ট্রাম্প-পেলোসির গোস্‌সা, কথা-সাক্ষাৎ বন্ধ

বিজ্ঞাপন
default-image

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি দুই দলের শীর্ষ নেতা। তাঁদের মধ্যে কথাবার্তা অনেক দিন থেকেই বন্ধ। সরাসরি দেখা সাক্ষাৎ এড়িয়ে চলেন তাঁরা। একজন আরেকজনকে আক্রমণ করে কথা বলেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ইতিহাসে এমন ঘটনা নজিরবিহীন।

একজন আরেকজনের মুখ দেখতে পারেন না। করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে দেশের দুই লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যে আগুনে পুড়ছে মাইলের পর মাইল। এমন সংকটেও দেশের দুই ক্ষমতাধর ব্যক্তির মধ্যে কোনো সরাসরি কথাবার্তা নেই।

এমএসএনবিসির সাংবাদিক ক্রেইড মালভিনকে ১৪ সেপ্টেম্বর দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি নিজেই এসব কথা জানিয়েছেন। ক্যালিফোর্নিয়া থেকে নির্বাচিত এ আইনপ্রণেতা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলাকে সময়ের অপচয় বলে মনে করেন।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

সর্বশেষ গত বছরের ১৬ অক্টোবর হোয়াইট হাউসের এক সভায় সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার নিয়ে আলোচনার সময় দুই নেতার দেখা ও কথা হয়েছিল। ফেব্রুয়ারি মাসে ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্টের দিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও স্পিকার পেলোসি একই কক্ষে ছিলেন, তবে কথা হয়নি তাঁদের। প্রেসিডেন্টের স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন বক্তব্য দেওয়ার দুই দিন পর ছিল ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্ট।

স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন বক্তব্য দেওয়ার দিনে ন্যান্সি পেলোসি করমর্দনের জন্য প্রেসিডেন্টের দিকে এগিয়ে গেলেও ট্রাম্প তা এড়িয়ে যান। ন্যান্সি পেলোসি এর পরে প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে একটি কপি ছিঁড়ে ফেলেছিলেন। স্পিকার পেলোসি নিশ্চিত করেছেন, তিনি ক্যালিফোর্নিয়ায় ব্যাপক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায়ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি। করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের জন্য নাগরিক প্রণোদনা নিয়ে যে সমঝোতার চেষ্টা চলছে, তা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ও স্পিকারের মধ্যে সরাসরি কোনো আলোচনা নেই। স্পিকার কথা বলেন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্টিভেন মানচিন এবং হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ মার্ক মেডোসের সঙ্গে।

পেলোসি সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমি প্রেসিডেন্টের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলি। তাঁরা প্রেসিডেন্টের পক্ষে কথা বলেন। প্রথম নাগরিক প্রণোদনা আইন পাসসহ ইউএস মেক্সিকো এবং কানাডা ট্রেড প্যাক্ট নিয়ে প্রেসিডেন্টের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেই একযোগে কাজ করি। আমি তাঁর (ট্রাম্প) সঙ্গে কথা বলাকে সময়ের ভালো ব্যবহার বলে মনে করি না।’

গত বছরের ১৬ অক্টোবর হোয়াইট হাউসের এক সভায় সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার নিয়ে আলোচনার সময় দুই নেতার দেখা ও কথা হয়েছিল। ফেব্রুয়ারি মাসে ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্টের দিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও স্পিকার পেলোসি একই কক্ষে ছিলেন, তবে কথা হয়নি তাঁদের
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও গত সপ্তাহে বলেছেন, তিনি করোনাভাইরাস প্রণোদনা প্যাকেজ নিয়ে ন্যান্সি পেলোসি বা সিনেটে ডেমোক্রেটিক দলের নেতা চার্লস শুমারের সঙ্গে বৈঠক করবেন না। নিজেই ভিন্ন পথ গ্রহণ করবেন। ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমি এই দুজনকে জানি। তাঁরা মনে করেন, কোনো সমঝোতায় না আসাটাই ভালো রাজনীতি।’

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মজীবীদের সপ্তাহে ৬০০ ডলার করে দেওয়া বেকার ভাতা প্রদানের মেয়াদ গত জুলাই মাসেই শেষ হয়ে গেছে। এরপর আরেক দফা নাগরিক প্রণোদনা নিয়ে কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটরা একটি আইন প্রস্তাব পাস করেছেন। সিনেটে রিপাবলিকান দল ভিন্ন প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আইনপ্রণেতাদের পাশ কাটিয়ে নিজেই এ নিয়ে নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন।

নাগরিকদের চরম অর্থনৈতিক সংকটে কংগ্রেস, সিনেট ও হোয়াইট হাউসের সমঝোতার দিকে চেয়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের লোকজন অবাক হয়ে দেখছে ভিন্ন বাস্তবতা। উচ্চ পর্যায়ে আলোচনার কথা বলা হচ্ছে বারবার। আবার আলোচনা ভেস্তেও যাচ্ছে। রিপাবলিকান শিবিরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পই সব সমঝোতার শেষ কথা। এদিকে ডেমোক্রেটিক দলের নিয়ন্ত্রণে থাকা কংগ্রেসে ন্যান্সি পেলোসিই নেতা। তাঁদের মধ্যে নাজুক সম্পর্কের কারণেও যেকোনো সমঝোতা বিলম্ব হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

আমি প্রেসিডেন্টের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলি। তাঁরা প্রেসিডেন্টের পক্ষে কথা বলেন। প্রথম নাগরিক প্রণোদনা আইন পাসসহ ইউএস মেক্সিকো এবং কানাডা ট্রেড প্যাক্ট নিয়ে প্রেসিডেন্টের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেই একযোগে কাজ করি। আমি তাঁর সঙ্গে কথা বলাকে সময়ের ভালো ব্যবহার বলে মনে করি না
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রসঙ্গে ন্যান্সি পেলোসি
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

পেলোসি ও ট্রাম্পের মধ্যে সরাসরি কোনো বৈঠক এখন আর ভাবাই যাচ্ছে না। গত বছরের অক্টোবরের দুজনের শেষ সভার পরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ন্যান্সি পেলোসিকে নিয়ে বলেছেন, তিনি একজন তৃতীয় শ্রেণির নেতা, তৃতীয় শ্রেণির রাজনীতিক। আর পেলোসি ট্রাম্পকে বিদ্রূপ করে বলেছেন, তাঁর সব সড়ক রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দিকে যায়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, তিনি জঙ্গিগোষ্ঠী আইসিসকে পেলোসির চেয়ে বেশি ঘৃণা করেন।

ন্যান্সি পেলোসি একজন অসুস্থ নারী। পেলোসির অনেক মানসিক সমস্যা আছে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

এরপরই পেলোসি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আমাদের সবাইকে ট্রাম্পের সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করতে হবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এর আগে স্পিকার ন্যান্সি পেলোসিকে লক্ষ্য করে বলেছেন, ‘একজন অসুস্থ নারী’। পেলোসির অনেক মানসিক সমস্যা আছে বলেও ট্রাম্প বলেছেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন