ট্রাম্প-বাইডেন প্রথম সরাসরি বিতর্কই মনোযোগের কেন্দ্রে

বিজ্ঞাপন
default-image

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী আলোচনা এখন দুই প্রার্থীর আসন্ন সরাসরি বিতর্ককে ঘিরে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ২৯ সেপ্টেম্বর প্রথম সরাসরি বিতর্ক অনুষ্ঠিত হবে।

রিপাবলিকান প্রচার শিবির বলছে, প্রথম বিতর্কেই ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী জো বাইডেনকে ধরাশায়ী করতে পারবেন ট্রাম্প। শুরুর বিতর্কেই আমেরিকাকে ঐক্যবদ্ধ করার আন্তরিক বার্তাটি জনগণের কাছে পৌঁছাবে, এমন প্রত্যাশা বাইডেন শিবিরের।

কোভিড–১৯ পরিস্থিতির কারণে এবারের নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের মাঠের প্রচার অনেকটাই সীমিত। এখনো সমাবেশের নিয়ন্ত্রিত অবস্থা বিরাজ করছে। অন্যান্য বছরের মতো এখানে–ওখানে এবারের রাজনৈতিক আড্ডাও তেমন হচ্ছে না। আমেরিকার নির্বাচনে প্রান্তিক এলাকায় যেসব সামাজিক সংগঠন সক্রিয় থাকে, তারাও সমাবেশ করতে পারছে না। এ কারণে নির্বাচনী প্রচার অনেকটাই দুই প্রার্থীর কেন্দ্রীয় অবস্থান থেকেই পরিচালিত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতীয়ভাবে প্রচারে এগিয়ে আছেন। রাষ্ট্রীয় প্রচারকে ব্যবহার করার সুযোগ নিচ্ছেন তিনি। প্রতিদিনই কয়েকবার টুইট করছেন। হোয়াইট হাউসে প্রেস ব্রিফিং করছেন। সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে আসার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নানা বিষয়ে তাঁর স্বভাবসুলভ বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন।

ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন বহুমাত্রিক প্রচার চালাচ্ছেন। ডেমোক্রেটিক পার্টির ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসকে লাগানো হচ্ছে মাঠপর্যায়ের গণসংযোগের কাজে।

জো বাইডেন প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিতর্ক মঞ্চের অপ্রত্যাশিত লোক হিসেবে পরিচিত ডোনাল্ড ট্রাম্পকে মোকাবিলা করার জন্য।

ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগের সুযোগ এবারে সীমিত। সমাবেশে উপস্থিত হয়ে দলীয় সমর্থকদের সঙ্গে করমর্দন করার প্রচারণা এবারে উবে গেছে করোনা বাস্তবতায়।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

২৯ সেপ্টেম্বর ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ক্লিভল্যান্ডে সরাসরি উপস্থিত হবেন করোনাকালের দুই প্রেসিডেন্ট প্রার্থী।

দুই দলের জাতীয় কনভেনশনের পর রাজনৈতিক প্রচার এখন প্রার্থীকেন্দ্রিক।

জাতীয়ভাবে জনমতে ডোনাল্ড ট্রাম্প ফারাক কিছুটা হলেও কমিয়ে আনতে পেরেছেন এর মধ্যে। ব্যাটলগ্রাউন্ড রাজ্যগুলোয় দুই প্রার্থীর অবস্থান এখন খুব কাছাকাছি।

রিপাবলিকান–সমর্থকদের মতে, প্রথম বিতর্কেই ট্রাম্প চমৎকার করবেন। তাঁর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির জন্য দলটি চেয়ে আছে ২৯ সেপ্টেম্বরের দিকে।

ট্রাম্পের প্রচার শিবিরে ২০১৬ সালে উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন স্যাম নানবার্গ। তিনি বলেন, কনভেনশনের পরে নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতার হয়ে উঠছে বলে দেখা যাচ্ছে। ট্রাম্প জনমতের ব্যবধান কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন। প্রথম সরাসরি বিতর্কে ট্রামকে খুব ভালো করতে হবে বলে তিনি মনে করেন। স্যাম নানবার্গ বলেন, জাতীয়ভাবে সম্প্রচারিত এবারের টিভি বিতর্ক আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি লোকজন দেখবেন।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

টিভি বিতর্কে ট্রাম্প যে বেপরোয়া হবেন, এ নিয়ে কারও কোনো সন্দেহ নেই।

ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রবীণ নেতা, স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি সম্প্রতি ট্রাম্পের সঙ্গে বাইডেনের টিভি বিতর্কে না যাওয়ারই পরামর্শ দিয়েছিলেন।

ট্রাম্পের প্রচারণা শিবিরের কমিউনিকেশন ডিরেক্টর টিম মুরাগহ বলেছেন, করোনার কারণে টিভি বিতর্কের সময়সূচিতে কোনো পরিবর্তন হলে জো বাইডেনের সুবিধা হবে।

বাইডেন বেসমেন্ট থেকে কাগজপত্রের নোট দেখে স্কাইপে, ভিডিও কলে তাঁর প্রচারণা চালাতে পারবেন বলে টিম মুরাগহ উল্লেখ করেন।

গত সপ্তাহে জো বাইডেন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে বিতর্কে নামার জন্য ভালোভাবেই প্রস্তুত। এ ধরনের টিভি বিতর্কে সরাসরি সম্প্রচারের সময় ফ্যাক্ট চেক দেওয়া হয় টিভি স্ক্রিনে। ট্রাম্পের মিথ্যা তথ্যে ও ভিত্তিহীন বিভিন্ন দাবির অসারতার কথা লোকজন জানতে পারবে। বিষয়টি তাঁর নিজের জন্য সুবিধার বলে বাইডেন উল্লেখ করেছেন।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

রিপাবলিকান পার্টি ট্রাম্পের বিতর্ক ক্ষমতাকে এতই শক্তিশালী মনে করছে যে তারা অতিরিক্ত আরেকটি সরাসরি বিতর্কের প্রস্তাব দিয়েছে। প্রথা অনুযায়ী মার্কিন নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট প্রার্থীরা তিনটি বিতর্কে অংশ নিয়ে থাকেন। রিপাবলিকান পার্টি চতুর্থ আরেকটি বিতর্কের প্রস্তাব দিয়েছিল, যা বাইডেনের প্রচার শিবির থেকে নাকচ করে দেওয়া হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচনের আগে টিভিতে রিয়েলিটি শো করে সফল হয়েছিলেন। নিজেকে টিভি ক্যামেরার সামনে অপ্রতিরোধ্য মনে করেন।

যদিও বিতর্কে তাঁকে শৃঙ্খলার মধ্যে রাখা একটা দুরূহ ব্যাপার বলে অনেকেই মনে করেন। সহজেই উত্তেজিত হয়ে বেফাঁস কথা বলতেও তাঁর জুড়ি নেই।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, জো বাইডেন একজন কৌশলী বক্তা হিসেবে পরিচিত। দলের প্রাইমারিতে তিনি বার্নি সেন্ডার্সের মতো নেতাকে ভালোভাবেই মোকাবিলা করেছেন। জো বাইডেনকে বিদ্রূপ করে ট্রাম্প বলেছেন, এই লোকটা তো কিছুই জানেন না। বিতর্কের আগে জো বাইডেনের ড্রাগ টেস্ট করানোর আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর ধারণা, খেলোয়াড়দের মতো কৃত্রিম দক্ষতা বাড়ানোর জন্য জো বাইডেন মাদক গ্রহণ করতে পারেন।

নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে মনে হচ্ছে, আমেরিকার সাম্প্রতিক ইতিহাসে এমন বিভক্তির নির্বাচন কমই হয়েছে। খুব অল্পসংখ্যক ভোটারই পরিস্থিতির দিকে চেয়ে আছেন তাঁদের মনস্থির করার জন্য। প্রার্থীদের সরাসরি বিতর্ক এসব মনস্থির না করা লোকজনকে প্রভাবিত করবে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে ডেমোক্র্যাট, রিপাবলিকানসহ রাজনীতিমনস্ক লোকজনের দৃষ্টি এখন দুই প্রার্থীর প্রথম দফা সরাসরি বিতর্কের দিকেই। এই বিতর্ক যেকোনো প্রার্থীর জয়–পরাজয়ের নিয়ামক হয়ে উঠতে পারে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন