default-image

মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ আজ সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন অভিযোগ সিনেটে পাঠাচ্ছে। ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিল হামলায় নিজের উগ্র সমর্থকদের উসকে দেওয়ার ঘটনায় প্রতিনিধি পরিষদে এরই মধ্যে অভিশংসিত হয়েছেন ট্রাম্প। এবার এই অভিশংসনের অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে সিনেটে পাঠানোর মধ্য দিয়ে সেখানে তাঁর দ্বিতীয় অভিশংসনের শুনানি শুরু হতে যাচ্ছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্যমতে, আজ সোমবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার দিকে প্রতিনিধি পরিষদের সাত ডেমোক্র্যাট সদস্য সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিশংসনের অভিযোগ নিয়ে সেই ভবনে যাবেন, যেখানে হামলা চালাতে নিজ সমর্থকদের উসকানি দেওয়ার দায়ে তাঁকে প্রতিনিধি পরিষদে দ্বিতীয়বার অভিশংসিত হতে হয়েছে। সিনেটে এই অভিযোগ পৌঁছানোর পর আনুষ্ঠানিকভাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় এই অভিশংসনের শুনানি শুরু হবে।

গত বছরের জানুয়ারিতেও ঠিক একই রকম একটি আনুষ্ঠানিকতা হয়েছিল। সে সময় ক্ষমতার অপব্যবহার অভিযোগে ট্রাম্পকে নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে অভিশংসিত হতে হয়েছিল। যদিও সেই অভিশংসন প্রস্তাব সিনেটে আর পাস হয়নি।

রয়টার্স জানায়, আজ প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা যখন ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন অভিযোগ নিয়ে ক্যাপিটল হিলে যাবেন, তখন দুটি ইতিহাস রচিত হবে। কারণ, এর মধ্য দিয়ে ট্রাম্প প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয়বার অভিশংসিত হবেন। শুধু তাই নয়, প্রেসিডেন্সি ছাড়ার পর প্রথম অভিশংসিত হওয়া প্রথম প্রেসিডেন্টও হতে যাচ্ছেন তিনি। সিনেটে অভিশংসন শুনানিতে অভিযুক্ত প্রমাণিত হলে, ভবিষ্যতে কোনো নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার যোগ্যতা হারাবেন ট্রাম্প।

সিনেটে রিপাবলিকান দলের আগের সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা এখন আর নেই। এখন সেখানে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান সদস্য সংখ্যা সমান। এ অবস্থায় ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের ভোটের মাধ্যমে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে ডেমোক্রেটিক দল। এ অবস্থায় আগের মতো খারিজ হওয়ার আশঙ্কা না থাকলেও অভিশংসনের পক্ষে মত আসারও তেমন সম্ভাবনা নেই। কারণ, সিনেটে ট্রাম্পকে অভিযুক্ত করতে হলে ১৭ রিপাবলিকান সিনেটরকে নিজেদের দলে টানতে হবে ডেমোক্র্যাটদের।

বিজ্ঞাপন

এদিকে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের অনুরোধের প্রেক্ষাপটে এবং রিপাবলিকান দলকে প্রস্তুতি নেওয়ার সময় দিতে ডেমোক্র্যাটরা ৯ ফেব্রুয়ারির আগে শুনানি শুরু না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে জো বাইডেন তাঁর অগ্রাধিকার তালিকাভুক্ত বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি তাঁর মন্ত্রিসভা চূড়ান্ত করবেন।

উল্লেখ্য, সব চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ৬ জানুয়ারি জো বাইডেনের বিজয় কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে প্রত্যয়নের সময় ট্রাম্প ক্যাপিটল হিলের বাইরে ডাকা সমাবেশে নিজের সমর্থকদের প্রতি ‘যুদ্ধ’ করে নির্বাচনের ফল বদলে দেওয়ার আহ্বান জানান। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে ট্রাম্পের উগ্র সমর্থকেরা শেষ পর্যন্ত ক্যাপিটল হিলে হামলা চালায়। এ অবস্থায় ‘রাষ্ট্রদ্রোহে’ উসকানি দেওয়ার অভিযোগে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব আনা হয় প্রতিনিধি পরিষদে। এ প্রস্তাব দ্রুত পাস হয়, যার পক্ষে ১০ জন রিপাবলিকান সদস্যও ভোট দেন। সিনেটে এমন হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে সিনেটের সাবেক সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা মিচ ম্যাককনেল ৬ জানুয়ারির ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছিলেন। একইভাবে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছিলেন সিনেটর মিট রমনি।

এ বিষয়ে মিট রমনি সিএনএনকে বলেন, ‘যে অভিযোগ আনা হয়েছে এবং আমরা যা দেখেছি, তা হলো রাষ্ট্রদ্রোহে উসকানি, যা অভিশংসনযোগ্য অপরাধ। এটা যদি অভিশংসনযোগ্য না হয়, তবে আর কোনটি হবে?’

মিট রমনি প্রথম অভিশংসন প্রক্রিয়াতেও একমাত্র রিপাবলিকান সিনেটর হিসেবে ট্রাম্পের অভিশংসনের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন।

তবে সবাই মিট রমনির মতো নন। মার্কো রুবিওর মতো অনেক সিনেটর আছেন, যারা এই অভিশংসন প্রক্রিয়াকে ‘বোকামো’ বলছেন। এ বিষয়ে তিনি ফক্স নিউজকে বলেছেন, ‘এই দেশ এমনিতেই অগ্নিগর্ভ হয়ে আছে। এর মধ্যে এমন পদক্ষেপ এতে ঘি ঢালার কাজটি করবে, যা এই আগুনকে আরও বিধ্বংসী করে তুলবে।’

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন