default-image

জনমত জরিপে প্রচারের শুরু থেকেই এগিয়ে ছিলেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন। শেষ মুহূর্তেও ব্যাটলগ্রাউন্ড হিসেবে পরিচিত সুইং স্টেটগুলোর অধিকাংশ এলাকায় এগিয়ে আছেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় ৩ নভেম্বর মঙ্গলবার ডেমোক্রেটিক দলের ভোটারেরা ব্যাপকভাবে ভোট দিয়েছেন জো বাইডেনকে। এ ক্ষেত্রে বাইডেনের প্রতি সমর্থন যতটা, তার চেয়ে বেশি কাজ করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের চার বছরের শাসন নিয়ে চরম অসন্তোষ।

মঙ্গলবার ডেমোক্র্যাটরা বাইডেনকে ভোট দিতে ভোটকেন্দ্রগুলোয় এলেও তাদের তাড়া করছে এখনো নিকট অতীতের হিলারি ও আল গোর অধ্যায়। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ইতিহাসে ডেমোক্রেটিক দলের আল গোর ও হিলারি ক্লিনটন বিপর্যয় ভুলে থাকা সম্ভব নয়। উভয় প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীদের থেকে মোট ভোট বেশি পেয়েছিলেন। ডেমোক্র্যাটদের অনেকের এখনো বিশ্বাস—আল গোরকে নির্বাচনে হারানো হয়েছে আদালতে কারসাজির মাধ্যমে। হিলারির মতো প্রার্থীর জাতীয়ভাবে মোট ভোট বেশি পেয়েও ইলেকটোরাল ভোটে হেরে যাওয়া এখনো মানতে পারেননি অনেকে।

সব সম্ভবের দেশ মনে করা হয় যুক্তরাষ্ট্রকে। ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও হয়তো কোনো দিন মনে করেননি, যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হবেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের বেনিয়া গোষ্ঠীর প্রতিনিধি ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেকে এর আগে রাজনীতির মঞ্চেই ছিলেন না। দ্রুতই তিনি ক্ষুব্ধ মানুষের ক্ষোভকে ধরতে পেরেছেন। উসকে দিয়েছেন অজানা নানা ভয়কে। যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল লোকজনকে যেসব অজানা ভীতি তাড়া করছিল, তারই প্রতিনিধি হয়ে ওঠেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই মানুষেরাই ট্রাম্পকে তাদের ত্রাতা হিসেবে গ্রহণ করে।

বিজ্ঞাপন

মার্কিন রাজনীতিতে ট্রাম্পের আবির্ভাব হঠাৎ করেই। চেনা যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তির সম্পূর্ণ বাইরে গিয়ে এক সদা ক্ষুব্ধ মানুষ হিসেবে ট্রাম্প একের পর এক হামলা করেছেন চিরচেনা নানা ব্যবস্থাকে। এ কারণেই ট্রাম্প সমর্থকেরা তাঁকে সমর্থন জানিয়ে আসছে। নির্বাচনের দিনও দেখা গেছে ট্রাম্প সমর্থকেরা দলে দলে ভোট দিতে ভোটকেন্দ্রে যাচ্ছেন। তাঁদের কাছে এ নির্বাচন করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে মাস্ক পরা-না পরার নির্বাচন নয়। ট্রাম্পের বিজয়ের সঙ্গে তাঁদের অস্তিত্বের যোগ রয়েছে বলে তাঁরা মনে করেন। তাঁদের মতে, ট্রাম্প হেরে গেলে যুক্তরাষ্ট্র আর যুক্তরাষ্ট্র থাকবে না; অভিবাসী আর অপরাধীদের অভয়ারণ্য হয়ে যাবে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ হবে, বেহাত হবে সব কর্মসংস্থান, জ্বালানি তেলের দাম বাড়বে। তাঁদের এসব ভীতির পেছনে কোনো তথ্য-উপাত্ত বা যুক্তি নেই। নিছক বিশ্বাসের বশে তাঁরা দাঁড়িয়ে আছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে।

গত চার বছরের বিশৃঙ্খলা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য এবার বাইডেনের পক্ষে গণজোয়ার দেখা গেছে প্রচারের শুরু থেকেই। গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্য নিউজার্সি, ক্যালিফোর্নিয়াসহ যুক্তরাষ্ট্রের উন্নয়ন ও শ্রেষ্ঠত্বের জন্য যে জনমিশ্রনকে বাহবা দেওয়া হয়, সেসব এলাকায় বেশির ভাগ লোকের অবস্থান ভিন্ন। তাঁরা মনে করেন, যথেষ্ট হয়েছে; আর নয়। যুক্তরাষ্ট্রকে যুক্তরাষ্ট্র হিসেবেই তাঁরা দেখতে চান।

যুক্তরাষ্ট্র একটি সহমর্মী দেশ। বিশ্বজুড়ে নানা অপকর্ম করে বেড়ালেও মার্কিন জনগণ নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের ভাবমূর্তি ধরে রাখতে চায়। এই যুক্তরাষ্ট্রের চিরচেনা ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতেই মানুষ তাই মরিয়া হয়ে জো বাইডেনকে ভোট দিচ্ছেন। তাঁদের কাছেও এবারের মার্কিন নির্বাচন মাস্ক পরা বা না পরার নির্বাচন নয়। এ নির্বাচনে জো বাইডেনকে জয়ী দেখার জন্যই তাঁরা ভোট দিয়েছেন। নানা আশঙ্কা তাঁরা করলেও মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে টিভির সামনে সবাই অধীর আগ্রহে বসে আছেন। একটাই প্রত্যাশা হিলারি বা আল গোরের পরিণতি যেন না হয় জো বাইডেনের!

মন্তব্য পড়ুন 0