default-image

যুক্তরাষ্ট্রের এবারের নির্বাচন নানা কারণেই ব্যতিক্রম হয়ে উঠেছে। ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টদের দ্বিতীয় দফা নির্বাচন ঠেকাতে আগ্রাসী ভূমিকায় থাকে অন্য পক্ষ। এবারেই দেখা যাচ্ছে পুরো ভিন্ন পরিবেশ। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় দফা নির্বাচিত হওয়ার জন্য প্রচারণায় টিকে থাকার লড়াই করতে হচ্ছে এবার। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের প্রচার শিবির অনেকটাই নিজের অবস্থা ধরে রাখার চেষ্টায় নিজেদের ব্যস্ত রাখছে।

জনমতে এগিয়ে থাকা জো বাইডেনের প্রচার শিবির এখন ক্যালেন্ডারের দিকে তাকিয়ে। কারণ যে অবস্থা বিরাজ করছে, তা ধরে রাখলেই জো বাইডেনের জয় নিয়ে কোনো সংশয় নেই। বাইডেনের প্রচার শিবির ‘ব্যাটলগ্রাউন্ড’ রাজ্যগুলোতে তাদের পরিস্থিতির উন্নতি করার শেষ চেষ্টা চালাচ্ছে। ক্যালেন্ডারের দিকে তাকিয়ে থাকা ডেমোক্র্যাটরা চাইছেন ৩ নভেম্বরের আগে যেন বড় কোনো বিপর্যয় না ঘটে।

ডেমোক্র্যাট কৌশলবিদদের বরাত দিয়ে দ্য হিল অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডেমোক্র্যাটরা কোনো বিপর্যয় যেন না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক। ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও নিজের বিপর্যয়ের বিষয়টি টের পেয়ে গেছেন। ফলে তাঁর আক্রমণে যাওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। ডেমোক্র্যাটদের এখন একটাই কাজ—সমর্থন ধরে রাখা।

বিজ্ঞাপন

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে জো বাইডেন বেশ কিছু অঙ্গরাজ্য চষে বেড়াচ্ছেন। ফ্লোরিডা ও পেনসিলভানিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে জো বাইডেন যাচ্ছেন। বিভেদের বদলে ঐক্যের কথা বলছেন বাইডেন তাঁর সবগুলো সভায়। চেনা বক্তৃতাই দিচ্ছেন। তাঁর সমর্থকেরা মনে করেন, বাইডেনের এ কৌশলই ঠিক আছে।

ডেমোক্রেটিক দলের অভিজ্ঞ প্রচার বিশেষজ্ঞ ক্রিস লিহেইন বলেছেন, বাইডেনের প্রচার শিবির ক্যালেন্ডারের পাতার দিকে তাকিয়ে থাকলেও বসে নেই। যেকোনো প্রচারের সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে তাঁরা। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রচার শিবিরকে লড়তে হচ্ছে বৈরী নানা ফ্রন্টে। ট্রাম্পের প্রচার শিবিরকে আত্মরক্ষার কাজ করতে হচ্ছে। পাশাপাশি ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টাও করতে হচ্ছে। নির্বাচনের একদম শেষ পর্যায়ে কাজটি খুবই কঠিন বলে মনে করেন প্রচার কৌশলবিদরা।

সাম্প্রতিক সবগুলো জনমত জরিপই জো বাইডেনের পক্ষে। এমনকি ব্যাটলগ্রাউন্ড অঙ্গরাজ্যগুলোতে তাঁর জনমত অনুকূলে রয়েছে। ১১ অক্টোবর এবিসি ও ওয়াশিংটন পোস্ট পরিচালিত জরিপে দেখা যায়, জো বাইডেন ৫৫-৪৩ ব্যবধানে ট্রাম্পের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। সিএনএন ও ফক্স নিউজের জরিপেও বাইডেনকে অন্তত ১০ পয়েন্টে এগিয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

নির্বাচনের মাত্র দুই-আড়াই সপ্তাহ আগে এভাবে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টকে চ্যালেঞ্জ জানানোটা এক বিরল ঘটনা। এ কারণেই বাইডেনের প্রচার শিবিরে এক ধরনের উত্তেজনা বিরাজ করছে। ডেমোক্র্যাট কৌশলবিদ এডি ভেইল মনে করেন, বাইডেনের প্রচার শিবির চৌকস কাজ করছে। প্রাইমারির প্রচারের মতো তাঁরা সঠিক জায়গায় প্রচারের শক্তি ব্যয় করছে। এলোপাতাড়ি প্রচার না করে, ট্রাম্পের সব অভিযোগের জবাব দিয়ে বাইডেনের প্রচার শিবির নিজেদের ব্যস্ত রাখছে না।

প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির ইতিহাসের অধ্যাপক জুলিয়ান জেলিযার বলেন, স্বাভাবিক নিয়মে হোয়াইট হাউসের বাইরের প্রার্থীকে বেশি আক্রমণাত্মক হতে দেখা গেছে এর আগে। এবার এর ব্যতিক্রম হচ্ছে। টিকে থাকার জন্য লড়াই করতে হচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। ডেমোক্রেটিক দলের প্রচার শিবির থেকেও ট্রাম্পকে তাঁর নিজের মতো আচরণ করার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। ট্রাম্প যেন ট্রাম্পের মতোই আচরণ করেন—এমন প্রচারের খেলা খেলছে ডেমোক্রেটিক দল। বাইডেন ট্রাম্পের মতো নেতিবাচক কথা বলছেন না।

নিউইয়র্ক স্টেট ডেমোক্রেটিক পার্টির সাবেক নির্বাহী পরিচালক বাসাইল স্মিকলি বলেন, বাইডেনের প্রচার শিবির সঠিক কাজটিই করছে। এখন তাদের একটাই কাজ করা উচিত—জনগণকে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যেতে উদ্বুদ্ধ করা।

মন্তব্য পড়ুন 0