নিউইয়র্কে ফেডারেল বরাদ্দ কমতে পারে

বিজ্ঞাপন
default-image

ডেমোক্রেটিক দলের প্রাধান্য রয়েছে এমন কিছু নগরের জন্য ফেডারেল বরাদ্দ সংকোচনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এরই মধ্যে নিউইয়র্কসহ কয়েকটি নগরের ফেডারেল অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি খাতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রেসিডেন্টের এমন নির্দেশের প্রতিক্রিয়ায় নিউইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের নিকৃষ্টতম প্রেসিডেন্ট। গতকাল বুধবার দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় গভর্নর কুমো বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিউইয়র্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে যা করার তাই করেছেন। ট্রাম্প কোনো রাজা নন; একজন প্রেসিডেন্ট। দেশের সংবিধান আছে, আইন আছে। ট্রাম্প জানেন না ফেডারেল আইনেই তহবিল বরাদ্দের বিষয়ে বলা আছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

এ সম্পর্কিত নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এরই মধ্যে তাঁর প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন নিউইয়র্কের তহবিল বরাদ্দের বিষয়টি পূনর্মূল্যায়ন করতে। নিউইয়র্ক নগর বছরে ৭০০ কোটি ডলারের ফেডারেল বরাদ্দ পায়। এ অর্থ নগরের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ব্যয় হয়।

এ প্রেক্ষাপটে নগরের মেয়র বিল ডি ব্লাজিও এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ট্রাম্পের সঙ্গে আমাদের কোনো কথা নেই। তিনি যা চাইছেন, তা হবে না। নগরীর আইনশৃঙ্খলাকে ট্রাম্প বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছেন। এসবই রাজনৈতিক প্রচার। হোয়াইট হাউস থেকে তিনি একটি বর্ণবিদ্বেষী নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন।’

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার পাঁচ পৃষ্ঠার এক স্মারকে সই করেন। এতে ফেডারেল কর্মকর্তাদের নিউইয়র্কসহ কয়েকটি নগরের ফেডারেল তহবিল কর্তনের বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়।এ তালিকায় নিউইয়র্ক ছাড়াও রয়েছে ওয়াশিংটন ডিসি, সিয়াটল ও পোর্টল্যান্ড। ওই স্মারকে বলা হয়, নাগরিকদের করের অর্থ আমরা আইনশৃঙ্খলা না মানা রাজ্যকে ব্যবহার করতে দিতে পারি না। তিনি এসব নগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য নগর কতৃপক্ষকে দায়ী করছেন।

নিউইয়র্কসহ ডোনাল্ড ট্রাম্পের সই করা স্মারকে উল্লেখিত নগরগুলো ব্যাপকভাবে ডেমোক্র্যাট সমর্থনপুষ্ট। অঙ্গরাজ্য ও নগর প্রশাসনের দায়িত্বেও রয়েছেন ডেমোক্র্যাটরাই। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এসব অঙ্গরাজ্য ও নগরকে লক্ষ্যে পরিণত করে তহবিল কর্তনের হুমকি দিয়ে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ট্রাম্প তাঁর নির্দেশনায় অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বারকে ১৪ দিনের মধ্যে ‘নৈরাজ্যবাদী’ এলাকাগুলোর তালিকা হালনাগাদের নির্দেশ দিয়েছেন। যেসব নৈরাজ্যবাদী নগর সহিংসতা অনুমোদন করেছে, সম্পত্তি ধ্বংসের বিষয়টি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং এসবের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে—তাদের এ তালিকায় নিয়ে আসতে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন।

গত ২৫ মে মিনিয়াপোলিসে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড হত্যার পর উল্লেখিত নগরগুলোয় ব্যাপক আন্দোলন শুরু হয়। আন্দোলনের সময় বেশ কিছু লুটতরাজের ঘটনাও ঘটেছে। এ অবস্থায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিযোগ, এসব নগরে পুলিশের তহবিল কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। নাগরিক আন্দোলনকে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুক হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আগেই নিউইয়র্কে ফেডারেল সেনা পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতির মুখে এ ধরনের ফেডারেল হস্তক্ষেপকে অঙ্গরাজ্য ও নগর প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা হিসেবে ধরে নেওয়া হয়। নিউইয়র্কের প্রশাসন শুরু থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন বক্তব্যকে ‘রাজনৈতিক’ আখ্যা দিয়ে আসছে। সর্বশেষ এ সম্পর্কিত এক প্রতিক্রিয়ায় নিউইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিউইয়র্কে এলে তাঁরই বরং সেনাপ্রহরা লাগবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন