default-image

জাতিসংঘে বিভিন্ন দেশের মিশনের স্থায়ী প্রতিনিধি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা বলেছেন, গত পাঁচ দশকে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব অগ্রগতি সাধন করেছে এবং উন্নয়নের বিস্ময়ে পরিণত হয়েছে।

গত ২৬ মার্চে আন্তর্জাতিক আবহে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন আয়োজিত বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উৎসব উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানে অতিথিরা এ কথা বলেন। জাতিসংঘ সদর দপ্তরের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর স্থায়ী প্রতিনিধি, জাতিসংঘের সংস্থাসমূহ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাসহ বিপুলসংখ্যক বিদেশি কূটনীতিক বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যোগ দেন। অনুষ্ঠানটির মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পর্ব ও র‍্যাফেল ড্র আয়োজনে ভিন্নমাত্রা যোগ করে।

স্বাগত বক্তব্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা। তিনি মুক্তিযুদ্ধের ত্রিশ লাখ শহীদের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তাঁদের সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি বহু কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রদত্ত বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী ভাষণের কথা স্মরণ করে স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, এই ভাষণই পরবর্তীতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির গতিপথ নির্ধারণ করেছিল।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্ব ও উন্নয়ন কৌশলের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত ফাতিমা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বের দ্রুত বর্ধমান অর্থনীতির একটি দেশে উন্নীত হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে সিডিপি বাংলাদেশকে চূড়ান্তভাবে এলডিসি ক্যাটাগরি থেকে উত্তরণের অনুমোদন দিয়েছে।

গত পাঁচ দশকে বাংলাদেশ যে বিস্ময়কর অগ্রগতি সাধন করেছে, তা প্রদত্ত ভিডিও বার্তায় উল্লেখ করেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেজ। বিশেষকরে সামাজিক উন্নয়ন, দুর্যোগ প্রস্তুতি ও মোকাবিলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাফল্যের কথা উল্লেখ করেন তিনি। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অমূল্য অবদানের কথা তুলে ধরেন গুতেরেজ।

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা, শান্তির সংস্কৃতি এজেন্ডা এবং মানবিকতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অসামান্য অবদানের কথা বক্তব্যে তুলে ধরেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ভলকান বজকির। বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দানের জন্য তিনিও বাংলাদেশের উদারতার প্রশংসা করেন।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত মরক্কো, আয়ারল্যান্ড, বার্বাডোজ, ব্রুনেই দারুসসালাম, ওমান, সিয়েরা লিওন, জাপান, ভারত ও সৌদি আরবের স্থায়ী প্রতিনিধিরা। বক্তৃতা করেন জাতিসংঘের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল, ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ও ইউএনডিপির প্রশাসক।

এর আগে সকালে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সুবর্ণ জয়ন্তী উদ্‌যাপনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সকালের পর্বে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের পবিত্র আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এরপর দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। এ ছাড়া স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেজের ভিডিওবার্তা প্রদর্শন করা হয়। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় উন্মুক্ত আলোচনা পর্ব। সকালের অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন