default-image

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষদের সুখবর দিয়েছেন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশের ন্যূনতম মজুরির সীমা ঘণ্টায় ১৫ ডলারে উন্নীত করে আরও সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

১৭ নভেম্বর এক টুইট বার্তায় জো বাইডেন বলেছেন, ক্ষমতা গ্রহণ করে দেশের ন্যূনতম মজুরির সীমা ১৫ ডলারের উন্নীত করার পাশাপাশি আরও সুযোগ-সুবিধা ও সম্মিলিত দর-কষাকষির অধিকার নিয়ে কাজ করব। যাতে আপনারা পরিবারকে আরেকটু বাড়তি সুবিধা দিতে পারেন। এতে দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণি আগের চেয়ে আরও ভালো অবস্থানে থাকবে।

ক্ষমতা গ্রহণ করে দেশের ন্যূনতম মজুরির সীমা ১৫ ডলারের উন্নীত করার পাশাপাশি আরও সুযোগ-সুবিধা ও সম্মিলিত দর-কষাকষির অধিকার নিয়ে কাজ করব। যাতে আপনারা পরিবারকে আরেকটু বাড়তি সুবিধা দিতে পারেন। এতে দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণি আগের চেয়ে আরও ভালো অবস্থানে থাকবে
জো বাইডেন

এর আগে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, জো বাইডেনের অর্থনৈতিক নীতিমালার স্লোগান হচ্ছে-‘বিল্ড ব্যাক বেটার’। নির্বাচনী প্রচারের সময় জো বাইডেন দেশের ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ১৫ ডলারে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এ ছাড়া করোনাভাইরাসের তাৎক্ষণিক ধাক্কা সামাল দিতে যত অর্থের প্রয়োজন তত অর্থ খরচ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এসবের মধ্যে রয়েছে ছোট খাটো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেওয়া এবং পরিবারগুলোকে নগদ অর্থ সাহায্য প্রদান। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সামাজিক নিরাপত্তা হিসেবে প্রতি মাসে তিনি আরও ২০০ ডলার করে দেওয়ার প্রস্তাবসহ শিক্ষার্থীদের ১০ হাজার ডলার ঋণ মওকুফের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় আট বছর আগে ঘণ্টায় ন্যূনতম মজুরি ১৫ ডলার করার দাবি ওঠে। তখন নিউইয়র্কে রেস্তোরাঁর কর্মীরা মজুরি বৃদ্ধি এবং একটি ইউনিয়ন গঠনের দাবিতে ধর্মঘট করেছিলেন। সেই দাবিতে সারা দেশের কর্মীরা সোচ্চার হয়ে ওঠেন। পরে নিউইয়র্কসহ বেশ কিছু অঙ্গরাজ্যে নানা শর্তে ধাপে ধাপে ন্যূনতম মজুরি ১৫ ডলারে উন্নীত করা হয়। এর মধ্যে ২০১৯ সালে ১১ জনের বেশি কর্মী রয়েছেন এমন প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ঘণ্টাপ্রতি ন্যূনতম মজুরি ১৩ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১৫ ডলার করে নিউইয়র্ক কর্তৃপক্ষ। সব প্রতিষ্ঠানে এ হার কার্যকর হয়নি। শুরুতে ডানকিন ডোনাটের মতো জনপ্রিয় ফুড চেইনগুলোসহ কয়েকটি খাতে মজুরির এ হার কার্যকরের ঘোষণা দেওয়া হয়। এ ঘোষণায় স্বাভাবিকভাবেই নিম্ন আয়ের মানুষ উচ্ছ্বসিত হয়। তবে দেশের সব অঙ্গরাজ্য ও সব খাতে ন্যূনতম মজুরি ১৫ ডলারে উন্নীত করা হয়নি। এ কারণে চাপা ক্ষোভ ও অসন্তোষও ছিল শ্রমিকদের ভেতর। এবার হয়তো বাইডেনের এই ঘোষণা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলবেন।

মন্তব্য পড়ুন 0