বিশ্লেষণ: মার্কিন নির্বাচন

নজর এখন বিতর্কের দিকে

বিজ্ঞাপন
default-image

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দুই প্রার্থীর মুখোমুখি বিতর্ক হবে এ মাসের ২৯ তারিখে, ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ক্লিভল্যান্ডে। মোট তিনটি বিতর্কের এটি প্রথম। রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তাঁর প্রচারশিবির (ক্যাম্পেইন) আশা করছে, এই টিভি বিতর্কে তিনি ডেমোক্রেটিক প্রার্থী জো বাইডেনকে তুলাধোনা করে ছাড়বেন। তবে এই আশা কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে মতভেদ রয়েছে।

ট্রাম্প এখন পর্যন্ত অব্যাহতভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন জো বাইডেনকে অথর্ব, অতি বৃদ্ধ ও স্বল্প বুদ্ধিসম্পন্ন একজন ব্যক্তি হিসেবে প্রমাণে। বাইডেনের ডাকনাম তিনি দিয়েছেন ‘স্লো জো’। সোমবার হোয়াইট হাউসে তিনি বাইডেনকে সরাসরি ‘স্টুপিড’ বা নির্বোধ বলে ভর্ৎসনা করেন। বাইডেন যে করোনাভাইরাসের জন্য মাস্ক পরে থাকেন, সেটাও তাঁর চোখে পরিহাসের বিষয়। লোকটা ভিতু, একজন ভালো মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ দিয়ে তাঁকে দেখানো দরকার—ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন। তাঁর স্মৃতি দুর্বল, এই অভিযোগ করে ট্রাম্প বাইডেনের স্মৃতি পরীক্ষার দাবিও তুলেছেন। ট্রাম্পের প্রচারশিবির থেকে বাইডেনের কথা বিকৃত করে মিথ্যাচারও করা হচ্ছে। যেমন তিনি পুলিশ বাজেট বরাদ্দের বিপক্ষে নন, অথচ মিথ্যা ভিডিও দেখিয়ে বাইডেনের বিরুদ্ধে সেই অভিযোগ প্রমাণেরই চেষ্টা করছে এই প্রচারশিবির।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

তবে বাইডেনের বিরুদ্ধে এই প্রচারণা খুব একটা কাজে লাগছে বলে মনে হয় না। অন্তত জনমত জরিপ থেকে সে কথাই মনে হয়। এক অর্থনীতি ছাড়া অন্য সব প্রশ্নে জনসমর্থনে বাইডেন এগিয়ে। সে কারণে তিনি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নাটকীয় কিছু করার বদলে নিম্নকণ্ঠ প্রচারণা চালানোর পক্ষপাতী। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামার সাবেক নির্বাচনী উপদেষ্টা ডেভিড এক্সেলরড বলেছেন, কিছু না করেই যেখানে জনমতে তিনি এগিয়ে, সেখানে বাইডেনের অতিরিক্ত কিছু করার প্রয়োজন নেই। চার বছর আগে ট্রাম্প ছিলেন ‘পরিবর্তনের সমর্থক’। কিন্তু এখন ট্রাম্প নন, বাইডেনই হলেন ‘চেঞ্জ ক্যান্ডিডেট’।

বাইডেনকে দুর্বল ও অথর্ব প্রমাণে ব্যর্থ হয়ে ট্রাম্প এবার মনোযোগ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর বিতর্কের ওপর। তাঁর সমর্থকদের চোখে ট্রাম্প অভিজ্ঞ বিতার্কিক, তিনি অনায়াসেই বাইডেনকে কুপোকাত করতে সক্ষম হবেন। দেশের অনেকে সে কথায় বিশ্বাসও করেন। এক সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, দেশের ৪৭ শতাংশ মানুষ মনে করে বিতর্কে ট্রাম্প জিতবেন। বাইডেনের ব্যাপারে এই অনাস্থায় ঘৃতাহুতি দিয়েছেন ডেমোক্রেটিক স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি। তিনি বলেছেন, বাইডেনের উচিত হবে ট্রাম্পের সঙ্গে কোনো বিতর্কে না যাওয়া। বিতর্কে যাওয়া মানে এই লোকটার সব মিথ্যাচার ও অপকর্মকে বৈধতা দেওয়া। এর আগে নিউইয়র্ক টাইমস–এর খ্যাতনামা কলাম লেখক টম ফ্রিডম্যান একই প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তাঁর অবশ্য যুক্তি ছিল, ট্রাম্প আগে তাঁর কর প্রদানের হিসাব দাখিল করুন। তারপর বিতর্ক।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ট্রাম্পের প্রচারশিবির স্বাভাবিকভাবেই এই কথাবার্তাকে বাইডেনের দুর্বলতার প্রমাণ বলে চালানোর চেষ্টা করছে। রক্ষণশীল ভাষ্যকার এড্রিয়ানা কোহেন তো সরাসরি বলে বসেছেন, বিতর্ক করতে অস্বীকার করলে প্রমাণ হবে বাইডেন একজন ভীরু। ‘ভীরুদের জন্য হোয়াইট হাউসে কোনো জায়গা নেই’, তিনি লিখেছেন। ট্রাম্পের কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান কেভিন ম্যাকার্থি বলেছেন, বিতর্কে ট্রাম্পের পারদর্শিতা সুবিদিত, সে কারণেই পেলোসি বাইডেনকে বিতর্কে না আসতে পরামর্শ দিয়েছেন।

বাইডেন নিজে অবশ্য এককথায় এসব কথা বাতিল করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তিনি অবশ্যই বিতর্কে অংশ নেবেন এবং অনিবার্যভাবে ট্রাম্পকে পরাস্ত করবেন। ‘তাঁর প্রতিটি মিথ্যা কথা আমি ধরিয়ে দেব’, তিনি বলেছেন।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ট্রাম্পের প্রচারশিবির যে বিতর্কে বাইডেনের ব্যাপারে এমন অনাস্থা ব্যক্ত করেছে, সে ব্যাপারটা তাঁর (অর্থাৎ ট্রাম্পের) জন্য হিতে বিপরীত হতে পারে। প্রত্যাশার মাত্রা নিচু হয়ে আসায় খুব বেশি কিছু না করেও নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করতে সক্ষম হবেন বাইডেন। কনভেনশনের আগেও একই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। ট্রাম্পের প্রচারশিবির থেকে ঠাট্টা করে বলা হয়েছিল, বাইডেনের সব জারিজুরি এবার ফাঁস হবে। হলো কিন্তু উল্টো। বাইডেনের ভাষণটি এত ভালো হয়েছিল যে তাঁর সমালোচকেরা পর্যন্ত বলতে বাধ্য হলেন, অনায়াসে লক্ষ্য ভেদ করতে পেরেছেন তিনি।

সবাই অবশ্য বাইডেনকে অত সহজে বাতিল করতে নারাজ। ট্রাম্পের নতুন নির্বাচনী উপদেষ্টা জেইসন মিলার বলেছেন, বাইডেনকে খাটো করে দেখার বিপদ রয়েছে। তিনি আসলে একজন অত্যন্ত দক্ষ বিতার্কিক। তাঁকে কাবু করা খুব সহজ হবে না।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

অন্যরা বলছেন, বাইডেন খুব কিছু না করেই বিতর্কে অনায়াসে জিতে যাবেন। কারণ, তিনি বিতর্ক করবেন এমন একজনের সঙ্গে, যাঁর কথাবার্তায় কোনো শৃঙ্খলা নেই, অধিকাংশ বিষয়ে তাঁর জ্ঞান ভাসা-ভাসা। একজন ভাষ্যকার বলেছেন, যেকোনো বিতর্কে ট্রাম্পের বড় শত্রু ট্রাম্প নিজে। তিনি কখনোই এ জন্য কোনো প্রস্তুতি গ্রহণ করেন না। কোনো বিষয়ে পড়াশোনার অভ্যাস তাঁর নেই। তিনি একজন ‘শো ম্যান’, তাঁর ধারণা লোক ভোলানো কথা বলেই তিনি বাজিমাত করবেন।

রিপাবলিকান ভাষ্যকার এরি এরিকসন ট্রাম্পের প্রতি সতর্কতা উচ্চারণ করেছেন, আপনি ভুল করছেন। বিতর্কে আপনার যে প্রতিদ্বন্দ্বী তিনি মোটেই কোনো ঢ্যাঁড়স বা কুমড়া নন। এখনই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ না করলে কপালে দুঃখ আছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন