default-image

সত্যের বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর সমর্থকদের লড়াই যেন থামছেই না। এ এক অদ্ভুত বাস্তবতার জন্ম দিয়েছে। নির্বাচনে পরাজয় নিশ্চিত হওয়ার পর প্রায় দুই সপ্তাহ হতে চলল, কিন্তু এখনো কিছু ডানপন্থী সংবাদমাধ্যম ট্রাম্প সমর্থকদের জয়ের আশা দেখাচ্ছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প সমর্থক গণমাধ্যমগুলো এখনো ভিত্তিহীনভাবে দাবি করে যাচ্ছে, ট্রাম্প জিতেছেন। একই সঙ্গে সামনে হাজির করছে ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’। শুধু গণমাধ্যম কেন, কট্টর ট্রাম্প সমর্থকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে বারবার করে এই ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্বই’ হাজির করা হচ্ছে। সাদা চোখে এ ধরনের আচরণ ছেলেমানুষিসুলভ হলেও এটিই বড় ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ, এ ধরনের নেতিবাচক প্রচারের মাধ্যমে ট্রাম্প তাঁর সমর্থকেরা মার্কিন নির্বাচন ব্যবস্থা এবং নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আইনি ভিতকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে দিচ্ছেন।

সিএনএনের সাংবাদিক ডেনিয়েল ডেল সম্প্রতি জানান, নির্বাচন নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বলা প্রায় কোনো কথাই সত্য নয়। এ কথা শুধু সিএনএন নয়, নিউইয়র্ক টাইমসসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম বলছে। এমনকি টুইটারে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার কারণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের করা অনেক টুইটের সঙ্গে সতর্কবার্তা জুড়ে দিয়েছে। কিন্তু এতে তিনি বা তাঁর সমর্থক হিসেবে পরিচিত সংবাদমাধ্যমগুলো একটুও নিরস্ত হচ্ছে না। প্রতি দিনই নিউজম্যাক্সের মতো টিভি চ্যানেলগুলোর মিথ্যায় ভরা খবর ও অনুষ্ঠান মানুষ দেখছে। তাদের বলে যাওয়া মিথ্যা মানুষের কানে পৌঁছাচ্ছে। তারা বলছে, ‘কিছুই শেষ হয়নি। মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলো এই মুহূর্তে যা বলছে, তা অগ্রাহ্য করুন।’

বিজ্ঞাপন
default-image

নিউজম্যাক্স যে তথ্য প্রচার করছে, তার মূল ভাষ্য হলো—নির্বাচন শেষ হয়নি। সংবাদমাধ্যমগুলো ভুল বলছে। বাইডেন দুর্বল ও ট্রাম্প দৃঢ় অবস্থানে রয়েছেন। এই অবস্থান নেওয়ার পেছনে যুক্তি হিসেবে নিউজম্যাক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ক্রিস রুডি বলেন, ‘সরকারি ঘোষণার পরই কেবল নিউজম্যাক্স অঙ্গরাজ্যের ফল ও ইলেকটোরাল কলেজের হিসাবকে আমলে নেবে।’ অর্থাৎ, সরকারি ঘোষণার আগ পর্যন্ত চ্যানেলটি একটি কল্পরাজ্যকে বারবার চিত্রিত করবে, যেখানে শুধু ট্রাম্পেরই জয় হয়। এটি এতটাই ট্রাম্প সমর্থক হয়ে উঠেছে, এখন তা ফক্স নিউজের দর্শকে ভাগ বসাচ্ছে। গত শুক্রবার চ্যানেলটিতে ৭ লাখের বেশি দর্শক ছিল।

নিউজম্যাক্সের এক উপস্থাপক ১৬ নভেম্বর এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘সবকিছু এখনো পর্যালোচনা করা হচ্ছে।’ বাইডেন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় না তিনি প্রেসিডেন্ট হবেন।’ এমনকি তিনি বিজয়ী ঘোষণা করে ট্রাম্পের দেওয়া টুইটে সতর্কবার্তা জুড়লেও বাইডেনের অনুরূপ ঘোষণায় কেন তা দেওয়া হলো না, সে প্রশ্নও তিনি তুললেন

সিএনএন জানায়, নিউজম্যাক্সের এক উপস্থাপক ১৬ নভেম্বর এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘সবকিছু এখনো পর্যালোচনা করা হচ্ছে।’ বাইডেন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় না তিনি প্রেসিডেন্ট হবেন।’ এমনকি তিনি বিজয়ী ঘোষণা করে ট্রাম্পের দেওয়া টুইটে সতর্কবার্তা জুড়লেও বাইডেনের অনুরূপ ঘোষণায় কেন তা দেওয়া হলো না, সে প্রশ্নও তিনি তুললেন। চ্যানেলটির বিভিন্ন টক-শোতে এই আলোচনাই হচ্ছে যে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়ের জোর সম্ভাবনা এখনো আছে। তারা এটাও বলছে, এ সম্পর্কে বড় ব্রেকিং নিউজটি এখনো আসার অপেক্ষায়। ১৬ নভেম্বরের টক-শোতে অতিথি হিসেবে ছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আইনজীবী ভিক্টোরিয়া টোনসিং, জেনা ইলিস ও ডিক মরিস। অনুষ্ঠানে মরিস বলেন, ‘এই নির্বাচন লুট করা হয়েছে বলে আমি মনে করি।’ সঙ্গে সঙ্গে উপস্থাপক এতে সম্মতি দিয়ে বলেন, ‘খুব বড় কোনো খবর আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। দ্রুতই হয়তো শুনব আমরা।’ অনুষ্ঠানে এও জানানো হয়, নির্বাচন নিয়ে আইনি লড়াইয়ে ট্রাম্পের হয়ে লড়ছেন দেশের সেরা সব আইনজীবীরা।

কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে নির্বাচন নিয়ে করা ট্রাম্প ও তাঁর সমর্থকদের মামলাগুলো একের পর এক মুখ থুবড়ে পড়ছে। এর কোনোটি আদালতে খারিজ হচ্ছে, আবার কোনোটি যথাযথ ভিত না থাকায় আদালত গ্রহণই করছেন না।

এ তালিকায় রয়েছে ট্রাম্পের পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা ওয়ান আমেরিকা নিউজ নেটওয়ার্ক (ওএএনএন)। গত কয়েক বছরে নিউজম্যাক্স যতটা, তার চেয়ে অনেক বেশি ট্রাম্পের সুনজরে ছিল এই চ্যানেল। ১৬ নভেম্বর ট্রাম্প এই চ্যানেলকে প্রমোট করতে আরেকটি টুইট করেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘ওএএনএন দেখতে পারেন। সত্যিই দারুণ।’ তবে ট্রাম্পের উদার পৃষ্ঠপোষকতায় বেড়ে ওঠা চ্যানেল একটু রয়েসয়ে করছে। নিউজম্যাক্সের সঙ্গে তারা ঠিক পেরে উঠছে না। তারা নির্বাচনের ফল এখনো ঘোষণা করেনি। তবে অন্য মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলোর ঘোষণা করা ফলকে মিথ্যাও বলছে না তারা। ট্রাম্পের সমর্থনে তারা বিভিন্ন টক-শোয়ের আয়োজন করছে, যেখানে আসা অতিথিরা মূলত বাইডেন ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের আক্রমণ করছেন। ভোট চুরির অভিযোগও তুলছেন। কিন্তু তা নিউজম্যাক্সের মতো করে নয়।

এ দুই টিভি চ্যানেল এখন ফক্সের বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে। সিএনএন জানায়, গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় নিউজম্যাক্সে ২৫ থেকে ৫৪ বছর বয়সী দর্শক সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৬৮ হাজার। একই সময়ে ফক্স নিউজ ও সিএনএনের দর্শক সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৩ লাখ ২৮ ও ৬ লাখ ৫১ হাজার। নিউজম্যাক্সের কারণে নিশ্চিতভাবেই দর্শক হারাচ্ছে ফক্স নিউজ। আগে ফক্সের দর্শক সংখ্যা এত কম ছিল না। নিউজম্যাক্সের মতো অতি ডানপন্থী সংবাদমাধ্যমগুলোর কারণে এখন ডানপন্থী সংবাদমাধ্যম হিসেবে ফক্স নিজের অবস্থান হারাচ্ছে। ফক্সের অপরাধ একটাই—এই অতি ডানপন্থী টিভি চ্যানেল তথা সংবাদমাধ্যমগুলোর মতো তারা সত্যকে গিলে ফেলতে পারেনি। নির্বাচনের দুই সপ্তাহ পরও তারা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়ের কোনো মিথ্যা আশ্বাস দর্শকদের দেখাচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0