করোনাভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানকে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তার অংশ হিসেবে ফেডারেল প্রশাসন ‘পে-চেক প্রোটেকশন প্রোগ্রাম’ তথা পিপিপি কর্মসূচিতে নামমাত্র সুদে বিপুল পরিমাণের ঋণ দিচ্ছে। এই ঋণের অর্থ পরিশোধের প্রয়োজন হবে না, যদি বেকার কর্মচারীদের চাকরিতে পুনর্বহাল করা হয় এবং বকেয়া ভাড়া/মর্টগেজ নিয়মিত পরিশোধ করা হয়। এই পরিক্রমা যথাযথভাবে অনুসরণের জন্য দুবছর সময় ধার্য করা হয়েছে।

গত ২৯ মার্চ কংগ্রেসে পাশ হওয়া ‘করোনাভাইরাস এইড, রিলিফ, অ্যান্ড ইকোনমিক’ (কেয়ারস অ্যাক্ট) বিল থেকে পিপিপি খাতে প্রথম পর্যায়ে ৩৪৯ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়। এই অর্থ ফুরিয়ে গেলে এপ্রিলে দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ৩০০ বিলিয়ন ডলার মঞ্জুর করে ফেডারেল প্রশাসন। করোনার কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকেই বেশ সহজ পদ্ধতিতে এই খাতে নামমাত্র সুদে অর্থ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

আর এই সুযোগেই টেক্সাসের ডালাস সিটিতে বসবাসরত দীনেশ সাহ (৫৫) ১৫টি কোম্পানির নামে আবেদন করেন ২৪ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলারের। এর মধ্যে উত্তোলন করেছেন ১৭ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার। মার্কিন বিচার বিভাগের মুখপাত্র সম্প্রতি এই তথ্য জানিয়ে বলেন, দীনেশকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কারণ, ১৫টি কোম্পানির একটিরও অস্তিত্ব ছিল না। করোনা রিলিফ বিল পাশের পরই কাগজে–কলমে কোম্পানির উদ্ভব ঘটে। কোম্পানির সমর্থনে যত কাগজ ব্যাংকে সরবরাহ করা হয়েছে, সেগুলোও জাল। এমনকি আয়কর জমা দেওয়ার কাগজও জাল করেছেন দীনেশ শাহ।

বিজ্ঞাপন

বিচার বিভাগের পক্ষে ইউএস অ্যাটর্নি ইরিন নীলি কক্স ৯ অক্টোবর আরও বলেন, দীনেশকে গ্রেপ্তারের পর সাড়ে ৬ মিলিয়ন ডলার উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাকি অর্থের বড় একটি অংশ তিনি নিজের দেশে পাচার করেছেন। আর কিছু অর্থে টেক্সাসে বিলাসবহুল গাড়ি কিনেছেন দীনেশ।

মামলা সূত্র জানা গেছে, ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রশাসনে যেসব ব্যবসার বিপরীতে ঋণের আবেদন করা হয়, সেগুলোতে শত শত কর্মচারী কাজ করতেন বলে দীনেশ দাবি করেছিলেন। করোনার কারণে সবাই বেকার হয়ে পড়েছেন। এসব কর্মচারীকে নিয়মিত বেতন দেওয়ার প্রমাণ হিসেবে দীনেশ আয়কর রিটার্নের যেসব নথিপত্র জমা দিয়েছেন, তার সবকটিই ভুয়া। অর্থাৎ দীনেশ শাহ কখনোই কোন ব্যবসা করেননি। তদন্ত কর্মকর্তারা হঠাৎ করে দীনেশকে দামি গাড়ি হাঁকিয়ে চলাচল করতে দেখে বিস্মিত হয়েছেন। বেশ কটি বাড়িও কিনেছেন গত মে-জুন মাসে।

আইআরএস এজেন্ট টামিরা সেন্টু এই মামলার উদ্ধৃতি দিয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, করোনায় বিপর্যস্ত ব্যবসাকে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তার লক্ষ্যে সরকার বিশেষ এই ব্যবস্থা চালু করেছে। কর্মচারীরা বকেয়া বেতনসহ সামনের দুবছর পর্যন্ত কাজ করতে সক্ষম হবেন অর্থাৎ সবাই খেয়ে-পরে যাতে বাঁচতে পারেন—এ জন্যই পিপিপি কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। অথচ দীনেশের মতো দুষ্ট লোকেরা সেই সুযোগের অপব্যবহার করেছে। বিচারে দোষী সাব্যস্ত হলে এ ঘটনায় তাকে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে।

বিজ্ঞাপন

এর আগে ওয়াশিংটন ডিসি এলাকায় আরেক বাংলাদেশি দম্পতি একইভাবে গত জুনে দেড় মিলিয়ন ডলার উত্তোলন করে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগের প্রাক্কালে জেএফকে এয়ারপোর্টে গ্রেপ্তার হন। যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে দুই হাজারের বেশি মানুষ পিপিপি কর্মসূচিতে ভুয়া ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নামে মোটা অঙ্কের ঋণ উত্তোলন করেছেন—এমন অভিযোগে কর্তৃপক্ষ তদন্ত চালাচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয়, আয়কর বিভাগ ও এফবিআই এসব তদন্ত করছে।

এ ছাড়া প্রায় সাত লাখ মানুষ বেকার ভাতা নিচ্ছেন, যারা প্রকৃত অর্থে বেকার নন—এমন অভিযোগেরও তদন্ত চালাচ্ছে আইআরএস ও স্টেট ডিপার্টমেন্ট। বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে এসব তদন্তে সর্বসাধারণের আন্তরিক সহায়তা চাওয়া হয়েছে। কাউকে সন্দেহ হলে নির্ধারিত ফোন নম্বরে ‘ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজাস্টার ফ্রড’–এর হটলাইনে জানানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।

মন্তব্য পড়ুন 0