default-image

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দিনটিতে সবচেয়ে ব্যস্ত পেশাজীবী সাংবাদিক, নির্বাচন ও প্রচারকর্মীরা। বড় বড় নগরজুড়ে পুলিশের অলস টহল চলছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে তেমন ব্যস্ততা দেখা যায়নি। নিউইয়র্কের নগরকেন্দ্র থেকে ৪০ মাইল বাইরে এক পুলিশের গাড়ির বাতি দেখে বোঝা গেল, কাছেই কোথাও ভোটকেন্দ্র। জনা পাঁচেক মানুষকে সামাজিক দূরত্ব মেনে দাঁড়িয়ে থাকতেও দেখা গেল। তাঁরা জানালেন, নির্বিঘ্নেই ভোটগ্রহণ চলছে।

নিউইয়র্কের জনবহুল নগরকেন্দ্রে দিনভরই লোকজনকে দেখা গেছে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে। উপচে পড়া অবস্থা না থাকলেও কুইন্সের সব কেন্দ্রেই জন বিশেকের সারি দেখা গেছে। কোথাও কোথাও এ সারি দীর্ঘ ছিল। অপেক্ষার পালাও ছিল দীর্ঘ। সামাজিক দূরত্ব মেনে মাস্ক পরে লোকজনকে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হয়েছে। কেন্দ্রে প্রবেশের সময় ভোটারদের শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হয়েছে।

নিউইয়র্কের একটি ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনকর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন শেলী জামান খান। জানালেন, মার্কিন নাগরিক হয়ে নিজে ভোট দেওয়াকে যেমন গুরুত্বের মনে করেছেন, তেমনি একজন নির্বাচনকর্মী হিসেবে কাজ করতে পেরেও আনন্দিত তিনি। তাঁর কাছে বাড়তি আনন্দ নিউইয়র্কের ভোটকেন্দ্রে বাংলায় লেখা নির্বাচনী নির্দেশনাটি। দূর দেশে স্বজাতি ও নিজের মাতৃভাষার এমন উপস্থিতিকে বেশ অহংকারের বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নিউইয়র্ক পুলিশের টহল গাড়িতে বসে ছিলেন এক বাংলাদেশি পুলিশ কর্মকর্তা। ম্যানহাটনের ৫৩ স্ট্রিটের মোড়ে থাকা সেই কর্মকর্তা বলেন, সন্ধ্যার পরের অবস্থা নিয়ে ভাবছেন তাঁরা। এখনো কোথাও কোনো বড় ধরনের কিছু তাঁদের সামাল দিতে হয়নি।

বিজ্ঞাপন
default-image

জ্যাসিকা ট্রিওলা কাজ করেন নিউজার্সির একটি স্থানীয় অনলাইন পত্রিকায়। বললেন, পেশাজীবী হিসেবে সবচেয়ে ব্যস্ত দিন কাটছে তাঁর। তথ্য সংগ্রহ করে লিখে তা পত্রিকায় প্রকাশের জন্য জমা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। প্রতি দুই ঘণ্টা পরপর আপডেট দিতে হচ্ছে তাঁকে। ঠিক কত ঘণ্টা নির্ঘুম কাটাতে হবে, জানেন না। নিছক পেশা ছাড়াও কাজটা নিয়ে তিনি উত্তেজনায় আছেন।

নির্বাচনের ফলাফল কখন থেকে আসতে শুরু হবে, তা নিয়ে মার্কিনরা মুখিয়ে আছেন। নির্বাচনের ফলাফলের জন্য সুইং স্টেটের দিকে সবার দৃষ্টি। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিমের অঙ্গরাজ্য থেকে প্রথম ফলাফল পাওয়া যাবে সময়ের তারতম্যের কারণে। মধ্য ও পশ্চিমের অঙ্গরাজ্যগুলো থেকে ফলাফল আসতে কিছুটা দেরি হবে। আবার কোনো কোনো অঙ্গরাজ্যের ফলাফল পেতে কয়েক দিন লেগে যেতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

দক্ষিণ-পূর্বের অঙ্গরাজ্য ফ্লোরিডা, জর্জিয়া ও নর্থ ক্যারোলাইনার ফলাফল এলেই এক ধরনের আভাস চলে আসবে। রিপাবলিকান ডোনাল্ড ট্রাম্প, না ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন কে হবেন প্রেসিডেন্ট, তা জানতে সমর্থকদের চোখ তখন থাকবে টেক্সাস ও অ্যারিজোনার মতো অঙ্গরাজ্যগুলোর দিকে।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে বুথফেরত জরিপকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। বিকেল ৫টা থেকেই এ জরিপ নিয়ে বিশ্লেষকেরা আলোচনা শুরু করবেন। তখন সশরীরে ভোটের গতি-প্রকৃতি নিয়ে একটা ধারণা পাওয়া যাবে। যদিও ডাকযোগে আগাম ভোটের কারণে বুথফেরত জরিপ নিয়ে আলোচনা এবার বেশ জটিল হয়ে উঠেছে

শুধু প্রেসিডেন্ট পদেই নয়, রিপাবলিকান দলের সমর্থকেরা খেয়াল রাখছেন সিনেটে তাঁদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার বিষয়টির দিকেও। জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট পদে জয়ী হলেও সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য তিনটি আসন দরকার ডেমোক্র্যাটদের। আর বাইডেন নির্বাচিত না হলে প্রয়োজন হবে চারটি সিনেট আসনের।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে বুথফেরত জরিপকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। বিকেল ৫টা থেকেই এ জরিপ নিয়ে বিশ্লেষকেরা আলোচনা শুরু করবেন। তখন সশরীরে ভোটের গতি-প্রকৃতি নিয়ে একটা ধারণা পাওয়া যাবে। যদিও ডাকযোগে আগাম ভোটের কারণে বুথফেরত জরিপ নিয়ে আলোচনা এবার বেশ জটিল হয়ে উঠেছে।

ইন্ডিয়ানা ও কেনটাকি অঙ্গরাজ্যের বেশির ভাগ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শেষ হবে সন্ধ্যা ৬-৭টার মধ্যে। এরপরই ভার্জিনিয়া থেকে সংবাদ পাওয়া যাবে। এ অঙ্গরাজ্য সম্প্রতি ডেমোক্র্যাটদের হয়েছে, যেখানে রয়েছে ১৩টি ইলেকটোরাল ভোট। এর কোনো ব্যত্যয় হলেই উত্তেজনা সৃষ্টি হবে। প্রায় একই সময়ে রাত ৯টার দিকে জর্জিয়ার ফলাফল পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এবার জনমত জরিপে এ রাজ্যকে ব্যাটলগ্রাউন্ড হিসেবে দেখানো হয়েছে। ফলে সার্বিক নির্বাচনের একটা আভাস পাওয়া যাবে জর্জিয়ার ফলাফল হাতে এলে।

বিজ্ঞাপন

ফ্লোরিডার ভোট গণনাও দ্রুত আসতে শুরু করবে। সেখানে আগাম ভোট বেশ আগে থেকেই গণনা শুরু হয়েছে। এ অঙ্গরাজ্যের ফলাফল এলে নড়েচড়ে বসতে হবে উভয় দলের সমর্থকদের। তখন সবার চোখ চলে যাবে পেনসিলভানিয়ার দিকে। এ দুই অঙ্গরাজ্যেই ইলেকটোরাল ভোটের সংখ্যা বেশি। জয়-পরাজয়ের নির্ধারক হয়ে উঠতে পারে এ দুই অঙ্গরাজ্যের ফলাফল। পেনসিলভানিয়ায় ভোটগ্রহণ শেষ হবে রাত ৮টায়। গণনা শুরু হবে তারপর। এ অঙ্গরাজ্যে আগাম ভোট আগে থেকে গণনার নিয়ম নেই। ফলে পেনসিলভানিয়ার ভোটের ফলাফল না আসা পর্যন্ত ট্রাম্পের জয়-পরাজয় ঝুলে থাকবে। বাইডেন সমর্থকদেরও তাকিয়ে থাকতে হবে সেদিকে। এদিকে মধ্যরাতের আগেই মিনেসোটা, মিশিগান, অ্যারিজোনা ও উইসকনসিনের ফলাফল পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী নির্বাচন বিশ্লেষকেরা।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর বাছাই করা কিছু গুরুত্বপূর্ণ সমর্থকদের নিয়ে অবস্থান করছেন হোয়াইট হাউসে। দিনের মধ্যভাগে রিপাবলিকান দলের প্রচার দপ্তর পরিদর্শনের সময় বলেছেন, তাঁর জন্য হেরে যাওয়া কঠিন। জয়কে সহজ মনে করছেন ট্রাম্প।

এদিকে জো বাইডেন পেনসিলভানিয়া থেকে ফিরে গেছেন তাঁর নিজের রাজ্য ডেলাওয়্যারে। সমর্থকেরা আশায় বুক বাঁধছেন এখান থেকেই অঙ্গরাজ্যটি থেকে নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে বাইডেন বিজয় বক্তৃতাটি দেবেন। সব ভালোয় ভালোয় হলে, পেনসিলভানিয়ার ডাকযোগে ভোট নিয়ে আইনি কোনো জটিলতা না হলে ট্রাম্প ও বাইডেন প্রথা অনুযায়ী রাতেই বক্তৃতা দেবেন। একজন দেবেন বিজয়ীর বক্তৃতা, অন্যজন দেবেন বিজয়ীকে অভিনন্দন জানিয়ে বক্তৃতা। কে কোন বক্তৃতা দেবেন, তার জন্য এখন কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। এ অপেক্ষা কয়েক দিন বা সপ্তাহও গড়ানোর আশঙ্কা কথা অবশ্য বলছেন কেউ কেউ।

মন্তব্য পড়ুন 0