default-image

আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থীদের মধ্যে এখনো টিকে আছেন জো বাইডেন ও বার্নি স্যান্ডার্স। প্রার্থিতার লড়াইটি মূলত তাঁদের মধ্যে হচ্ছে। গতকাল রোববার ছিল এ দুই প্রার্থীর প্রথম মুখোমুখি লড়াই, যেখানে অন্য কোনো প্রার্থী ছিলেন না মঞ্চে। কারণ, আগেই অন্য প্রার্থীরা নির্বাচনী দৌড় থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

দুই প্রার্থীর মধ্যে হওয়া নির্বাচনী বিতর্কে কে জিতল, তা বিচার করা কঠিন হলেও এটা স্পষ্ট যে, করোনাভাইরাসই এখন সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী। শূন্য মিলনায়তনে দুই নেতা পরস্পরের বিরুদ্ধে তর্কযুদ্ধে মাতেন।

গতকালের নির্বাচনী বিতর্কটি সম্ভবত আমেরিকার ইতিহাসেরই প্রথম কোনো বিতর্ক, যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা পরস্পরের সঙ্গে হাত মেলাননি। উভয় প্রার্থীই মঞ্চে নানা বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করলেও সাবানের গুণগান গাওয়ার ক্ষেত্রে একই পথে হেঁটেছেন। বিতর্ক মঞ্চে বার্নি স্যান্ডার্স যথার্থই বলেছেন যে, ‘এটি আমেরিকার ইতিহাসের এক অতুলনীয় মুহূর্ত।’ উভয় প্রার্থীই হ্যান্ড স্যানিটাইজার নিয়ে এমনভাবে কথা বলেছেন যেন, তাঁরা কোনো ‘পবিত্র জল’ নিয়ে কথা বলছেন।

ডেমোক্রেটিক দলের অন্য প্রার্থীরা নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে দাঁড়ানোয় গতকালের বিতর্কটি হওয়ার কথা ছিল বাইডেন ও স্যান্ডার্সের মধ্যে কে বেশি যোগ্য তা নির্ধারণের মাধ্যম। কিন্তু গতকালের বিতর্কে আক্রমণ-প্রতি আক্রমণ, যুক্তি, যুক্তি খণ্ডন ইত্যাদি থাকলেও সব ছাপিয়ে মুখ্য হয়ে ওঠে নভেল করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯। মঞ্চে ওঠার পর দুজনই প্রথম যে প্রশ্নের সামনে পড়েন, তা ছিল করোনাভাইরাস নিয়ে। মাঝে সাবান ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারের গুনগান গেয়েছেন দুজনই। বিতর্কের শেষও হয়েছে করোনাভাইরাস সম্পর্কিত নানা তথ্য দেওয়ার মধ্য দিয়ে।

না, এমন নয় যে নির্বাচনী বিতর্কে রাজনৈতিক তর্ক বা অর্থনৈতিক পরিকল্পনা হয়নি। নিউইয়র্ক টাইমস জানাচ্ছে, উভয় প্রার্থীই বিভিন্ন নীতি বিষয়ে নিজেদের মতপার্থক্য বরাবরের মতোই জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন। পরস্পরের চারিত্রিক দুর্বলতা, সংকট মোকাবিলায় দক্ষতা ইত্যাদি নিয়ে আক্রমণ করতেও তাঁরা ছাড়েননি। কিন্তু এর কোনোটিই গতকালের বিতর্কের মুখ্য বিষয় হয়ে উঠতে পারেনি। সবার মনোযোগের কেন্দ্রে ছিল করোনাভাইরাস। সারা বিশ্বে এখন এই একটি বিষয় ছাড়া আর কী আছে, যা মনোযোগ কাড়তে পারে? সারা বিশ্বের মতো আমেরিকাতেও এই প্রাণঘাতি ও দেশ ও জাতির জন্য চরম ক্ষতিকর বিষয়টি উপস্থিত, যা চোখ রাঙাচ্ছে মার্কিন অর্থনীতিকে।

এই প্রেক্ষাপটে বার্নি স্যান্ডার্স আরও একবারের মতো কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের স্বাস্থ্যনীতি ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে। বাইডেনের সঙ্গে অনেক বিষয়ে দ্বিমত আছে উল্লেখ করে স্যান্ডার্স বলেন, ‘এই প্রেসিডেন্টের সবকিছুর সঙ্গেই আমরা মূলগতভাবে দ্বিমত পোষণ করি।’

তারপরও বিতর্ক হয়েছে। বিতর্কে বাইডেন নির্বাচনী দৌড়ে এগিয়ে থাকায় অনেকটা কর্তৃত্ব নিয়েই কথা বলেছেন। তবে শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন পাবেন না—এমন বিষয়ে প্রায় নিশ্চিত হলেও স্যান্ডার্স ছেড়ে দেননি। তিনি বাইডেনকে বিভিন্ন প্রসঙ্গে আক্রমণ করে গেছেন। কিন্তু বাইডেনের অবস্থান ছিল আগের মতোই। তিনি আগামী নির্বাচনে ঐক্যের ডাক দিয়ে ডেমোক্র্যাটদের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে পরাজিত করার কৌশল নির্ধারণের বিষয়ে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি, নাকি স্যান্ডার্স, কে মনোনয়ন পাবে—এটি তার চেয়েও বড় কিছু। আর তা হলো—আমাদের অবশ্যই ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পরাজিত করতে হবে।’ তবে বাইডেন এও বলতে ভোলেননি যে, ‘মানুষ ফল চায়, বিপ্লব নয়।’

সব মিলিয়ে গতকালের বিতর্কেও আগের মতোই দুজন দুজনকে ধরাশায়ী করার চেষ্টা করেছেন। সামনে কোনো দর্শক ছিল না যে, তাদের উল্লাস ধ্বনি শুনে বলে দেওয়া যাবে কে অবধারিতভাবে এগিয়ে। যুক্তি তর্কের দিকেও মানুষের মনোযোগ ছিল কম। বাইডেন নিশ্চিতভাবেই ছিলেন সুবিধাজনক অবস্থানে। কিন্তু তার চেয়েও এগিয়ে ছিল করোনাভাইরাস, যা দুই প্রার্থীর উপস্থিতিকেই ম্লান করে দিয়েছিল।

বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন