default-image

নির্বাচনের এখনো দুই দিন বাকি। এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক আগাম ভোট পড়েছে। ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন ইউএস ইলেকশনস প্রোজেক্টের হিসাবমতে, গতকাল শনিবার পর্যন্ত ৯ কোটি ১৬ লাখের বেশি আগাম ভোট পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৮ সালের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী মোট নিবন্ধিত ভোটার প্রায় ১৫ কোটি ৩০ লাখ। সেই অনুযায়ী, শনিবার পর্যন্ত নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশই আগাম ভোট দিয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে গত এক শ বছরের মধ্যে এবারই সর্বোচ্চসংখ্যক আগাম ভোট পড়বে। হয়তো যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের ইতিহাসে এটি হতে পারে নতুন মাইলফলক।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, এবারের নির্বাচনে আগাম ভোট দেওয়ার হার আগের সব রেকর্ড ভেঙে ফেলেছে। গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পড়া মোট ভোটের প্রায় ৬৫ শতাংশ এরই মধ্যে দেওয়া হয়ে গেছে। এটিকে ভোট নিয়ে মার্কিন জনগণের মধ্যে তৈরি হওয়া অতিমাত্রায় আগ্রহের বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করা হচ্ছে।

এবারের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনর্নির্বাচনের জন্য লড়ছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছে ডেমোক্রেটিক দলের মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। শুরু থেকেই এবারের নির্বাচনে জোর লড়াইয়ের ইঙ্গিত ছিল। ভোটারদের মধ্যে আগ্রহও ছিল তুলনামূলক বেশি। সময়ের সঙ্গে এই আগ্রহ ক্রমাগত বেড়েছে। এরই প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে আগাম ও ডাকযোগে ভোটে। একই সঙ্গে এত বেশিসংখ্যক আগাম ভোট পড়ার কারণ হিসেবে রয়েছে করোনা পরিস্থিতি। কোভিড-১৯ মহামারির কারণে ভোটের দিন বিভিন্ন কেন্দ্রে ভিড় এড়াতে অঙ্গরাজ্যগুলো এবার আগাম ভোট গ্রহণের সুবিধা সম্প্রসারণ করেছে।

বিজ্ঞাপন
এবারের আগাম ভোট পড়ার হার দেখে মনে হচ্ছে, মোট ভোটের সংখ্যা এবার ২০১৬ সালের নির্বাচনকে ছাড়িয়ে যাবে। গত নির্বাচনে ১৩ কোটি ৮০ লাখ ভোট পড়েছিল

করোনা মহামারিতে বিশ্বের সবচেয়ে উপদ্রুত দেশ যুক্তরাষ্ট্র। কোভিড-১৯ মহামারিতে দেশটির ২ লাখ ২৯ হাজারের বেশি লোক মারা গেছে। এ অবস্থায় মহামারি মোকাবিলায় ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যর্থতার বিষয়টি ভীষণভাবে সামনে এসেছে। সঙ্গে রয়েছে বিভাজনমূলক রাজনীতি ও অর্থনৈতিক মন্দার মতো বিষয়। এ অবস্থায় নির্বাচনী প্রচার শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত জাতীয় পর্যায়ে সুস্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন বাইডেন। শেষ মুহূর্তে এসে করোনার সংক্রমণ আবার বাড়তে শুরু করলে বাইডেনের চেয়ে জনপ্রিয়তায় আরও পিছিয়ে পড়েন ট্রাম্প।

করোনা মহামারির কারণে বাইডেন ও তাঁর প্রচার শিবির শুরু থেকেই আগাম ও ডাকযোগে ভোটের পরিসর বৃদ্ধির দাবি জানায়। অঙ্গরাজ্যগুলো এতে সাড়াও দেয়। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনো প্রমাণ ছাড়াই আগাম ও ডাকযোগে ভোটে জালিয়াতির আশঙ্কা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ডাক বিভাগের বাজেট হ্রাসের উদ্যোগ নেন। এই উদ্যোগ ভীষণ সমালোচিত হয়। এসব কারণে এবার রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার প্রবণতা কম। অথচ ঐতিহাসিকভাবেই রিপাবলিকানরা ডাকযোগে বেশি ভোট দিতেন। এদিকে বাইডেনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ডেমোক্রেটিক দলের সমর্থকেরা আগাম ও ডাকযোগে ভোটের আবেদন করেন।

আগাম ভোটে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেই আগ্রহ বেশি। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে পাওয়া পরিসংখ্যানমতে, ডাকযোগে ভোটে ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে। আগাম ভোটে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে রয়েছেন। আর রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যে সরাসরি উপস্থিত হয়ে ভোট দেওয়ার প্রবণতা বেশি। এ অবস্থায় ৯ কোটির বেশি আগাম ভোট পড়ায় চিন্তার ভাঁজ পড়েছে রিপাবলিকানদের কপালে।

বিশেজ্ঞদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, এবারের আগাম ভোট পড়ার হার দেখে মনে হচ্ছে, মোট ভোটের সংখ্যা এবার ২০১৬ সালের নির্বাচনকে ছাড়িয়ে যাবে। গত নির্বাচনে ১৩ কোটি ৮০ লাখ ভোট পড়েছিল। সেবার ভোটের নির্ধারিত দিনের আগে আগাম ভোট পড়েছিল ৪ কোটি ৭০ লাখ।

রয়টার্স জানায়, এখন পর্যন্ত ২০টি অঙ্গরাজ্যের আগাম ভোটের তথ্য পাওয়া গেছে। এগুলোয় ১ কোটি ৯৯ লাখ ডেমোক্র্যাট ভোট দিয়ে দিয়েছেন। বিপরীতে আগাম ভোট দেওয়া রিপাবলিকানের সংখ্যা ১ কোটি ৩০ লাখ। এর বাইরে আরও ১ কোটি ১ লাখ ভোটার ভোট দিয়েছেন, যারা কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত নন।

মন্তব্য পড়ুন 0