বিজ্ঞাপন
default-image

টেলিফোনে দ্য টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্রিস ওয়ালেস বলেছেন, প্রার্থীরা দেশ নিয়ে কী ভাবছেন, তা নিয়েই বিতর্ক হওয়ার কথা ছিল। তা হয়নি। তবে এ বিতর্কের মাধ্যমে জানা গেছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশকে কীভাবে কোথায় নিয়ে যেতে চান। এসব বিবেচনা করলে বিতর্কটিকে সফল বলে মনে করেন ওয়ালেস।

২৯ সেপ্টেম্বরের বিতর্কে ডোনাল্ড ট্রাম্পই কথার পিঠে কথা বলেছেন বারবার। মার্কিন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে প্রতিক্রিয়ায় দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এই বিতর্ককে ‘সবচেয়ে বাজে’ প্রেসিডেনশিয়াল বিতর্ক বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। অনেকেই ওয়ালেসেরও সমালোচনা করছেন নিয়ন্ত্রণ করতে না পারার জন্য। আবার অনেকেই বলছেন, অন্য কেউ হলেও ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ন্ত্রণ করা সহজ ছিল না।

ক্রিস ওয়ালেস বলেছেন, শুরুতে তিনি সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগের প্রশ্ন করার পর বেশ উৎসাহ বোধ করছিলেন। দুই প্রার্থীই নিজেদের অবস্থান ভালো করেই ব্যাখ্যা করছিলেন। তবে এ পরিস্থিতি বিতর্কে দীর্ঘ হয়নি। দ্রুত নাজুক হয়েছে পরিস্থিতি।

default-image

হার্ভার্ড স্নাতক ক্রিস ওয়ালেস প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে শ্বেতাঙ্গ উগ্রবাদীদের নিয়ে প্রশ্নটি করে তাঁকে একটি সুযোগই দিয়েছিলেন। উগ্রবাদীদের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই, এ কথা বলতে পারতেন ট্রাম্প। তা না করে ট্রাম্প বলেছেন, ‘প্রাউড বয়েস’ নামের উগ্রবাদী সংগঠনের লোকজনকে তিনি সরে দাঁড়িয়ে প্রস্তুত থাকতে বলবেন। ট্রাম্পের এ কথা সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তীব্র সমালোচনার শিকার হয়।

ওয়ালেস বলেছেন, জনগণ নিজেদের মতো ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য ব্যাখ্যা করতেই পারে। যদিও তিনি এবং ডেমোক্রেটিক প্রার্থী জো বাইডেন একাধিক সুযোগ দিয়েছেন ট্রাম্পকে ‘প্রাউড বয়েস’ ও শ্বেতাঙ্গ উগ্রবাদীদের থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন দেখানোর। ওয়ালেস মনে করেন, ট্রাম্প সে সুযোগ গ্রহণ করেননি। তিনি নিজেও মনে করেন, বিতর্ক মঞ্চে ট্রাম্পের আচরণ উভয় প্রার্থীকেই প্রশ্ন করার জন্য অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বিতর্কের স্বাভাবিক নিয়মাবলি লঙ্ঘন হওয়ায় সময় চলে গেছে প্রশ্নের পরের প্রশ্ন করার জন্য।

default-image

ওয়ালেস মনে করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন প্রস্তুতি নিয়েই মঞ্চে এসেছিলেন এবং তিনি তাঁর অবস্থান পরিবর্তন না করেই বিতর্ক চালিয়ে গেছেন। বিতর্ক শেষ হওয়ার পর জো বাইডেন এগিয়ে আসেন ক্রিস ওয়ালেসের দিকে। মৃদুকণ্ঠে বলেন, ‘বাজি ধরে বলছি, বক্সিং খেলা জেনে তুমি এ কাজে আসোনি।’ বিতর্কের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্রিস ওয়ালেসের দিকে মাথা নাড়ালেও মঞ্চ ত্যাগের আগে কোনো কথা বলেননি।

ক্রিস ওয়ালেস যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীলদের কাছেও সমাদৃত সাংবাদিক। ফক্স নিউজের সতীর্থরা তাঁর প্রশংসাই করছেন। ২০১৮ সালের জরিপে ৭২ বছর বয়সী ক্রিস ওয়ালেসকে দেশটির সবচেয়ে বিশ্বস্ত টিভি উপস্থাপক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ট্রাম্প ও বাইডেনের বিতর্ক সব মিলে ৭৩ মিলিয়ন দর্শক দেখেছেন। যদিও ২০১৬ সালে ট্রাম্প ও হিলারির বিতর্ক দেখেছিলেন ৮৪ মিলিয়ন টিভি দর্শক

ট্রাম্প ও বাইডেনের বিতর্ক সব মিলে ৭৩ মিলিয়ন দর্শক দেখেছেন। যদিও ২০১৬ সালে ট্রাম্প ও হিলারির বিতর্ক দেখেছিলেন ৮৪ মিলিয়ন টিভি দর্শক।

প্রেসিডেনশিয়াল ডিবেট কমিশন ক্রিস ওয়ালেসের প্রশংসা করলেও জানিয়েছে, আগামী বিতর্কের আগে কাঠামোগত কিছু পরিবর্তন আনা হবে। যাতে মঞ্চ নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়। আগামী ১৫ ও ২২ অক্টোবর আবারও দুই প্রার্থীর মধ্যে বিতর্ক হওয়ার কথা।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন