default-image

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের আর সাত দিন বাকি। এই মুহূর্তে যেসব জনমত জরিপ চালানো হচ্ছে, তার সব কটিতে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটদের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী বাইডেন। আর বরাবরই পিছিয়ে প্রেসিডেন্ট ও রিপাবলিকানদের প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই পরিস্থিতিতে নতুন বার্তা দিল যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম ইউএসএ টুডে। তারা বলছে, ডেমোক্র্যাটদের বড় দাতাদের মধ্যে নারীরা এগিয়ে। আর গার্ডিয়ান–এর খবর অনুসারে শুধু নারী দাতা নন, শহরতলীর নারী ভোটারদের মধ্যেও জনমত জরিপে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা।

ইউএসএ টুডের খবরে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের তহবিলে সবচেয়ে বেশি অর্থ এসেছিল নারীদের কাছ থেকে। সেন্টার ফর রেসপনসিভ পলিটিকসের তথ্য বিশ্লেষণ করে ইউএসএ টুডে জানিয়েছে, এবারের সিনেট নির্বাচনেও এমন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ৪৩ শতাংশ বড় তহবিল এসেছে নারী দাতাদের কাছ থেকে। রিপাবলিকানদের ক্ষেত্রে এমন নারী দাতার সংখ্যা ২৮ শতাংশ। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এবারের নির্বাচনে সব মিলিয়ে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের তহবিলে নারীরা রেকর্ড পরিমাণ অর্থ দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

সেন্টার ফর রেসপনসিভ পলিটিকসের নির্বাহী পরিচালক শেইলা ক্রুমহোলজ বলেন, দাতাদের মধ্যে নারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি ব্যাপক। ২০১৬ সালে যখন হিলারি ক্লিনটন ডেমোক্র্যাটদের প্রার্থী হয়েছিলেন, তখন নারী দাতার সংখ্যা ব্যাপক হারে বাড়ে। এরপর ২০১৮ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে এসে সেই সংখ্যা আরও বাড়ে। আর ২০২০ সালের নির্বাচনে সেই বৃদ্ধির ঢেউ অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে শুধু দাতা নন, শহরতলীর নারী ভোটারদের মধ্যে জনমতে এগিয়ে রয়েছেন বাইডেন। বিভিন্ন জনমত জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে। আর করোনার মহামারিতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে করোনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রবীণেরা। ফলে ২০১৬ সালে যে চিত্র লক্ষ করা গেছে, এবার তার উল্টো। বিগত চারটি নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী এই প্রবীণ ভোটারদের মধ্যে এগিয়েছিলেন। এই পয়েন্ট ব্যবধান ছিল প্রায় ১০। কিন্তু এবার প্রায় ২০ পয়েন্টে বাইডেনের পেছনে রয়েছেন ট্রাম্প। সিএনএন, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও এনবিসি নিউজের জনমত জরিপে এই চিত্র উঠে এসেছে।

হার মানবেন না সমর্থকেরা

এদিকে রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর ডেমোক্রেটিক প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেনের সমর্থকেরা ফল মেনে নেবেন কি না, এ নিয়ে একটি জরিপ চালানো হয়েছে। এতে দেখা যায়, ১০ জনের মধ্যে ৪ জনের বেশি তাঁদের পছন্দের প্রার্থীর পরাজয় মানবেন না।

রয়টার্স-ইপসসের এই জরিপ চালানো হয়েছে ১৩-২০ অক্টোবর। এতে দেখা গেছে, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট বাইডেনের ৪৩ শতাংশ সমর্থক ট্রাম্পের বিজয় মানবেন না। অন্যদিকে ট্রাম্পকে আবার হোয়াইট হাউসে দেখতে চান, এমন ভোটারদের ৪১ শতাংশ বাইডেনের বিজয় মানবেন না। সমর্থকদের একটা অংশ পরাজয় হলে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করবেন বলেও জানিয়ে দিয়েছেন। বাইডেন হারলে তাঁর ২২ শতাংশ সমর্থক রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাবেন; এমনকি সহিংসতার পথেও হাঁটতে পারেন; ট্রাম্প হারলে এভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করতে চান তাঁর ১৬ শতাংশ সমর্থক।

যুক্তরাষ্ট্রের এবারের নির্বাচন নিয়ে একগুচ্ছ চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন নির্বাচন কর্মকর্তারা। নির্বাচনের ফলাফলের ওপর জনসাধারণের আস্থা নিয়ে বড় উদ্বেগ শুরু হয়েছে। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা গেল সপ্তাহে রাশিয়া ও ইরানের ব্যাপারে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। তাঁরা বলেছেন, দেশ দুটি যুক্তরাষ্ট্রের ভোটব্যবস্থা হ্যাক করা বা অন্য কোনো উপায়ে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে।

বিজ্ঞাপন

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও বারবার নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। দাবি করেছেন, বিদ্যমান নির্বাচন প্রক্রিয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে জালিয়াতির সুযোগ রয়েছে। ট্রাম্প বারবার বলেছেন, এবার মেইল-ইন ভোট পড়ছে খুব বেশি। এটা ভোট জালিয়াতির আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে। যদিও দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি। নির্বাচনে হারলে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা ছাড়বেন, এমন নিশ্চয়তা দিতে অস্বীকার করেছেন ট্রাম্প।

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ডোনাল্ড গ্রিন বলছেন, নির্বাচন–পরবর্তী সম্ভাব্য সহিংসতা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। জরিপের ফল সেই দুশ্চিন্তা কিছুটা প্রশমন করেছে। তবে তিনি সতর্ক করে দেন, নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে এলে বা কোনো প্রার্থী ভোট জালিয়াতি নিয়ে বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ তুললেই পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। তখন হয়তো ভোট নিয়ে বৃহত্তর ক্ষোভের সৃষ্টি হবে বা রাস্তায় এমন বিক্ষোভ হবে, যা জরিপের আভাস ছাড়িয়ে যাবে। গ্রিন বলেন, এ কারণেই ট্রাম্পবিরোধীরা রুদ্ধশ্বাস অবস্থায় আছেন। তাঁরা ভারসাম্যহীন এমন একটা ফল চাইছেন, যা ধরার মতো নয়।

রয়টার্স-ইপসসের সর্বশেষ জরিপে ট্রাম্পের (৪৩ শতাংশ) চেয়ে আট পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন বাইডেন (৫১ শতাংশ)। উইসকনসিন ও মিশিগানে বাইডেন এগিয়ে থাকলেও পেনসিলভানিয়া, ফ্লোরিডা, অ্যারিজোনা ও নর্থ ক্যারোলাইনারের মতো দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যগুলোতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলছে।

নতুন জরিপ চালানো হয়েছে অনলাইনে। এতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রাপ্তবয়স্ক ২ হাজার ৬৪৯ জনের মতামত নেওয়া হয়। এর মধ্যে ১ হাজার ৩৯ জন ট্রাম্পের ও ১ হাজার ১৫৩ জন বাইডেনের সমর্থক বলে জানিয়েছেন।

মন্তব্য পড়ুন 0