ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী সমাবেশে হাজারো মানুষের সমাগম হয়। কিন্তু তাঁদের অধিকাংশই স্বাস্থ্যবিধি মানেন না। ৩১ অক্টোবর, মিশিগান
ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী সমাবেশে হাজারো মানুষের সমাগম হয়। কিন্তু তাঁদের অধিকাংশই স্বাস্থ্যবিধি মানেন না। ৩১ অক্টোবর, মিশিগানছবি: রয়টার্স

মার্কিন নির্বাচনের আর মাত্র দুই দিন বাকি। নির্বাচন উপলক্ষে বেশ জোরেশোরে চলছে দুই প্রার্থী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জো বাইডেনের প্রচার সমাবেশ। তবে স্বাস্থ্যবিধি না মানায় ট্রাম্পের সমাবেশ থেকে এ পর্যন্ত ৩০ হাজার জন করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন। আর এতে প্রায় ৭০০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে নতুন এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের দ্য স্টানফোর্ড ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক এই গবেষণাটি করেছেন। গত ৩০ অক্টোবর গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১৮টি সমাবেশ পর্যবেক্ষণ করে গবেষকেরা এই গবেষণাটি করেছেন।

এই গবেষণা থেকে বোঝা যায়, করোনা মহামারিকে ট্রাম্প মোটেও গুরুত্বের সঙ্গে নেননি। তাঁর সমাবেশই দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার জন্য দায়ী। স্বাস্থ্যবিধি না মেনে নিজের স্বার্থে সমাবেশ করে আজ হাজারো মানুষ করোনায় সংক্রমিত হয়েছে। মৃত্যুও হয়েছে কয়েক শ মানুষের
অ্যান্ড্রু গেটস, জো বাইডেনের মুখপাত্র
বিজ্ঞাপন
default-image

গবেষক ও স্টানফোর্ড ইউনিভার্সিটির অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান বি ডগলাস বার্নহেইম বলেন, যেসব কমিউনিটিতে ট্রাম্পের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেসব এলাকায় মূলত করোনার সংক্রমণ ছড়িয়েছে বেশি এবং মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

গবেষকেরা বলেছেন, সমাবেশে স্বাস্থ্যবিধি যেমন—সামাজিক দূরত্ব মেনে না চলা ও মাস্ক ব্যবহার না করার কারণে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। তবে সেপ্টেম্বরের পরের সমাবেশগুলোতে কিছু কিছু ক্ষেত্রে অনেকেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেছেন। যদিও ট্রাম্প শিবির থেকে সমর্থকদের সমাবেশে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে মাস্ক ব্যবহার ও তাপমাত্রা পরীক্ষা করানোর কথা বলা হয়েছিল।

ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী জো বাইডেনের মুখপাত্র অ্যান্ড্রু গেটস বলেন, এই গবেষণা থেকেও বোঝা যায়, করোনা মহামারিকে ট্রাম্প মোটেও গুরুত্বের সঙ্গে নেননি। তাঁর সমাবেশই দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার জন্য দায়ী। স্বাস্থ্যবিধি না মেনে নিজের স্বার্থে সমাবেশ করে আজ হাজারো মানুষ করোনায় সংক্রমিত হয়েছে। মৃত্যুও হয়েছে কয়েক শ মানুষের।

default-image

পলিটিকোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও গত ৩১ অক্টোবর মিশিগানে এক সমাবেশে এই গবেষণা প্রতিবেদন নিয়ে ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন।

এই গবেষণা প্রতিবেদনকে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ বলে হোয়াইট হাউস থেকে মন্তব্য করা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জাড ডিয়ার বলেছেন, ট্রাম্প সমর্থকদের বিব্রত করার উদ্দেশ্যেই ‘ত্রুটিপূর্ণ’ গবেষণাটি করা হয়েছে।

ট্রাম্প সমর্থকদের বিব্রত করার উদ্দেশ্যেই ‘ত্রুটিপূর্ণ’ গবেষণাটি করা হয়েছে
জাড ডিয়ার, হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র

ট্রাম্পের প্রচার শিবিরের মুখপাত্র কোর্টনি প্যারেলা বলেন, সমাবেশে যোগ দিতে আসা সমর্থকদের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ ছাড়া তাঁদের মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে তা ব্যবহার করতে বলা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর অধীনে আমেরিকানদের কোথাও একত্রিত হওয়ার অধিকার রয়েছে। আর আমরা প্রতিটি সমাবেশে কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করি।’

এদিকে জো বাইডেনের নির্বাচনী সমাবেশ সামাজিক দূরত্ব মেনে খুব অল্প পরিসরে আয়োজন করা হয়। এসব সমাবেশে খুব বেশি মানুষের ভিড় থাকে না। তাঁরা সবাই মাস্ক ব্যবহার করেন।

বিজ্ঞাপন
সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর অধীনে আমেরিকানদের কোথাও একত্রিত হওয়ার অধিকার রয়েছে। আর আমরা প্রতিটি সমাবেশে কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করি
কোর্টনি প্যারেলা, ট্রাম্পের প্রচার শিবিরের মুখপাত্র

করোনাভাইরাস প্রতিরোধ মাস্ক পরা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নানা সময় বিতর্কিত মন্তব্য করে আলোচনায় এসেছেন। কখনো বলেছেন, মাস্ক পরা ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর কোনো সমস্যা নেই, আবার তিনি মাস্কের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। মাস্ক পরা ব্যক্তিদের নিয়ে কখনো ট্রাম্প ঠাট্টা-বিদ্রূপ করেছেন, কখনো বলেছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই তাঁরা মাস্ক পরেন।

১ অক্টোবর ডোনাল্ড ট্রাম্প, ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পসহ ট্রাম্পের প্রচার শিবির ও হোয়াইট হাউসের ডজনখানেক কর্মকর্তা করোনায় সংক্রমিত হওয়ার কিছুদিন আগেও তিনি মাস্ক পরা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জো বাইডেনকে নিয়ে ঠাট্টা করেছিলেন।

এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে দৈনিক করোনা সংক্রমণের রেকর্ড হয়েছে। গত ২৯ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রে একদিনে সর্বোচ্চ ৯১ হাজার করোনা সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এক ডজনের বেশি অঙ্গরাজ্যে করোনার সংক্রমণ বাড়তে দেখা গেছে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। একই দিনে করোনাভাইরাসে দেশটিতে এক হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছেন। দেশটিতে হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও মৃতের সংখ্যা ঊর্ধ্বমুখী।

জনস হপকিনস ইউনিভার্সিটির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে এ পর্যন্ত মোট করোনা সংক্রমণ শনাক্তের সংখ্যা ৯১ লাখ ১৬ হাজার ১৮৬। দেশটিতে করোনায় মারা গেছেন ২ লাখ ৩০ হাজার ৩৪৫ জন।

মন্তব্য পড়ুন 0