default-image

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন এমনিতেই জটিল। এবারের নির্বাচন নানা কারণে ব্যাপক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নির্বাচনের নানা জটিল বিষয় নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। তেমন কিছু আদৌ নাও হতে পারে। তারপরও আলোচনা হচ্ছে, ইলেকটোরাল ভোট দুই প্রার্থী সমান সমান পেলে কী হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এমন ঘটনা আগেও ঘটেছিল। দুই প্রার্থীই সমান সমান ইলেকটোরাল ভোট পেয়েছিলেন। এখন মোট ৫৩৮ ভোটের ইলেকটোরাল ভোটের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পেতে হয় বিজয়ী প্রার্থীকে। ৫৩৮ সংখ্যাটি একটি জোড় সংখ্যা। কোন কারণে উভয় প্রার্থীর হিসেবে ২৬৯ করে ইলেকটোরাল ভোটের হিসাব জমা হলেই বিপত্তি বাঁধবে। তখন দুই প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণে প্রতিনিধি পরিষদে (কংগ্রেসের নিম্ন কক্ষ) ভোট হবে।

প্রতিনিধি পরিষদে ৪৩৫ জন সদস্য। সহজেই একজনের পক্ষে বেশি ভোট পাওয়ার কথা। এখানেও সামান্য সমস্যা আছে। এমন ভোটে প্রতিনিধি পরিষদের প্রতিজন সদস্যের একটি করে ভোট নয়, প্রত্যেক রাজ্যে পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা অনুযায়ী একটি করে ভোট।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, মেরিল্যান্ড রাজ্য থেকে সাতজন ডেমোক্র্যাট আছেন প্রতিনিধি পরিষদে। আছেন একজন রিপাবলিকান সদস্য। এ ক্ষেত্রে ম্যারিল্যান্ডের ভোটটি ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর পক্ষে চলে যাবে। ফ্লোরিডা রাজ্যে ১৩ জন ডেমোক্র্যাট ও ১৪ জন রিপাবলিকান আছেন প্রতিনিধি পরিষদে। ইলেকটোরাল ভোটের সমান সমান অবস্থার অবসানে ভোট দিতে হলে ফ্লোরিডার একটি ভোট চলে যাবে রিপাবলিকান প্রার্থীর পক্ষে।

এমন বাস্তবতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে সমালোচনাও আছে। সমালোচকদের মতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেক লোকের বসবাস ১০টি অঙ্গরাজ্যে। ইলেকটোরাল ভোটের সমান সমান অবস্থার অবসানে মাত্র ২০ শতাংশ ভোট এই রাজ্যগুলো দিতে পারে। বিষয়টি নাগরিক অনুপাতের সঠিক প্রতিনিধিত্ব করে না বলে সমালোচকেরা বলে আসছেন।

৫৩৮ সংখ্যাটি একটি জোড় সংখ্যা। কোন কারণে উভয় প্রার্থীর হিসেবে ২৬৯ করে ইলেকটোরাল ভোটের হিসাব জমা হলেই বিপত্তি বাঁধবে। তখন দুই প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণে প্রতিনিধি পরিষদে (কংগ্রেসের নিম্ন কক্ষ) ভোট হবে
বিজ্ঞাপন

ইলেকটোরাল ভোটের সমান সমান অবস্থার অবসানে আরও জটিলতা রয়েছে। এমন অবস্থার সৃষ্টি হলে ভাইস প্রেসিডেন্ট মনোনয়নের ভার পড়বে সিনেটের (কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ) ওপর। এমন হলে প্রেসিডেন্ট পদে এক দলের প্রার্থী ও ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে ভিন্ন দলের প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।

কংগ্রেসেও যদি কোন কারণে প্রেসিডেন্ট পদে ইলেকটোরাল ভোটের সমান সমান অবস্থার অবসান না করা যায়, তাহলে বিষয়টি সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত, প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট।

যদি প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট কাউকেই নির্বাচিত করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে বিষয়টির সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন।

এবারের নির্বাচনে এমন কিছু হবে, তা কেউ মনে করছে না। তবে রাজনৈতিক পণ্ডিতেরা এসব নিয়ে আলোচনা করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনাকর রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এসব আলোচনার মাধ্যমে লোকজন মার্কিন রাজনীতির জটিল নানা বিষয় সম্পর্কে জানারও সুযোগ পাচ্ছে।

যদিও যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সত্যি সত্যি এমন ঘটনাও একবার ঘটেছে। ইলেকটোরাল ভোটের সমান সমান অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল ১৮০০ সালে। প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ছিলেন থমাস জেফারসন ও এরোন বার। উভয় প্রার্থী তখন ৭৩টি করে ইলেকটোরাল ভোট পেয়েছিলেন (১৮০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে রাজ্যের সংখ্যা কম ছিল)।

কংগ্রেস সে সময়ে থমাস জেফারসনকে প্রেসিডেন্ট পদে ও এরোন বারকে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত করে জটিলতার নিরসন করেছিল। পরে এমন অস্বাভাবিকতা সৃষ্টি হলে, তার অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১২তম সংশোধনীতে নতুন একটি প্যারা সংযোজিত করতে হয়েছিল। যেখানে বর্তমানে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে জটিলতা নিরসনের পদ্ধতির কথা বলা আছে।

মন্তব্য পড়ুন 0