ট্রাম্প নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্র আরও পুড়বে: বাইডেন

বিজ্ঞাপন
default-image

মার্কিন নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক দল থেকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্পর্কে বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন অস্বীকার করে এমন লোককে আরও চার বছরের জন্য হোয়াইট হাউসে পাঠালে পরিণতি হবে ভয়াবহ। যুক্তরাষ্ট্র আরও পুড়বে, আরও পানিতে ডুববে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ক্যালিফোর্নিয়া সফরের কিছু আগে নিজের রাজ্য ডেলাওয়ার থেকে দেওয়া এক বক্তব্যে জো বাইডেন জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করে এই কথা বলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমের অঙ্গরাজ্যগুলোর দাবানলের উত্তাপ এখন জাতীয় নির্বাচনে। পুড়ে যাওয়া বনাঞ্চল আর বিরান জনপদে দাঁড়িয়ে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর বলে দাবি করা দেশের দুই নেতা বলছেন ভিন্ন ভিন্ন কথা। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র দেড় মাস আগে নির্বাচনী প্রচারে যেন দাবানলের সেই উত্তাপ লেগেছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী জো বাইডেন বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই এমনটি হচ্ছে। তাপ প্রবাহ, সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার জন্য জলবায়ুর পরিবর্তনকে দায়ী বলে মনে করেন জো বাইডেন। অপরদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির বিষয়টি বিশ্বাসই করেন না। গ্রিন হাউস প্রতিক্রিয়া এবং ফসিল ওয়েলের ব্যবহারের পরিবেশ ও জলবায়ুগত প্রতিক্রিয়ায় বিশ্বাস নেই ট্রাম্পের।

যুক্তরাষ্ট্রে দাবানলে এর মধ্যেই অন্তত ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ হয়েছে বহু লোক। পশ্চিমাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে ছড়িয়ে পড়া দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। গত তিন সপ্তাহ ধরে অরেগন, ক্যালিফোর্নিয়া ও ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের বিশাল এলাকা দাবানলে পুড়ছে। পুড়ে ছাই হয়ে গেছে কয়েক হাজার বাড়ি। লাখো মানুষকে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে হয়েছে। দাবানলের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলের অঙ্গরাজ্যগুলো এক ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

দমকলকর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও ভারী ধোঁয়ার কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। বাতাসের মান পর্যবেক্ষণ-সংক্রান্ত ফেডারেল সংস্থা জানিয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়া, অরেগন, ওয়াশিংটন ও আইদাহোর বাতাস অস্বাস্থ্যকর হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতি কোভিড-১৯ মহামারিতে মানুষকে আরও ঝুঁকিতে ফেলবে বলে স্বাস্থ্যসেবীরা সতর্ক করছেন।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

১৪ সেপ্টেম্বর ক্যালিফোর্নিয়াতে দাবানল নিয়ে এক ব্রিফিংয়ে রাজ্যের প্রাকৃতিক সম্পদ বিভাগের প্রধান ওয়েড ক্রোফুটের সঙ্গে কথা বলছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ক্রোফুট বলেন, জলবায়ুতে উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে এবারে ক্যালিফোর্নিয়ার দাবানল নাজুক হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর এই কথার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন। একপর্যায়ে ক্রোফুট প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বলেন, ‘আমি মনে করি না বিজ্ঞান আপনার সঙ্গে একমত পোষণ করে।’ জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি মনে করেন বিজ্ঞান এ বিষয়টি জানেই না।

ক্যালিফোর্নিয়ার প্রাকৃতিক সম্পদ প্রধান ওয়েড ক্রোফুট ট্রাম্পকে জানান, বনাঞ্চলের দাবানল সমস্যা নিয়ে কাজ করার জন্য বিজ্ঞানকে একটা ভিত্তি মনে করে কাজ করতে হবে। রাজ্য ও ফেডারেল সরকারের মধ্যে এ নিয়ে একটি সাধারণ সমঝোতার ভিত্তিই হতে পারে বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য। ট্রাম্পকে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি এড়িয়ে না যাওয়ার অনুরোধ জানান ক্রোফুট।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
দাবানলের মতো ঘটনা ঘটছে ব্যবস্থাপনার অভাবে। অন্যান্য দেশ যেমন অস্ট্রিয়া, ফিনল্যান্ডের মতো দেশে বিশাল বনাঞ্চল তারা সামাল দিচ্ছে নিরাপদভাবেই
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

জলবায়ু সমস্যা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিকেরা এমনিতেই বিভক্ত। রক্ষণশীলদের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক উষ্ণতা—এসব নিয়ে কোনো বিশ্বাস নেই। তাঁরা মনে করেন, এসব অতি উদারনৈতিকদের মনগড়া কথা।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জলবায়ু সংরক্ষণ নিয়ে বিশ্ব নেতাদের চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করার কথা বলেছেন প্রথম দফা ক্ষমতায় এসেই। তিনি জলবায়ু নিয়ে করা ঐতিহাসিক প্যারিস চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করেছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, দাবানলের মতো ঘটনা ঘটছে ব্যবস্থাপনার অভাবে। অন্যান্য দেশ যেমন অস্ট্রিয়া, ফিনল্যান্ডের মতো দেশে বিশাল বনাঞ্চল তারা সামাল দিচ্ছে নিরাপদভাবেই।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন