default-image

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের ফল নিয়ে সংকট কাটছেই না। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেকে এখনো ‘জয়ী’ বলেই দাবি করে আসছেন। এখানেই তিনি থামছেন না। আশঙ্কাকে সত্য প্রমাণ করে ব্যাটলগ্রাউন্ড হিসেবে পরিচিত কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত আইনসভাকে নির্বাচনের ফল বদলে দিতে পদক্ষেপ গ্রহণে উৎসাহিত করছেন।

বরাবরের মতোই কোনো প্রমাণ ছাড়াই ট্রাম্প বলেছেন, ‘জো বাইডেন এত দ্রুত মন্ত্রিসভা গঠন করতে চাইছেন কেন, যখন আমার তদন্তকারীরা লাখো ভুয়া ভোটের হদিস পেয়েছে, যা অন্তত চারটি অঙ্গরাজ্যের ফল বদলে দিতে পারে, যা নির্বাচনে জয়ের জন্য যথেষ্ট? নির্বাচন ও যুক্তরাষ্ট্রকে সমুন্নত রাখতে প্রয়োজনীয় সবকিছু করার সাহস আশা করি আদালত ও আইনসভার রয়েছে।’

মার্কিন পত্রিকা পলিটিকোর এ সম্পর্কিত বিশ্লেষণে বলা হয়, ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলে করা মামলায় একের পর এক পরাজয়ের পরও ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের অবস্থান থেকে নড়ছেন না। গতকাল শনিবার পেনসিলভানিয়ার আদালতে লাখো ভোট বাতিলের জন্য করা মামলায় ট্রাম্প শিবিরের আইনজীবীরা কোনো ধরনের প্রমাণ হাজির করতে পারেননি। এমনকি নির্বাচনে কোনো ধরনের অনিয়মেরও কোনো প্রমাণ তাঁরা দিতে পারেননি। ফলে পেনসিলভানিয়ার উইলিয়ামসপোর্টের আদালতের বিচারক ট্রাম্প শিবিরকে তীব্র ভর্ৎসনা করেন। তারপরও তাঁরা পিছু হটছেন না। ওই মামলায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রধান আইনজীবী রুডি জুলিয়ানি থার্ড সার্কিট কোর্টে আপিল করার, এমনকি প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ারও প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, নির্বাচন নিয়ে করা ট্রাম্পের মামলাগুলো একের পর এক মুখ থুবড়ে পড়ছে। এ কৌশলে তিনি ও তাঁর দল সুবিধা করতে পারবেন না বলেই মনে হচ্ছে। এ অবস্থায় ট্রাম্প শিবির নির্বাচনের ফল সরকারিভাবে ঘোষণার পথ রুদ্ধ করতে চাইছে। এরই মধ্যে পেনসিলভানিয়া, মিশিগান, অ্যারিজোনা ও জর্জিয়ার রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত আইনসভাকে ভোটের ফল বদলে তাঁকে ‘জয়ী’ ঘোষণা করার জন্য চাপ দিতে শুরু করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বিজ্ঞাপন
নিজের পক্ষে ভোটের ফল এনে দেওয়ার যে আহ্বান ট্রাম্প রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের প্রতি করেছেন, তার নজির নেই। জর্জিয়া এরই মধ্যে নির্বাচনের ফল সরকারিভাবে ঘোষণা করেছে। মিশিগান ও পেনসিলভানিয়ার ফলও সরকারিভাবে ঘোষণা করার দ্বারপ্রান্তে

পলিটিকো জানাচ্ছে, এখন পর্যন্ত অবশ্য এসব অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান দলের নেতারা এই চাপের কাছে নতি স্বীকার করেননি। তবে চাপ ক্রমশ বাড়ছে। গত শুক্রবার মিশিগানের রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের হোয়াইট হাউসে ডেকে পাঠান ট্রাম্প। পরে এই আইনপ্রণেতারা এক বিবৃতির মাধ্যমে জানান, ট্রাম্পের হয়ে এই বিষয়ে হস্তক্ষেপের তেমন কোনো কারণ তাঁরা খুঁজে পাচ্ছেন না।

নির্বাচনের ফল নিজের পক্ষে টানার জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই কৌশল কাজে লাগাতে হলে বেশ কিছু আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে। পলিটিকোর তথ্যমতে, প্রথমেই বাইডেন জয়ী হয়েছেন এমন অঙ্গরাজ্যগুলোর রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত আইনসভাকে মোট ভোটের হিসাব বদলের উদ্যোগ নিতে হবে। পরে ইলেকটোরাল ভোটের জন্য ট্রাম্পের পক্ষের ইলেকটোরাল কলেজের স্লেটকে আগামী ১৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় ইলেকটোরাল কলেজ সভায় পাঠাতে হবে। আর পেনসিলভানিয়া ও মিশিগানে এমন উদ্যোগ নিলেও তা আটকে যাবে ডেমোক্র্যাট গভর্নরের দপ্তরে। কারণ, এমন বিষয়ে গভর্নরের রয়েছে ভেটো দানের ক্ষমতা।

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এ ধরনের ঘটনা আগে ঘটেনি। নিজের পক্ষে ভোটের ফল এনে দেওয়ার যে আহ্বান ট্রাম্প রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের প্রতি করেছেন, তার নজির নেই। জর্জিয়া এরই মধ্যে নির্বাচনের ফল সরকারিভাবে ঘোষণা করেছে। মিশিগান ও পেনসিলভানিয়ার ফলও সরকারিভাবে ঘোষণা করার দ্বারপ্রান্তে। এখন পর্যন্ত এ দুই অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা ট্রাম্পের ডাকে সাড়া দেননি। শেষ পর্যন্ত চাপের মাধ্যমে এমন কোনো পদক্ষেপ নিতে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের বাধ্য করা হলে, তা এক ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্ম দেবে যুক্তরাষ্ট্রে।

মন্তব্য পড়ুন 0