default-image

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন কাল মঙ্গলবার। ১ নভেম্বর সশরীরে আগাম ভোট শেষ হয়েছে। প্রায় ১০ কোটি মানুষ আগাম ভোট দিয়েছে। ৩ নভেম্বরে কমপক্ষে আরও ছয় কোটি ভোটার ভোট দেবেন বলে ধারনা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এমন কখনো হয়নি। নির্বাচনের একদিন আগেই অধিকাংশ ভোটার তাদের রায় দিয়ে দিয়েছেন। এসব আগাম ভোট, ডাকযোগে ভোট নিয়ে সমস্যা শুরু হতে পারে। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভিন্ন কোন ইতিহাসও দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ দেশের ইতিহাসে কোন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে এমন সংশয় আর উৎকণ্ঠা দেখা যায়নি।

সব জরিপ বলছে, ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন এগিয়ে আছেন। আবার সব আলোচনায় একই সংশয়, ট্রাম্প কী আবার কোন জাদু দেখাবেন?

উত্তর–পূর্বের রাজ্য পেনসিলভানিয়ায় ট্রাম্পের বাঁচা–মরার লড়াই। এই রাজ্যে জয় না পেয়ে তাঁর পুনর্নির্বাচিত হওয়া কঠিন হয়ে উঠবে। বিষয়টা বোঝেন বাইডেনও। তাই এই রাজ্যে চোখ তাঁরও। তিনি ভোটের আগে শেষ দিন এই রাজ্যে নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন নিয়ে এমন উত্তেজনা, এমন সংশয় আগে কখনো দেখা যায়নি। জরিপে বাইডেন এগিয়ে আছেন। হয়তো পপুলার বা জনপ্রিয় ভোট তিনিই বেশি পাবেন।

২০১৬ সালে যত ভোট পড়েছে, এবার তার প্রায় ৬৫ শতাংশ ভোট আগেই পড়েছে। এমনিতেই যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে লোকজনের দেখা পাওয়া যায় না। এবারের নির্বাচনের দিন ভিড় কম হওয়ার সম্ভাবনা আরও বেশি। কোভিড-১৯ সংক্রমণের কারণে মানুষের চলাচল এখনো সর্বত্র স্বাভাবিক নয়। নির্বাচনের ফলাফল মঙ্গলবার রাতে নাও পাওয়া যেতে পারে।

বিজ্ঞাপন
অন্যান্য বছরের চেয়ে দশগুণ বেশি ডাকযোগে ভোট পড়েছে এবার। গণনা সম্পন্ন হতে কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহও লাগতে পারে। এসব ভোটের গণনা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিরোধ সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়াতে পারে

ডাকযোগে পাওয়া ভোট ও আগাম ভোটের গণনা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে উত্তেজনা শুরু হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কখনো কোন নির্বাচন নিয়ে এমন ধারণা করা হয়নি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তিপূর্ণভাবে ফল মেনে নেওয়ার আগাম কোন নিশ্চয়তা দিতে পারেননি। ফলাফল সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে জোর কথাবার্তা চলছে।

পেনসিলভানিয়া রাজ্যে সশরীরে ভোট দাতাদের মধ্যে হয়তো কিছুটা এগিয়ে থাকবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এসব ভোট গণনা হয়ে যাবে আগেভাগেই। কিছুটা এগিয়ে থাকলে ও পূর্ণ ফলাফল আসার আগেই ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করে দিতে পারেন বলে কোন কোন সংবাদমাধ্যমে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত বলছেন, মঙ্গলবার রাতেই তিনি নির্বাচনের ফলাফল আশা করছেন।

অন্যান্য বছরের চেয়ে দশগুণ বেশি ডাকযোগে ভোট পড়েছে এবার। গণনা সম্পন্ন হতে কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহও লাগতে পারে। এসব ভোটের গণনা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিরোধ সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়াতে পারে।

এমন অবস্থায় ট্রাম্পের সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে সংঘর্ষ, সংঘাতের তীব্র আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন আশঙ্কাও যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন নিয়ে আগে কখনো করা হয়নি।

সুপ্রিম কোর্টে গেলে বর্তমান বাস্তবতায় ট্রাম্প সুবিধা পাবেন বলে মনে করা হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টে রক্ষণশীল প্রাধান্যের কারণে এমন সন্দেহ আরও প্রবল হয়ে উঠেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন জাতীয় পর্যায়ে হলেও প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন রাজ্য পর্যায়ে বণ্টন করা ইলেকটোরাল ভোটে। জনসংখ্যার অনুপাতে এসব ইলেকটোরাল ভোট ভাগ করা আছে। ৫৩৮টি ইলেকটোরাল ভোটের মধ্যে যিনি ২৭০টি পান তিনিই নির্বাচনে জয়ী হবেন। ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান প্রার্থীর বিজয়ের একাধিক পথ থাকে ইলেকটোরাল ভোটের জটিল হিসাবে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০১৬ সালে জিতেছিলেন ৩০টি অঙ্গরাজ্য এবং মেইন অঙ্গরাজ্যের একটি ভোটসহ সব মিলে ৩০৬টি ভোট পেয়েছিলেন। তিনি তাঁর ২০১৬ সালে পাওয়া ইলেকটোরাল ভোট থেকে কিছু হারালেও জয় পাওয়ার সুযোগ থেকে গেছে। মিশিগান, উইসকনসিন ও পেনসিলভানিয়ায় তাঁর বিজয় নিশ্চিত নয়। মিশিগান, উইসকনসিনেও তাঁর জয়ের সম্ভাবনা ক্ষীণ। এই দুই রাজ্য বাদ দিলে পেনসিলভানিয়ায় তাঁকে জয় পেতেই হবে। মিশিগান ও উইসকনসিনকে বাদ দিয়ে বাইডেনের জয়কে কঠিন মনে করা হচ্ছে।

ভোট গ্রহণ শুরুর ১০ ঘণ্টা আগ পর্যন্ত দুই প্রার্থীর সভা–সমাবেশে ব্যস্ত সময় পার করবেন। সোমবার মধ্যরাত পর্যন্ত ট্রাম্প ও জো বাইডেন মিশিগান ও পেনসিলভানিয়ার মতো সুইং স্টেটের মাঠেই আছেন।

ডেমোক্র্যাটরা বলছেন, ট্রাম্প পরাজিত হলে ক্ষমতা ছাড়বেন না, তাই সংঘাত অনিবার্য। রিপাবলিকানরা বলছেন, বাইডেন জিতলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুক হবে। অনেকের অভিযোগ, রাশিয়া ও ইরান এবার মার্কিন নির্বাচনে নানাভাবে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে?

পেনসিলভানিয়ায় সমাবেশে ট্রাম্প বলেছেন, বাইডেন শুধু কোভিড–১৯ ছাড়া বলার আর কিছু পাচ্ছেন না। দ্রুতই ভ্যাকসিন চলে আসছে।

ট্রাম্পের সমর্থকদের এ নিয়ে নির্বিকার দেখা গেছে। মাস্ক বা সামাজিক দূরত্বের কোন বালাই দেখা যায়নি তাদের মধ্যে। ট্রাম্প নিজেই বলেছেন, পেনসিলভানিয়ায় জিতলেই লড়াই শেষ। হোয়াইট হাউস জিতে যাবেন তিনি।

বাইডেন বলেছেন, মার্কিন জনগণের ভালো ও মন্দ, আলো ও অন্ধকারের মধ্যে বাছাই করার দিন ৩ নভেম্বর। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, এবার পরবর্তী মার্কিন প্রজন্ম ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে প্রভাবক হয়ে উঠেছে।

এবার কংগ্রেসের পুরো ৪৩৫টি আসনে নির্বাচন হচ্ছে, কিছু সিনেট, গভর্নর পদেও নির্বাচন হচ্ছে। বাইডেন বা ডেমোক্র্যাটরা আশা করছেন, হাউস, সিনেট, হোয়াইট হাউস তাঁরা জিতবেন। এমন হলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটবে।

২ নভেম্বর দুই প্রার্থী সুইং স্টেটে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এসব রাজ্য জিতে ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে থাকতে আর বাইডেন হোয়াইট হাউস দখলের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0