যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য শিগগিরই আরও এক দফা নাগরিক প্রণোদনা আসছে। এ নিয়ে থমকে যাওয়া আলোচনাও আবার শুরু হয়েছে। নাগরিকদের আরেক দফা প্রণোদনা দেওয়ার ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর দলকে আরও উদার হতে বলছেন।

নাগরিক প্রণোদনার জন্য মোট অর্থ বরাদ্দ নিয়ে কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানরা গত দুই মাস থেকে একমত হতে পারছিলেন না। ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসে ও রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত সিনেটে এ নিয়ে সমঝোতা হচ্ছে। আবার সমঝোতা ভেস্তেও যাচ্ছে।

১৫ সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নাগরিকদের সাহায্যে বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ নিয়ে তাঁর দলকে এগিয়ে আসার আহ্বান নিয়েছেন। নির্বাচনের আগে জনমতকে নিজের অনুকূলে আনতে হলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ আহ্বান আইনপ্রণেতাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। ডেমোক্রেটিক দলের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি আবার নড়েচড়ে উঠেছেন। ডেমোক্রেটিক দলের পক্ষ থেকেও একাধিক আইনপ্রণেতা দ্রুত প্রণোদনা প্যাকেজ নিয়ে সমঝোতার জন্য চাপ দিচ্ছেন।

গত মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জনপ্রতি ১২০০ ডলার, দম্পতি প্রতি ২৪০০ ডলার ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক সন্তানদের জনপ্রতি ৫০০ ডলার নগদ অর্থ দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ লকডাউনের পর সবকিছু ধাপে ধাপে খোলা হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিকের কাছাকাছিও যায়নি এখনো। কোভিড-১৯–এর কারণে কাজ হারানো মানুষের অর্ধেকই এখনো কাজে ফিরে যেতে পারেনি। বহু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে। কেউ কেউ নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করেছে। কর্মজীবীদের গত জুলাই মাস পর্যন্ত সপ্তাহে ৬০০ ডলার করে বেকার ভাতা দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

নতুন করে আরেক দফা সমপরিমাণ প্রণোদনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল নাগরিকদের। এ নিয়ে ডেমোক্রেটিক দল কংগ্রেসে নিজেদের একটা আইন প্রস্তাব পাস করে। সিনেটের সঙ্গে সমঝোতা না করে, হোয়াইট হাউসের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করে ওই আইন প্রস্তাব পরে আর এগোতে পারেনি। সিনেটে রিপাবলিকান দল একইভাবে আরেকটি আইন প্রস্তাব পাস করে।

সিনেটে একপর্যায়ে এক দশমিক এক ট্রিলিয়ন ডলারে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সমঝোতা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সিনেটে রিপাবলিকানরা ৬৫০ বিলিয়ন ডলারের সহযোগিতা প্রস্তাব গ্রহণ করে। ডেমোক্র্যাটরা মোট বরাদ্দের অর্থ নিয়ে দর-কষাকষি করতে থাকেন।

নাগরিকদের প্রচণ্ড চাপের মুখে ন্যান্সি পেলোসি ১৫ সেপ্টেম্বর বলেছেন, নাগরিক প্রণোদনা আইন পাস না হওয়া পর্যন্ত আইন প্রণেতারা ওয়াশিংটন ছেড়ে যাবেন না। ডেমোক্র্যাটরা আলোচনা আটকে রেখেছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি কোনো আলোচনায় না থাকলেও তিনি নির্বাহী আদেশে কর্মজীবীদের জন্য সপ্তাহে ৩০০ ডলার দেওয়ার ঘোষণা দেন। তাঁর এ ঘোষণায় নানা ফাঁক ছিল। ভিন্ন বাজেট থেকে নির্বাহী আদেশে এ অর্থ দেওয়ার ঘোষণা কার্যকর করতে রাজ্য সরকারগুলোকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

এর মধ্যে লোকজন ঘর ভাড়া দিতে পারছে না। বাড়ির মালিকেরা গৃহ ঋণ শোধ করতে পারছে না। কর, ইউটিলিটি বিল বাকি পড়ে থাকছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা তাঁদের ব্যবসা নিয়ে দাঁড়াতে পারছেন না। নগর ও পৌর সরকারের অর্থ সংকট দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সরকার থেকে লোক ছাঁটাইয়ের ঘোষণাও দেওয়া হচ্ছে। এমন বাস্তবতায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ১৫ সেপ্টেম্বর নাটকীয় ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁর দলের লোকজনকে বলেছেন, বড় অঙ্কের অর্থ দিয়ে যেন নাগরিকদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসা হয়। এ অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে ফিরে আসবে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

বিজ্ঞাপন

প্রেসিডেন্টের এ ঘোষণার পর সিনেট রিপাবলিকানদের ওপর চাপ পড়েছে। ডেমোক্রেটিক স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি ট্রেজারি সেক্রেটারি স্টিভ মানচিনের সঙ্গে কথা বলেছেন। ন্যান্সি পেলোসি ও সিনেটে ডেমোক্রেটিক দলের নেতা চার্লস শুমার ট্রাম্পের আহ্বানকে স্বাগত জানিয়ে নাগরিকদের জন্য অর্থ বরাদ্দের পরিমাণ নিয়ে আশাবাদের কথা বলেছেন।

রিপাবলিকান দলের কংগ্রেসম্যান কেভিন ম্যাককার্থি বলেছেন, বেশি উদারনৈতিক অর্থ প্রস্তাবে রক্ষণশীল রিপাবলিকানদের সমর্থন পাওয়া দুরূহ হয়ে উঠবে। দেড় ট্রিলিয়ন ডলারের প্রণোদনা প্যাকেজের বেশি যাওয়া যাবে না বলে এ রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা বলেছেন। ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে আড়াই ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি কোনো সংখ্যায় সমঝোতা হতে পারে।

নাগরিক প্রণোদনার দিকে যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ লোকজন তাকিয়ে আছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অভিযোগ করে আসছেন, ডেমোক্র্যাটরা আলোচনা ও সমঝোতার পথ বন্ধ করে রাজনীতি করতে চান। ডেমোক্রেটিক দলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নানা চতুর কৌশলে নাগরিক প্রণোদনা আইন নিয়ে রিপাবলিকানরা টালবাহানা করছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জনগণকে দেখাতে চাচ্ছেন, তিনি এগিয়ে এসেই আরেকটি প্রণোদনা প্যাকেজ প্রদান করছেন। নির্বাচনী বিতর্ক অনেকটা কাবু হওয়া প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজের পক্ষে জনমত পাওয়ার জন্যই আরেকটি উদারনৈতিক প্রণোদনার কথা বলছেন। নির্বাচনের আগেই এমন নাগরিক প্রণোদনা পাওয়ার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের মধ্যে নতুন আশাবাদ দেখা দিয়েছে।

মন্তব্য পড়ুন 0