default-image

নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প থেকে গুরুত্বপূর্ণ চার অঙ্গরাজ্যে বেশ এগিয়ে রয়েছেন ডেমোক্রেটিক দলের মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা কলেজ পরিচালিত জনমত জরিপের তথ্যমতে, ফ্লোরিডা, পেনসিলভানিয়া, অ্যারিজোনা ও উইসকনসিনে এগিয়ে রয়েছেন বাইডেন। ব্যাটলগ্রাউন্ড হিসেবে পরিচিত এই চার অঙ্গরাজ্যে রয়েছে ৭০টি ইলেকটোরাল ভোট।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প থেকে এই চার অঙ্গরাজ্যে জো বাইডেন সুস্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। গত নির্বাচনে ভোট দেননি এমন ভোটারদের ভোট দিতে উজ্জীবিত করার মধ্য দিয়েই বাইডেন এই চার অঙ্গরাজ্যে এগিয়ে গেছেন। এর মধ্যে উইসকনসিনে বাইডেন ট্রাম্প থেকে সবচেয়ে বেশি ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন।

নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা কলেজ পরিচালিত জরিপের তথ্যমতে, জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৫২ শতাংশই বাইডেনকে সমর্থন জানিয়েছেন। বিপরীতে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন রয়েছে জরিপে অংশ নেওয়া ভোটারদের ৪১ শতাংশের। অঙ্গরাজ্যটিতে বাইডেন ট্রাম্প থেকে ১১ শতাংশ পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়ে।

এবারের নির্বাচনে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বাইডেনের অবস্থান এতটাই শক্ত, যা সর্বশেষ ২০০৮ সালে দেখা গিয়েছিল। সে বছর চলমান মহামন্দার মধ্যে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ৩৬৫টি ইলেকটোরাল ভোট পেয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয় পেয়েছিলেন। ওবামার ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে ছিলেন জো বাইডেন।

নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, এবারের নির্বাচনের প্রবণতা বলছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে প্রেসিডেন্সির জন্য প্রয়োজনীয় ২৭০ ইলেকটোরাল ভোট পাওয়া রীতিমতো কঠিন। বিপরীতে বাইডেন বেশ দৃঢ় অবস্থানে রয়েছেন। উদাহরণ হিসেবে এই চার অঙ্গরাজ্যের কথা বলা যায়। এগুলোর সব কটিতে শেষ পর্যন্ত বাইডেন যদি জয় নাও পান, তাহলেও ট্রাম্পের পক্ষে ২৭০ ইলেকটোরাল ভোট পাওয়া প্রায় অসম্ভব। কারণ, বেশ কিছু বড় অঙ্গরাজ্যে বাইডেন বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন। এই চার অঙ্গরাজ্যের মধ্যে এমনকি যদি ফ্লোরিডার ২৯টি ইলেকটোরাল ভোট ছুটেও যায়, তাহলেও বাইডেনের যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকে। কারণ, সে ক্ষেত্রে বাইডেনকে এমন একটি বড় অঙ্গরাজ্যে জয় পেলেই চলবে, যেখানে ২০১৬ সালে ট্রাম্প বিজয়ী হয়েছিলেন।

বিজ্ঞাপন
ফ্লোরিডায় বাইডেন হারবেন—এমন কোনো ইঙ্গিত এখনো দেখা যাচ্ছে না। নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিনেও অঙ্গরাজ্যটিতে বাইডেন বেশ এগিয়ে রয়েছেন। সর্বশেষ জনমত জরিপের তথ্যমতে, অঙ্গরাজ্যটির ভোটারদের ৪৭ শতাংশের সমর্থন রয়েছে বাইডেনের দিকে। বিপরীতে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন রয়েছে ৪৪ শতাংশ ভোটারের

অবশ্য ফ্লোরিডায় বাইডেন হারবেন—এমন কোনো ইঙ্গিত এখনো দেখা যাচ্ছে না। নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিনেও অঙ্গরাজ্যটিতে বাইডেন বেশ এগিয়ে রয়েছেন। সর্বশেষ জনমত জরিপের তথ্যমতে, অঙ্গরাজ্যটির ভোটারদের ৪৭ শতাংশের সমর্থন রয়েছে বাইডেনের দিকে। বিপরীতে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন রয়েছে ৪৪ শতাংশ ভোটারের। সেখানে ব্যবধান ৩ শতাংশ পয়েন্টের হলেও অ্যারিজোনা ও পেনসিলভানিয়ায় বাইডেন ট্রাম্প থেকে এগিয়ে রয়েছেন ৬ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে। এই তিন অঙ্গরাজ্যের কোনোটিতে ট্রাম্পের প্রতি ভোটার সমর্থন ৪৪ শতাংশের ওপরে ওঠেনি। এই জরিপে ‘মার্জিন অব এরর’ হিসেবে ফ্লোরিডা ও উইসকনসিনের ক্ষেত্রে ৩ দশমিক ২, অ্যারিজোনায় ৩ ও পেনসিলভানিয়ায় ২ দশমিক ৪ শতাংশ পয়েন্টকে ধরা হয়েছে বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস।

গত মার্চ-এপ্রিল থেকেই নিউইয়র্ক টাইমস পরিচালিত সব জনমত জরিপে জাতীয় পর্যায়ে এগিয়ে রয়েছেন বাইডেন। এই এগিয়ে থাকার ব্যবধানে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বিভিন্ন সময় হেরফের হলেও ট্রাম্প কখনোই ভোটার সমর্থন ও জনপ্রিয়তায় বাইডেনকে ছাড়িয়ে যেতে পারেননি। বিশেষত এবারের ব্যাটলগ্রাউন্ড হিসেবে পরিচিত সুইং স্টেটগুলোয় বাইডেন বরাবরই সুবিধাজনক অবস্থানে ছিলেন এবং আছেন।

এবারের নির্বাচন অনেক দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। এবার এত বেশিসংখ্যক আগাম ভোট পড়েছে যে, বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন ভোট পড়ার হারে এবারের নির্বাচন আগের সব নির্বাচনকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। এরই মধ্যে প্রায় ৯ কোটি ২০ লাখ ভোটার ভোট দিয়ে দিয়েছেন। সুইং স্টেটগুলোয় ভোট পড়ার হার চোখ কপালে ওঠার মতো। ফ্লোরিডা, পেনসিলভানিয়া, উইসকনসিন ও অ্যারিজোনায় পরিচালিত জরিপে অংশগ্রহণকারী ভোটারদের একটি বড় অংশই এরই মধ্যে ভোট দিয়েছেন। নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্যমতে, পেনসিলভানিয়া ছাড়া বাকি তিন অঙ্গরাজ্যের জরিপে অংশ নেওয়া ভোটারদের অধিকাংশই তাঁদের ভোট দিয়ে দিয়েছেন।

‘ব্লু ওয়াল’ হিসেবে পরিচিত মিশিগান, উইসকনসিন ও পেনসিলভানিয়ায় গেল নির্বাচনে হিলারির হেরে যাওয়াটা ছিল বিস্ময়কর। দশকের পর দশ ধরে এই তিন অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরাই জয় পেয়েছেন। তবে এবার আবার সেই পুরোনো ধারা ফেরার জোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে

উল্লিখিত চার অঙ্গরাজ্যেই গত নির্বাচনে অল্প ব্যবধানে হিলারি ক্লিনটনকে পরাজিত করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে এই চার অঙ্গরাজ্যে তিনি এতটাই পিছিয়ে রয়েছেন, যা ক্ষমতাসীন কোনো প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রে বহু দিন দেখা যায়নি। শুধু এগুলোতেই নয়, আরেক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্য মিশিগানেও বাইডেন থেকে পিছিয়ে রয়েছেন ট্রাম্প। ‘ব্লু ওয়াল’ হিসেবে পরিচিত মিশিগান, উইসকনসিন ও পেনসিলভানিয়ায় গেল নির্বাচনে হিলারির হেরে যাওয়াটা ছিল বিস্ময়কর। দশকের পর দশ ধরে এই তিন অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরাই জয় পেয়েছেন। তবে এবার আবার সেই পুরোনো ধারা ফেরার জোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, রিপাবলিকানদের জন্য হতাশাজনক এই পরিস্থিতিতেও ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর স্বভাবসুলভ সংশয় ছড়ানোর কাজটি করে যাচ্ছেন। গতকাল শনিবার পেনসিলভানিয়ায় সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নির্বাচনী কে জয়ী হলো তা জানতে জনগণকে চার সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে। এটি খুবই বাজে বিষয়। সবচেয়ে বাজে ব্যাপার হলো, নির্বাচনের বেশ কয়েক দিন পরও ব্যালট গণনা করা হবে।

বিজ্ঞাপন

শুধু তাই নয়, গত নির্বাচনে যে শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদের পালে হাওয়া দিয়ে এবং রক্ষণশীল ধারণা উসকে দিয়ে জয় পেয়েছিলেন, সেই একই কার্ড এবারও খেলছেন ট্রাম্প। কিন্তু তাতেও তেমন কাজ হচ্ছে না। বিশেষত ফ্লোরিডায় গত চার বছরে হিস্পানিক ভোটারদের দলে টানায় কিছুটা সাফল্য পেলেও শিক্ষিত শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে দলের ও নিজের জনপ্রিয়তাকে তলানিতে নিয়ে গেছেন তিনি। অশ্বেতাঙ্গ ভোটারদের মধ্যে তিনি জনপ্রিয়তা হারিয়েছেন। তরুণদের মধ্যে আগেও তিনি জনপ্রিয় ছিলেন না। ভিত হিসেবে যে বয়স্ক ভোটাররা ছিলেন, তাদের অনেককেও তিনি এই চার বছরে হারিয়েছেন। আর এই অংশগুলোর সমর্থন বেশ ভালোভাবেই আদায় করেছেন বাইডেন।

উইসকনসিনের দিকে তাকালে বিষয়টি অনেকটা বোঝা যাবে। নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা কলেজ পরিচালিত জরিপের তথ্যমতে, ২০১৬ সালে অঙ্গরাজ্যটির যেসব ভোটার ভোট দেননি তাঁদের মধ্যে বাইডেন সমর্থনের দিক থেকে ট্রাম্প থেকে ১৯ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন। ফ্লোরিডায়ও অনুরূপ ভোটারদের মধ্যে বাইডেন ট্রাম্প থেকে ১৭ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। অ্যারিজোনা ও পেনসিলভানিয়ায় এ ব্যবধান যথাক্রমে ৭ ও ১২ শতাংশ পয়েন্ট। শুধু তাই নয়, ফ্লোরিডা ও অ্যারিজোনায় সম্ভাব্য ভোটার হয়েও ২০১৬ সালের নির্বাচনে ভোট দেননি এমন ভোটারদের দুই-তৃতীয়াংশই এবার ভোট দিয়েছেন। পেনসিলভানিয়া ও উইসকনসিনে এ হার যথাক্রমে ৫৬ ও ৩৬ শতাংশ।

মন্তব্য পড়ুন 0