যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচন

মার্কিন নির্বাচন

তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে দুই দলের প্রচার শুরু

বিজ্ঞাপন
default-image

ভোট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁরা প্রতিশ্রুতি রাখেন না। ভোটের দিনেও ভোটকেন্দ্রে তাঁদের খুব একটা দেখা যায় না। দেশের ভবিষ্যৎ হিসেবে মনে করা হয় যে যুব-তরুণদের, তাঁদের উল্লেখযোগ্য অংশ ভোটকেন্দ্রেই যান না।

নির্বাচন আসলেই যুক্তরাষ্ট্রের যুব-তরুণদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ শোনা যায়। এমনিতেই যুক্তরাষ্ট্রের লোকজনের মধ্যে ভোট দেওয়ার হার অন্যান্য দেশের চেয়ে অনেক কম। তালিকাভুক্ত মোট ভোটারের মধ্যে গড়ে ৫৫ শতাংশ লোকজনকে ভোট দিতে দেখা যায়। এর মধ্যে ৬০ বছরের বেশি বয়সের লোকজনের মধ্যে ভোট প্রদানের হার বেশি। ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী ভোটারদের মধ্যে ভোট প্রদানের হার ২০ শতাংশেরও নিচে। উন্নত দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভোট প্রদানে যুব-তরুণদের উপস্থিতি অনেক কম।

এবারের নির্বাচনে আশা করা হচ্ছে, অধিকাংশ যুব-তরুণ ভোটকেন্দ্রে যাবেন। কোভিড-১৯ সংকট চলাকালীন বয়স্কদের মধ্যে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার হার কমতে পারে। রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটিক দলের পক্ষ থেকে যুব-তরুণদের ব্যাপকভাবে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উভয় দলের প্রচার শিবির থেকে যুব-তরুণদের আকৃষ্ট করতে বিশেষ প্রচার শুরু হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী ভোটারদের মধ্যে ভোট প্রদানের হার ২০ শতাংশেরও নিচে। উন্নত দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভোট প্রদানে যুব-তরুণদের উপস্থিতি অনেক কম
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

৩০ বছরের কম বয়সী মানুষের সঙ্গে কথা বলা দেখা গেছে, নানা কারণেই তাঁরা ভোটদানের প্রতি অনাগ্রহী। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিদলীয় রাজনীতি। অনেক যুব-তরুণ মনে করেন, কোনো দলেই তাঁদের পছন্দের প্রার্থী নেই। আবার জো বাইডেনকে ভোট দিতে কেন্দ্রে যাওয়া জরুরি কাজ মনে করবে না অনেকেই।

তানিয়া জেইন নিউজার্সির রাটগার্টস ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী। ২১ বছরের এ তরুণী প্রথম আলো উত্তর আমেরিকাকে বলেন, রাজনীতি নিয়ে তাঁর ভাবনার সঙ্গে কোনো প্রার্থীরই ঘোষিত কর্মসূচির মিল নেই। দুই প্রার্থীই ঘুরে ফিরে একই আদর্শের। তানিয়ার জন্য ভোটের দিনটিতে কাজে যাওয়ার আগে ভোটকেন্দ্রে যাওয়াটাকে একটি বাড়তি কাজ বলেই মনে হচ্ছে। তিনি নিশ্চিত নন, তিনি কেন্দ্রে যাবেন কিনা।

যুক্তরাষ্ট্রে ভোট গ্রহণের দিন মঙ্গলবার। দিনটি সপ্তাহের গুরুত্বপূর্ণ কর্মদিবস। এদিন কোনো ফেডারেল ছুটি নেই। কাজে যাওয়ার আগে বা কাজ থেকে ফিরে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে হবে। যুব-তরুণদের প্রাত্যহিক সময়সূচিতে এ দিনটিতে ভোটকেন্দ্রে যাওয়াকে একটা বাড়তি কাজ বলে মনে হয়।

নিউইয়র্কে বাস করা ২৫ বছর বয়সী বাংলাদেশি-আমেরিকান স্যাম রহমান বলেন, ভোট দিতে কোন কেন্দ্রে যেতে হবে, তা তিনি জানেন না। এক কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যাবে, তাঁকে ভোট দেওয়ার জন্য আরেকটি কেন্দ্রে যেতে হবে। নিউইয়র্কে এমনিতেই ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী জিতবেন। এ কারণে তাঁর ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার কোনো ইচ্ছে নেই বলে জানালেন।

যুক্তরাষ্ট্রে ভোট গ্রহণের দিন মঙ্গলবার। দিনটি সপ্তাহের গুরুত্বপূর্ণ কর্মদিবস। এদিন কোনো ফেডারেল ছুটি নেই। কাজে যাওয়ার আগে বা কাজ থেকে ফিরে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে হবে। যুব-তরুণদের প্রাত্যহিক সময়সূচিতে এ দিনটিতে ভোটকেন্দ্রে যাওয়াকে একটা বাড়তি কাজ বলে মনে হয়
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

যুক্তরাষ্ট্রের সর্বত্র ভোটার তালিকাভুক্তিও খুব সহজ নয়। পরিচয়পত্র উপস্থাপন করে, ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখিয়ে ভোটার তালিকাভুক্তি করতে হয়। ভিডিও গেম খেলা, সিনেমা দেখা বা বাস্কেট বল খেলা বন্ধ রেখে ভোটার তালিকাভুক্তিতেও যুব-তরুণদের মধ্যে অনাগ্রহ দেখা যায়। এরপরও যুক্তরাষ্ট্রের তালিকাভুক্ত মোট ভোটারের ৩৭ শতাংশ যুব-তরুণ ভোটার। এসব ভোটারদের লক্ষ্য করে এবারে প্রচার শুরু হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে যাও, নাগরিক দায়িত্ব পালন করো—স্লোগান দিয়ে বিভিন্ন কলেজে পোস্টার ব্যানার জুড়ে দেওয়া হচ্ছে। এ কাজে এগিয়ে আছে ডেমোক্র্যাটরা।

২০১৮ সালে সাবেক ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা যুব-তরুণদের ভোট দিতে উৎসাহী করার জন্য একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গড়ে তোলেন। ‘হোয়েন উই অল ভোট’ নামের এ সংগঠনটি স্কুল-কলেজে সক্রিয় হয়েছে। যুব-তরুণদের ভোট প্রদানকে একটা নাগরিক দায়িত্ব বলে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ভোটার তালিকাভুক্তির তথ্য, আগাম ভোট প্রদানের তথ্য যুব-তরুণ ভোটারদের মধ্যে বিলি করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রায় ৫০ লাখ যুব-তরুণদের ভোটার তালিকাভুক্তি ও ভোট প্রদানের বার্তা দেওয়া হয়েছে। ফোন বার্তায় এসব ভোটারদের ভোট প্রদানের নাগরিক দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে বলা হয়েছে, দেশের ভবিষ্যৎ তোমার ওপর নির্ভর করছে। ভোট দিয়ে দেশের ভবিষ্যৎকে নিজের মতো করে দেখ।

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রায় ৫০ লাখ যুব-তরুণদের ভোটার তালিকাভুক্তি ও ভোট প্রদানের বার্তা দেওয়া হয়েছে। ফোন বার্তায় এসব ভোটারদের ভোট প্রদানের নাগরিক দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে বলা হয়েছে, দেশের ভবিষ্যৎ তোমার ওপর নির্ভর করছে। ভোট দিয়ে দেশের ভবিষ্যৎকে নিজের মতো করে দেখ
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

রাজনীতিমনস্কদের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের যুব-তরুণদের রাজনীতির প্রতি অনীহা রয়েছে। তাঁরা অলস। হলিউড মুভি, আর স্পোর্টস নিয়ে তাঁরা বেশি ব্যস্ত। নিজেদের ক্যারিয়ার নিয়েই থাকেন। দেশের রাজনীতি তাঁদের স্বপ্নের জীবনে কী প্রভাব ফেলবে, এ নিয়ে কোনো দূর ভাবনা তাঁদের নেই।

ডিউক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক সানশাইন হিলিগাস এ নিয়ে ভিন্ন মত পোষণ করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের যুব-তরুণেরা বেশি রাজনীতিমনস্ক। তাঁদের মধ্যে সমাজ ও রাজনীতি নিয়ে উচ্চ ভাবনা বিরাজমান।

বয়স্ক ভোটাররা যেমন করেই হোক ভোট প্রদানের মাধ্যমে তাঁদের নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করতে যান। অল্প বয়সীদের মধ্যে অনেক সময়েই রাজনীতির সব তথ্য হালনাগাদ থাকে না। নিজের এলাকার সিনেটর, কংগ্রেসম্যানদের নাম জানেন না অধিকাংশ যুব-তরুণ। রেডিও-টিভির রাজনৈতিক আলাপের শ্রোতা দর্শকের তালিকায়ও যুব-তরুণেরা নেই।

ভোটকেন্দ্র কোথায়, আগাম ভোটের জন্য কী করতে হবে, ডাকযোগে ভোট দেওয়ার নিয়ম কী—এসব নিয়েও যুব-তরুণদের ধারণার বিস্তর অভাব। যুব-তরুণদের মধ্যে প্রগতিশীল ভাবনার প্রভাব এখন অনেক বেশি। নাগরিক অধিকার আন্দোলন থেকে শুরু করে জলবায়ু সংরক্ষণে এ যুব-তরুণদের আগের কাতারেই দেখা যায়। অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট আন্দোলন থেকে শুরু করে চলমান নাগরিক আন্দোলনে যুব-তরুণদের ব্যাপক অংশগ্রহণ তাঁদের সামাজিক রাজনৈতিক চেতনারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করা হয়। যদিও যুব-তরুণদের এ সক্রিয় আন্দোলনকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর কোনো প্রয়াস দেখা যায়নি। প্রথাগত রাজনীতির মঞ্চের লোকজনের সঙ্গে যুব-তরুণদের সাংগঠনিক দূরত্বের কারণেই এমনটি হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের যুব-তরুণেরা বেশি রাজনীতিমনস্ক। তাঁদের মধ্যে সমাজ ও রাজনীতি নিয়ে উচ্চ ভাবনা বিরাজমান
সানশাইন হিলিগাস, ডিউক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ইতিহাসে ডেমোক্রেটিক দলের বার্নি স্যান্ডার্সই একমাত্র নেতা, যিনি যুব-তরুণদের ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যেতে পেরেছিলেন। এর আগে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রথম দফা নির্বাচনে যুব-তরুণদের মধ্যে উদ্দীপনা দেখা গিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে একজন কৃষ্ণাঙ্গের প্রথম অভিষেকের উত্তেজনায় যুব-তরুণেরা ভোটকেন্দ্রমুখী হয়েছিলেন। যদিও দলীয় রাজনীতি তাঁদের ধরে রাখতে পারেনি। একাধিকবার বার্নি স্যান্ডার্স দলের প্রাইমারিতে হেরে গেলে উদ্দীপ্ত যুব-তরুণেরা ডেমোক্রেটিক দলের অন্য প্রার্থীর পক্ষে আর ভোটকেন্দ্রে যাননি।

এবারের নির্বাচনে জো বাইডেনকে নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের প্রগতিশীল যুব-তরুণদের মধ্যে একই অবস্থা বিরাজ করছে। নির্বাচনের আর মাত্র দেড় মাস বাকি। এর মধ্যে বার্নি স্যান্ডার্স এগিয়ে এসেছেন। তিনি যুব-তরুণদের উদ্দীপ্ত করে এই মুহূর্তে হোয়াইট হাউস থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিদায় করার আহ্বান জানিয়েছেন। বাইডেনের প্রচার শিবিরকে পরামর্শ দিয়েছেন, যুব-তরুণদের আকৃষ্ট করার জন্য সরাসরি বক্তব্য দিতে হবে।

যুব-তরুণদের জন্য জরুরি বিষয় যেমন—ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি, শিক্ষা ঋণ মওকুফ, কর্মসংস্থান, প্রেসক্রিপশন-ওষুধের মূল্য কমানো এবং স্বাস্থ্যবিমার ব্যয় কমানোর মতো কর্মসূচি নিয়ে যুব-তরুণদের কাছে পৌঁছানোর জন্য বার্নি স্যান্ডার্স বাইডেন শিবিরের সঙ্গে কাজ করছেন।

সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রথম দফা নির্বাচনে যুব-তরুণদের মধ্যে উদ্দীপনা দেখা গিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে একজন কৃষ্ণাঙ্গের প্রথম অভিষেকের উত্তেজনায় যুব-তরুণেরা ভোটকেন্দ্রমুখী হয়েছিলেন। যদিও দলীয় রাজনীতি তাঁদের ধরে রাখতে পারেনি
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণের রাজ্যগুলোতে তরুণ রিপাবলিকানদের সংগঠন বেশ শক্তিশালী। মূলত শ্বেতাঙ্গ পরিবার থেকে আসা এসব যুব-তরুণ এবারের নির্বাচনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যগুলোতে ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছেন। রিপাবলিকান প্রচার শিবির থেকেও মনে করা হচ্ছে, যুব-তরুণেরা এবারের নির্বাচনে নির্ধারণী শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। নাগরিক আন্দোলন আর প্রগতিশীল ভাবনার অনুসারীদের ডেমোক্রেটিক দল উদ্দীপ্ত করে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যেতে পারলে তা ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য ভালো হবে না। ফলে যুব-তরুণ ভোটারদের লক্ষ্য করে আলাদা করে প্রচার চালানো হচ্ছে উভয় শিবির থেকেই।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন