যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আর মাত্র পাঁচ সপ্তাহ বাকি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী জো বাইডেন—উভয়েই এখন রয়েছেন শেষ মুহূর্তের প্রচারে। জো বাইডেন এ ক্ষেত্রে গেল নির্বাচনে যেসব অঙ্গরাজ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প অল্প ব্যবধানে জয় পেয়েছেন, সেসব অঙ্গরাজ্যেই মনোযোগ দিচ্ছেন। বিপরীতে ওই অঙ্গরাজ্যগুলোয় ট্রাম্প অনেকটা রক্ষণাত্মক অবস্থানে রয়েছেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, গত সপ্তাহে জো বাইডেনের প্রচারশিবির থেকে ১৩টি অঙ্গরাজ্যে টেলিভিশন বিজ্ঞাপনের পেছনে অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। জো বাইডেনের প্রচার দলের এ সম্পর্কিত প্রধান প্যাট্রিক বনসিগনোর জানান, এই ১৩ অঙ্গরাজ্যের মধ্যে মিনেসোটা, নিউ হ্যাম্পশায়ার ও নেভাদা অঙ্গরাজ্যেই কেবল গত নির্বাচনে জয় পেয়েছিলেন হিলারি ক্লিনটন। বাকি দশটি অঙ্গরাজ্যেই জয় পেয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এদিকে যে ১২টি অঙ্গরাজ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রচার বাবদ ব্যয় করছেন, তার দশটিতেই তিনি আগেরবার জয়ী হয়েছিলেন। হিলারি বিজয়ী হয়েছিলেন—এমন অঙ্গরাজ্যের মধ্যে মিনেসোটা ও নেভাদাতেই শুধু তিনি ব্যয় করছেন।

গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জর্জিয়া ও আইওয়া অঙ্গরাজ্যে জয় পেয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ দুই অঙ্গরাজ্যে প্রচার বাবদ কোটি ডলার ব্যয় করছেন জো বাইডেন। তবে প্রথম প্রেসিডেনশিয়াল বিতর্কের ঠিক আগে আগে নিউ হ্যাম্পশায়ার ও মিশিগানের মতো অঙ্গরাজ্যে বিজ্ঞাপন বাবদ অর্থ ব্যয় কমিয়ে এনেছেন ট্রাম্প।

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন করে ১৩টি অঙ্গরাজ্যে নির্বাচনী বিজ্ঞাপন বাবদ অর্থ ব্যয়ের পেছনে দুটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, জো বাইডেনের নির্বাচনী তহবিল সময়ের সঙ্গে বড় হচ্ছে। দ্বিতীয় যে বিষয়টি আসছে, তা হলো আশাবাদ। সাম্প্রতিক সব জনমত জরিপে এগিয়ে থাকার কারণে বাইডেন শিবির বেশ আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে। এ কারণেই গেল নির্বাচনে ট্রাম্প জয় পেয়েছেন—এমন অঙ্গরাজ্যগুলোয় নির্বাচনী বিজ্ঞাপন বাবদ অর্থ ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে তাঁর প্রচারশিবির।

অবশ্য বছরের শুরু থেকেই বিভিন্ন জনমত জরিপে এগিয়ে রয়েছেন জো বাইডেন। করোনা মহামারি, সামাজিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সংকট এবং হালে সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি নিয়োগসহ নানা বিতর্ক সামনে এলেও ট্রাম্প থেকে বাইডেনের এই এগিয়ে থাকায় কোনো পরিবর্তন আসেনি। আর ধারাবাহিকভাবে এই অবস্থান ধরে রাখতে পারায়, বাইডেন শিবির এখন বেশ উজ্জীবিত বলা যায়। সম্প্রতি তারা অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা, প্রান্তিক অঞ্চলের ভোটার ও কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের জন্য প্রচারমাধ্যমে বিশেষ কিছু বিজ্ঞাপন প্রচার করতে শুরু করেছে। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ কিছু অঙ্গরাজ্যে আগাম ভোটকে উৎসাহিত করতে স্থাপন করা হচ্ছে বিলবোর্ড।

বিজ্ঞাপন

বাইডেন শিবির থেকে বিভিন্ন ভাষায় প্রচারকাজ চালানো হচ্ছে। বাদ রাখা হচ্ছে না কোনো গোষ্ঠীকেই। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসেবে অ্যামি কোনি ব্যারেটের নাম প্রস্তাব করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনের আগে এ ধরনের পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করছেন ডেমোক্র্যাটরা। কিন্তু রিপাবলিকানরা বিষয়টিকে ‘ক্যাথলিক’ বিরোধিতা হিসেবে হাজির করতে চাইছে। এ অবস্থায় বাইডেনের প্রচারশিবির থেকে ধার্মিক ভোটারদের লক্ষ্য করে বিশেষ প্রচার চালানো হচ্ছে, যেখানে ব্যবহার করা হচ্ছে বাইবেলের বিভিন্ন বাণী।

ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে উত্তরাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্যগুলো। এর মধ্যে উইসকনসিন, পেনসিলভানিয়া ও মিশিগান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ডেমোক্রেটিক হিসেবে পরিচিত এই অঙ্গরাজ্যগুলোয় গেলবার হিলারি ক্লিনটন ভালো করতে পারেননি। এগুলোই এখন পুনরুদ্ধার করতে চাইছেন বাইডেন। বছরের শুরু থেকেই এসব অঙ্গরাজ্যের শ্বেতাঙ্গ ভোটারদের কাছে পোঁছানোর চেষ্টা করছেন বাইডেন। এই প্রবণতার কারণে ওহাইও ও আইওয়ার মতো অঙ্গরাজ্যেও ভালো সম্ভাবনা তৈরি করতে পেরেছেন বাইডেন। ওহাইওতে এরই মধ্যে দুটি শোভাযাত্রা করেছেন ট্রাম্প। বিতর্কের পর দিন অবশ্য ওহাইও ও পেনসিলভানিয়া সফরের কথা রয়েছে বাইডেনের।

বোঝাই যাচ্ছে, কিছু বিশেষ অঙ্গরাজ্য ঘিরে ট্রাম্প-বাইডেন লড়াই এবার বেশ জমে উঠবে। বাইডেন এ ক্ষেত্রে প্রচারের পেছনে অর্থ ব্যয়ে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। অন্যদিকে ট্রাম্প অতটা অর্থ ব্যয় করতে না পারলেও মাঠ ছাড়তে নারাজ। তিনি হাঁটছেন অন্য রাস্তায়। কিছু রক্ষণাত্মক হয়ে তিনি বাইডেনকে পর্যবেক্ষণ করছেন বলা যায়। এই পর্যবেক্ষণই সার হবে, নাকি তিনি পাল্টা কিছু পদক্ষেপ নেবেন, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে বাইডেনের জোর প্রচারের ধাক্কায় এরই মধ্যে মিনেসোটা তাঁর কবজায় চলে এসেছে বলা যায়।

বিজ্ঞাপন
রিপাবলিকান দলের এক নির্বাচনী কৌশলবিদ ওয়াশিংটন পোস্টকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, খুব কঠিন হয়ে যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট পিছিয়ে রয়েছেন; কিন্তু দুস্তর ব্যবধানে নয়। প্রেসিডেন্টের প্রচার দল ততটুকুই করতে পারে, যতটা করার ক্ষমতা রয়েছে। তাদের (বাইডেন পক্ষের) হাতে অনেক সম্পদ, যা তারা বহু অঙ্গরাজ্যে ব্যয় করছে

এদিকে গেলবারের মতোই ট্রাম্প ফ্লোরিডা ও নর্থ ক্যারোলাইনার দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। এ দুই অঙ্গরাজ্যে নিশ্চিতভাবেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। এ ক্ষেত্রে বড় নির্বাচনী তহবিলের সুবিধাটিকে কাজে লাগাচ্ছেন বাইডেন। বিপরীতে ট্রাম্পকে একটু হিসেব করে চলতে হচ্ছে। ট্রাম্পের প্রচার দলের চার কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, সময়ের সঙ্গে বাইডেনকে ধরাশায়ী করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এ নিয়ে প্রচার দলের উপদেষ্টাদের মধ্যেও হতাশা কাজ করছে। ফ্লোরিডা ও নর্থ ক্যারোলাইনায় অবস্থান ভালো হলেও জর্জিয়ার তো অঙ্গরাজ্য নিয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। অস্বস্তি থেকে যাচ্ছে। অনেকগুলো অঙ্গরাজ্যে রয়েসয়ে এগোতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে রিপাবলিকান দলের এক নির্বাচনী কৌশলবিদ ওয়াশিংটন পোস্টকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, খুব কঠিন হয়ে যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট পিছিয়ে রয়েছেন; কিন্তু দুস্তর ব্যবধানে নয়। প্রেসিডেন্টের প্রচার দল ততটুকুই করতে পারে, যতটা করার ক্ষমতা রয়েছে। তাদের (বাইডেন পক্ষের) হাতে অনেক সম্পদ, যা তারা বহু অঙ্গরাজ্যে ব্যয় করছে।

মন্তব্য পড়ুন 0