ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জো বাইডেনের মধ্যে উত্তপ্ত বিতর্ক চলে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জো বাইডেনের মধ্যে উত্তপ্ত বিতর্ক চলে। ছবি: রয়টার্স

প্রথম প্রেসিডেনশিয়াল বিতর্কের অভিজ্ঞতা খুব একটা ভালো না হলেও এতে ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী জো বাইডেনই জয়ী হয়েছেন বলে মনে করেন অধিকাংশ দর্শক। টেলিভিশনে সরাসরি বিতর্ক দেখেছেন এমন দর্শকদের মধ্যে পরিচালিত জরিপের ভিত্তিতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানায়, ৬০ শতাংশ দর্শকের দৃষ্টিতে বাইডেনই জয়ী হয়েছেন। বিপরীতে ট্রাম্পকে বিজয়ী মনে করেন মাত্র ২৮ শতাংশ দর্শক।

একইভাবে সিবিএস নিউজের আরেক জরিপেও উঠে এসেছে, প্রথম বিতর্কে বাইডেনই জয়ী হয়েছেন। তবে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, তাদের জরিপে অংশ নেওয়া ভোটারদের অধিকাংশের দৃষ্টিতেই এই বিতর্ক ছিল নেতিবাচক।

বিতর্ক চলাকালে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন দর্শকদের সামনে রাখা প্রশ্নের মাধ্যমে তাঁদের মতামত জানার চেষ্টা করে। এ ক্ষেত্রে তারা এসএসআরএস প্রযুক্তি ব্যবহার করে। এতে দেখা যায়, সরাসরি বিতর্ক দেখেছেন—এমন ভোটারদের মধ্যে ৬০ শতাংশই মনে করেন, প্রথম নির্বাচনী বিতর্কে জো বাইডেন জয়ী হয়েছেন। আর ট্রাম্প জয়ী হয়েছেন বলে মনে করেন ২৮ শতাংশ ভোটার। এই ফল আগের নির্বাচনের সময় হিলারি ক্লিনটন ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে হওয়া প্রথম প্রেসিডেনশিয়াল বিতর্কের পর পরিচালিত জরিপের ফলের অনুরূপ বলা চলে। ২০১৬ সালের প্রথম প্রেসিডেনশিয়াল বিতর্কের পর পরিচালিত জরিপে ৬২ শতাংশ ভোটার হিলারি জয়ী হয়েছেন বলে মত দিয়েছিলেন। বিপরীতে ট্রাম্পকে বিজয়ী মনে করেছিলেন ২৭ শতাংশ ভোটার।

বিজ্ঞাপন
সিএনএনের জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে নির্দলীয় ভোটার হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন ৩৬ শতাংশ, সাধারণভাবে যা ৪০ শতাংশের মতো। শুধু তাই নয়, বিতর্কের দর্শকদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাই বেশি। সিএনএনের জরিপে অংশ নেওয়া নিবন্ধিত ভোটারদের ৩৯ শতাংশই ছিল ডেমোক্রেটিক পার্টির সমর্থক। অন্যদিকে ট্রাম্পের সমর্থক ছিল ২৫ শতাংশ

জরিপের ক্ষেত্রে সিএনএন বিতর্কের আগে যেসব ভোটারের মত নিয়েছিল, তাদের সঙ্গেই আবার যোগাযোগ করে। এসব ভোটারের ৫৬ শতাংশ জানান, বাইডেন আরও ভালো করবেন বলে তাঁরা আশা করেছিলেন। অন্যদিকে ট্রাম্প আরও ভালো করবেন বলে একই ধরনের প্রত্যাশা করেছিলেন বলে জানান ৪৩ শতাংশ ভোটার।

সিএনএন জানায়, বিতর্কে বাইডেন সত্য বলেছেন বলে মনে করেন ৬৫ শতাংশ ভোটার। ট্রাম্পের দেওয়া উত্তরগুলোকে সত্য বলেছেন ২৯ শতাংশ ভোটার। ট্রাম্পের ওপর বাইডেনের করা আক্রমণকে ন্যায্য বলে মনে করেন ৬৯ শতাংশ ভোটার। আর বাইডেনকে করা ট্রাম্পের আক্রমণকে ন্যায্য বলে মনে করেন ৩২ শতাংশ ভোটার।

এই জরিপকে সব মার্কিনির মতের প্রতিনিধিত্বকারী বলে মনে করা ঠিক হবে না বলে জানিয়েছে সিএনএন। সংবাদমাধ্যমটি জানায়, বিতর্কটি যারা দেখেছেন, তাঁদের মধ্যে শুধু ৫৬৮ জন নিবন্ধিত ভোটারের মতই এই জরিপে গ্রহণ করা হয়েছে। বিতর্কটি সরাসরি যারা দেখেছেন, তাঁরা অন্য মার্কিন ভোটারদের তুলনায় একটু বেশি রাজনীতি সচেতন। এদের অধিকাংশই কোনো না কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত বা কোনো একটি দলের কট্টর সমর্থক। সাধারণ মার্কিনদের মধ্যে এ ধরনের ভোটারের সংখ্যা এতটা বেশি নয়। সিএনএনের জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে নির্দলীয় ভোটার হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন ৩৬ শতাংশ, সাধারণভাবে যা ৪০ শতাংশের মতো। শুধু তাই নয়, বিতর্কের দর্শকদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাই বেশি। সিএনএনের জরিপে অংশ নেওয়া নিবন্ধিত ভোটারদের ৩৯ শতাংশই ছিল ডেমোক্রেটিক পার্টির সমর্থক। অন্যদিকে ট্রাম্পের সমর্থক ছিল ২৫ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন
default-image

জরিপে দেখা গেছে, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে জো বাইডেনের ওপর বেশিসংখ্যক মানুষ আস্থা রাখছে। জাতিগত বৈষম্যের বিষয়ে বাইডেনের ওপর আস্থা রাখছেন ৬৬ শতাংশ ভোটার। ট্রাম্পের ওপর একই বিষয়ে আস্থা রাখছেন ২৯ শতাংশ ভোটার। স্বাস্থ্য সুরক্ষা খাতে বাইডেন ও ট্রাম্পের ওপর ভোটার আস্থার হার যথাক্রমে ৬৬ ও ৩২ শতাংশ। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় বাইডেন ও ট্রাম্পের ওপর ভোটার আস্থার হার যথাক্রমে ৬৪ ও ৩৪ শতাংশ। আর সর্বশেষ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মনোনয়নের বিষয়েও বাইডেনের ওপরেই বেশি আস্থা রাখছেন ভোটাররা। এ ক্ষেত্রে বাইডেনের ওপর আস্থা রাখছেন ৫৪ শতাংশ ভোটার। আর ট্রাম্পের ওপর আস্থা রাখছেন ৪৩ শতাংশ ভোটার। তবে অর্থনীতির প্রশ্নে কিছুটা ভালো অবস্থায় রয়েছেন ট্রাম্প। এই ইস্যুতে তাঁর ওপর আস্থা রাখছেন ৪৮ শতাংশ ভোটার। একই বিষয়ে বাইডেনের আস্থা রাখছেন ৫০ শতাংশ ভোটার।

সরাসরি বিতর্ক দেখেছেন—এমন নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে ৬৩ শতাংশ মনে করেন, ভবিষ্যতের সংকট মোকাবিলায় বাইডেনের হাতে যথার্থ পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ওপর আস্থা রাখছেন ৩০ শতাংশ ভোটার। এই বিবেচনায় বাইডেন ও ট্রাম্পকে সেরা নেতা মনে করেন যথাক্রমে ৫৫ ও ৪৩ শতাংশ ভোটার।

তবে বিতর্কে যে যেমনই করুন না কেন, তাতে অধিকাংশ ভোটারই মত পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখছেন না বলে জানিয়েছেন। সিএনএনের জরিপের তথ্যমতে, জরিপে অংশ নেওয়া ভোটারদের ৫৭ শতাংশই জানিয়েছেন, বিতর্কের কারণে তাঁদের মত বদলাবে না। যাদের মত বদল হতে পারে, তাঁদের ৩২ শতাংশ জানিয়েছেন তাঁরা বাইডেনের দিকে ঝুঁকছেন। বিপরীতে একইভাবে ট্রাম্পের দিকে ঝোঁকার প্রবণতা রয়েছে ১১ শতাংশ ভোটারের।

বিজ্ঞাপন
জরিপে অংশ নেওয়া ভোটারদের ৫৭ শতাংশই জানিয়েছেন, বিতর্কের কারণে তাঁদের মত বদলাবে না। যাদের মত বদল হতে পারে, তাঁদের ৩২ শতাংশ জানিয়েছেন তাঁরা বাইডেনের দিকে ঝুঁকছেন। বিপরীতে একইভাবে ট্রাম্পের দিকে ঝোঁকার প্রবণতা রয়েছে ১১ শতাংশ ভোটারের

অন্যদিকে সিবিএস নিউজের জরিপের তথ্য বলছে, সম্ভাব্য ভোটার—এমন ৮৩ শতাংশ দর্শকই মনে করেন বিতর্কটি ছিল নেতিবাচক। এই দর্শকেরা এমন একটি বিতর্ক দেখে বিরক্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। প্রথম বিতর্কে জো বাইডেন জয়ী হয়েছেন বলে মনে করেন ৪৮ শতাংশ দর্শক। আর ট্রাম্পকে জয়ী মনে করেন ৪১ শতাংশ দর্শক।

খুবই অল্পসংখ্যক ভোটারের দৃষ্টিতে প্রথম প্রেসিডেনশিয়াল বিতর্কটি ছিল তথ্যবহুল। সিবিএস নিউজের তথ্যমতে, সরাসরি বিতর্ক দেখেছেন এমন ভোটারদের মাত্র ১৭ শতাংশ একে তথ্যবহুল হিসেবে মন্তব্য করেছেন। বিতর্কটি অধিকাংশ ভোটারের মনে বিরক্তির উদ্রেক করলেও দর্শকদের এক-তৃতীয়াংশকে এটি হাস্যরসও উপহার দিয়েছে। আর একেবারে হতাশ হয়েছেন ১৯ শতাংশ।

বিতর্কে ডেমোক্র্যাটদের মন ভরাতে পেরেছেন বাইডেন। সরাসরি বিতর্ক দেখেছেন এমন ডেমোক্র্যাটদের ৯২ শতাংশই মনে করেন, বাইডেন এতে জয়ী হয়েছেন। এ ক্ষেত্রে ট্রাম্প পিছিয়ে রয়েছেন। রিপাবলিকান দর্শকদের ৮২ শতাংশ বিতর্কে ট্রাম্প জয়ী হয়েছেন বলে মনে করেন। আর বিতর্কটি ড্র হয়েছে বলে মনে করেন ১৩ শতাংশ রিপাবলিকান।

গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেনশিয়াল বিতর্ক চলাকালে সিবিএস নিউজে নিজেদের অভিমত জানানো ১ হাজার ৩৯ জন দর্শকের মতামতের ভিত্তিতে তৈরি করা হয় সিবিএস নিউজের এই জরিপ। গত ২৫-২৮ সেপ্টেম্বর সময়ে ইউগভ পরিচালিত একটি জরিপে অংশগ্রহণকারীদের একটি অংশ এই জরিপে অংশ নেন। সিবিএসের এই জরিপে অংশ নেওয়া ডেমোক্র্যাটদের তিন-চতুর্থাংশ জানিয়েছেন, বিতর্কের পর তাঁদের বাইডেনকে আরও বেশি পছন্দ হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিতর্কের পর ট্রাম্পের প্রতি আকর্ষণ বেড়েছে ৫২ শতাংশ রিপাবলিকানের। খুবই অল্পসংখ্যক ব্যক্তি নিজেদের মত পরিবর্তনের কথা জানিয়েছেন।

মন্তব্য পড়ুন 0