব জরিপকে খুব একটা পাত্তা দিচ্ছে না। তাদের দাবি, ট্রাম্প ডাকযোগে ভোট প্রদানের ঘোরবিরোধী। তাই অনেক রিপাবলিকান পার্টির সমর্থক ডাকে ভোট দেননি। নির্বাচনের দিন কেন্দ্রে গিয়ে যখন ট্রাম্পের সমর্থকেরা ভোট দেবেন, তখন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর এগিয়ে থাকার বিষয়টি একেবারে মিইয়ে যাবে।

জরিপ বিশেষজ্ঞ ও ডেমোক্র্যাটিক প্রচারশিবিরের পরামর্শক ইভান রোথ স্মিথ বলেন, ফ্লোরিডায় শেষ পর্যন্ত যদি লাল ঢেউ (রিপাবলিকানদের রং) বয়ে যায়, তাহলে সেটা হবে অনেক বেশি অপ্রত্যাশিত।

মন্তব্য পড়ুন 0