default-image

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ১ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন ডলারের করোনাভাইরাস রিলিফ প্ল্যান প্রস্তাব কংগ্রেসের দুই কক্ষে অনুমোদন পেয়েছে। এটি প্রেসিডেন্টর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য হোয়াইট হাউসে পাঠানো হয়েছে। আজ শুক্রবারই এতে স্বাক্ষর করতে পারেন প্রসিডেন্ট জো বাইডেন। আশা করা হচ্ছে, আসছে সপ্তাহ থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ জনপ্রতি ১ হাজার ৪০০ ডলার করে নগদ অর্থ প্রণোদনা

পেতে শুরু করবেন। জনগণের কাছে প্রণোদনার নগদ অর্থ পৌঁছে দেওয়া সব ব্যবস্থা আগে থেকেই ঠিক করে রাখা হয়েছে।

এক বছরের বেশি সময় থেকে করোনা মহামারিতে নাজুক হওয়া আমেরিকার জনগণ তৃতীয়বারের মতো সরকারের কাছ থেকে নগদ অর্থ পাচ্ছেন।

কংগ্রেস ও সিনেটে পাশ হওয়ার পর করোনা রিলিফ আইনে স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি ও সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা চার্লস শুমার স্বাক্ষর করেছেন। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আজ শুক্রবার বিলটিতে স্বাক্ষর করতে পারেন বলে জানানো হয়েছে।

১০ মার্চ প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, টিকার প্রয়োগের মাধ্যমে মহামারি মোকাবিলা করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে চাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনাই এখন সবচেয়ে অগ্রাধিকারের বিষয়। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার আইন নামে করোনা প্রণোদনা আইন পাশ হওয়াকে একটি ঐতিহাসিক অর্জন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাইডেন বলেন, নতুন এই প্রণোদনা আইনে জনগণকে সহযোগিতার জন্য সব ধরনের আয়োজন রয়েছে বলে প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেন। ব্যক্তিবিশেষকে সরাসরি সহযোগিতাসহ টিকাদান এবং অর্থনীতিতে চাঞ্চল্য নিয়ে আসার সব উপাদান রয়েছে এই প্রণোদনা আইনে।

১ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন করোনাভাইরাস প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নের ফলে বেশির ভাগ মার্কিন নাগরিক জনপ্রতি ১ হাজার ৪০০ ডলার করে সহযোগিতা পেতে পারে। এই বিলটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ এবং সিনেটে যথেষ্ট পরিমাণে সংশোধন ও ব্যবচ্ছেদ হয়েছে। তাই এই বিলটি নিয়ে মানুষের মধ্যে সংশয় থাকতে পারে।

তবে বাইডেন প্রশাসন মানুষের সেই সংশয় দূর করতে সংবাদ মাধ্যমে তথ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত শনিবারে প্রেসিডেন্ট বাইডেন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, এই মাসে অর্থ প্রদান করা শুরু হবে।

বিজ্ঞাপন

আবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব জেন সাকি ৮ মার্চ সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমান প্রশাসন আশা করে, বিপুলসংখ্যক মার্কিন মার্চ মাস শেষের আগেই চেক পাওয়া শুরু করবে।

প্রেসিডেন্ট আর হোয়াইট হাউসের প্রেসসচিবের বক্তব্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, আগামী কিছুদিনের মধ্যে সরাসরি আমানতের মাধ্যমে অনেকের কাছে উদ্দীপনার অর্থ পৌঁছে যেতে পারে। এর কয়েক দিন পর মেইলের মাধ্যমে জনগণের কাছে অর্থ পৌঁছে যাবে।

আইনের বলা হয়েছে, প্রথম দুই দফার উদ্দীপনা প্যাকেজের মতো, যেসব ব্যক্তির বার্ষিক আয় ৭৫ হাজার ডলার পর্যন্ত এবং যেসব বিবাহিত দম্পতিদের বার্ষিক আয় ১ লাখ ৫০ হাজার পর্যন্ত, তারাই বাইডেনের সহযোগিতা প্যাকেজের অর্থ পাবেন। এই আয়সীমার মধ্যে যারা অবিবাহিত এবং আয়করদাতা, আইনে তাদের প্রত্যেকের জন্য ১ হাজার ৪০০ ডলার এবং বিবাহিত যুগলের জন্য ২ হাজার ৮০০ ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আয়করদাতার সন্তানদেরও ১ হাজার ৪০০ ডলার করে দেওয়া হবে। কিন্তু যেসব ব্যক্তির ব্যক্তিগত বার্ষিক আয় ৮০ হাজার ডলারের বেশি বা বিবাহিত দম্পতিদের বার্ষিক আয় ১ লাখ ৬০ হাজারের বেশি তারা কোনো অর্থ পাবে না।

কীভাবে এই অর্থ দেওয়া হবে?

আগামী কিছুদিনের মধ্যে সরাসরি আমানত বা সরাসরি ডিপোজিটের মাধ্যমে অনেকের কাছে উদ্দীপনার অর্থ পৌঁছে যাবে। গত আয়কর ফাইলের সময় যারা তাদের ব্যাংকের তথ্য জমা দেননি, তাদের সবাইকে মেইলের মাধ্যমে উদ্দীপনার চেক পাঠানো হবে।

কোনো বছরের আয়করের রিটার্নের ভিত্তিতে অর্থ দেওয়া হবে?

এই বিলের মাধ্যমে আইআরএসকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, প্রাথমিকভাবে মার্কিনদের ২০১৯ সালের আয়কর রিটার্নকে প্রাধান্য দিতে হবে। তবে কেউ যদি ইতিমধ্যে এই বছরের ফাইল করে ফেলে, তাহলে তাদের ২০২০ সালের রিটার্নের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে অর্থ দিতে হবে।

এদিকে যারা এখন পর্যন্ত উদ্দীপনার একটি বা কোনো চেক পায়নি, তারা তাদের ২০২০ সালের আয়কর রিটার্ন করার সময় ‘পুনরুদ্ধার রিবেট ক্রেডিট’ দাবি করতে পারে। এতে তারা আগের উদ্দীপনার অর্থ ফিরে পাবে।

নতুন প্রণোদনা আইনে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মজীবীদের বেকারভাতা পাওয়ার মেয়াদ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। নিয়মিত বেকারভাতার সঙ্গে সপ্তাহে অতিরিক্ত ৩০০ ডলার করে পাবেন বেকার কর্মজীবীরা। নিয়মিত বেকার ভাতার সঙ্গে সপ্তাহে ৪০০ ডলার করে দেওয়ার প্রস্তাব থাকলেও শেষ মুহূর্তে সমঝোতার ভিত্তিতে পাশ হওয়া আইনে তা সপ্তাহে ৩০০ ডলার করা হয়েছে। বেকারভাতা হিসেবে পাওয়া ১০ হাজার ২০০ ডলারের ওপর কর আরোপ করা হবে না বলে নতুন প্রণোদনা আইনে বলা হয়েছে।

অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিশুদের জন্য ৩ হাজার ডলারের এবং ছয় বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য ৩ হাজার ৬০০ ডলারের কর রেয়াত পাওয়া যাবে। নতুন প্রণোদনা আইনে ঘর ভাড়া দিতে অক্ষম মানুষসহ স্কুল, স্বাস্থ্য বিভাগ, নগর, রাজ্য সরকারসহ সামাজিক নিরাপত্তার বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার কথা রয়েছে।

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ক্ষমতায় আসার ১০০ দিনের মধ্যেই নাগরিক প্রণোদনার এই আইন প্রণয়ন করাকে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করছেন ডেমোক্রেটিক দল ও উদারনৈতিক ঘরানার ব্যক্তিরা।

কংগ্রেসে এই প্রণোদনা প্রস্তাবের পক্ষে কোনো রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা ভোট দেননি। টানা এক মাসের বেশি সময়ের সমঝোতা প্রচেষ্টার পরও দলীয় অবস্থান থেকেই ২২০-২১১ ভোটে কংগ্রেসে ‘আমেরিকা পুনরুদ্ধার আইন’ পাশ হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন