default-image

যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রথমবারের মতো কোনো নারীকে পেন্টাগনের প্রধান হিসেবে মনোনয়ন দিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে পেন্টাগনের অভিজ্ঞ উদারনৈতিক কর্মকর্তা মিশেল ফ্লাওয়ারনয় হতে পারেন প্রথম পছন্দ। বার্তা সংস্থা এপির বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি এ কথা জানিয়েছে।

সিএনবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, পেন্টাগনের ইতিহাসে গত চার বছর ছিল সবচেয়ে অস্থির সময়। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এই মেয়াদকালে পেন্টাগনের প্রধান হিসেবে দায়িত্বে এসেছেন পাঁচজন। সর্বশেষ এই পদ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে মার্ক এসপারকে। নাগরিক বিক্ষোভ দমাতে সামরিক শক্তি প্রয়োগসহ ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের বিপরীতে অবস্থান নেওয়ায় তাঁকে সরে যেতে হলো।

মিশেল ফ্লাওয়ারনয় যদি শেষ পর্যন্ত এই পদে মনোনীত হন, তবে তাঁকে শুরুতেই বেশ কিছু ঝক্কি সামলাতে হবে। কারণ, করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন বিতরণে সেনা সদস্যদের কাজে লাগাতে হবে তাঁকে। আবার এই কাজ করতে হবে সংকুচিত বাজেট নিয়েই।

জো বাইডেনের উপদেষ্টাদের একজনের বরাত দিয়ে সিএনবিসি জানায়, ডেমোক্র্যাটরা অনেক আগে থেকেই গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে নারীদের নিয়োগ দিতে চাইছে। বিশেষত যেসব পদে নারীরা এর আগে কখনো আসেননি, সেসব পদে তাঁদের নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা অনেক আগের। ২০১৬ সালে হিলারি ক্লিনটন জয়ী হলে মিশেল ফ্লাওয়ারনয়কে পেন্টাগনের প্রধান হিসেবে আনার পরিকল্পনা ছিল। এ কারণে বাইডেনের সম্ভাব্য মন্ত্রিসভায় ফ্লাওয়ারনয়ের থাকাটা এক রকম নিশ্চিত ধরা যায়।

বিজ্ঞাপন
ফ্লাওয়ারনয় সম্পর্কে সাবেক দুই তারকাবিশিষ্ট ম্যারিন জেনারেল আর্নল্ড পুনারো সিএনবিসিকে বলেন, পেন্টাগনকে নেতৃত্ব দেওয়ার অবিশ্বাস্য রকমের যোগ্যতা রয়েছে ফ্লাওয়ারনয়ের

মিশেল ফ্লাওয়ারনয় ১৯৯০ সালে পেন্টাগনের সঙ্গে যুক্ত হন। সর্বশেষ ২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত আন্ডারসেক্রেটারি অব ডিফেন্স ফর পলিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হলে উদারনৈতিক হিসেবে পরিচিত ৫৯ বছর বয়সী ফ্লাওয়ারনয় জরুরি বিভিন্ন বিষয়ে দ্বি–দলীয় সমঝোতার দিকেই তাকিয়ে থাকবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

ফ্লাওয়ারনয় বরাবরই মার্কিন পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষানীতি নিয়ে সতর্ক। বিশেষত গত বছর এ নিয়ে তিনি প্রচুর কথা বলেছেন। সর্বশেষ গত মার্চে তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ প্রশাসন ট্রাম্প বা বাইডেন যার হাতেই যাক না কেন, তার অন্যতম লক্ষ্য হওয়া উচিত—যুক্তরাষ্ট্র নির্ভরযোগ্য মিত্র নয়, এমন ধারণার বদল ঘটাতে সচেষ্ট হওয়া। কিন্তু এটি সহজে বা রাতারাতি হবে না। বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে বহু বছর ধরে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি তাড়াহুড়ো করে খুব বড় কোনো পরিবর্তন আনার পক্ষেও নয়। তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বাজে প্রবণতা হলো প্রশাসন ও প্রশাসনে থাকা দল পরিবর্তন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সবকিছু বদলে ফেলা। ক্ষমতা নিয়েই পূর্ববর্তী সব কাজকে ভুল সাব্যস্ত করে বড় ধরনের ভুলের দিকে পা বাড়ানো হয়।’

ফ্লাওয়ারনয় সম্পর্কে সাবেক দুই তারকাবিশিষ্ট ম্যারিন জেনারেল আর্নল্ড পুনারো সিএনবিসিকে বলেন, পেন্টাগনকে নেতৃত্ব দেওয়ার অবিশ্বাস্য রকমের যোগ্যতা রয়েছে ফ্লাওয়ারনয়ের।

শুধু প্রতিরক্ষামন্ত্রীই নয়, আরও কিছু পদের বিষয়েও গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। সিএনবিসি জানায়, ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) প্রধান হিসেবে সাবেক ডিএইচএস প্রধান জেহ জনসনের নাম শোনা গেলেও বৈচিত্র্যপূর্ণ মন্ত্রিসভা গঠনে বাইডেনের প্রতিশ্রুতির কথা মাথায় রাখলে এ পদেও কোনো নারীই শেষ পর্যন্ত আসতে পারেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ও ভেটেরান অ্যাফেয়ার্সে এখন পর্যন্ত কোনো নারী মন্ত্রী হিসেবে বসেননি। সেদিক থেকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসেবে মিশেল ফ্লাওয়ারনয় শেষ পর্যন্ত নিয়োগ পেলে নিশ্চিতভাবেই একটা ইতিহাস সৃষ্টি হবে।

কথা হলো প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব ফ্লাওয়ারনয় পেলে কী হবে? সিএনবিসি জানায়, অভিজ্ঞ ওই নারী সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জিম ম্যাটিস ও মার্ক এসপারের মতোই যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিপক্ষ হিসেবে মনে করেন চীনকে। একই সঙ্গে বিদেশে মার্কিন সামরিক উপস্থিতিরও সমর্থক তিনি। মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনাদের সরিয়ে আনার বিরুদ্ধে ছিলেন তিনি। আফগানিস্তানের পরিস্থিতি পুরোপুরি ঠিক না হওয়া পর্যন্ত সেখানে সীমিত পরিসরে সেনা উপস্থিতি রাখারও পক্ষে তিনি। উত্তর কোরিয়ার বিষয়ে পরমাণু অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণকেই যাবতীয় আলোচনার শুরুতে রাখতে চান তিনি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0