default-image

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ছেড়ে যাচ্ছেন তাঁর আইনজীবীরা। এ কারণে মার্কিন সিনেটে অভিশংসন আদালতে নিজের আত্মপক্ষ সমর্থনের যুক্তি তর্ক উপস্থাপনের জন্য আইনজীবী খুঁজে পাচ্ছেন না ট্রাম্প। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠজনের বরাত দিয়ে সিএনএন ৩০ জানুয়ারি এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

অভিশংসন আদালতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে থাকতে আইনজীবীদের এমন সরে দাঁড়ানোর এ বিষয়কে নাটকীয় ঘটনা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রাম্প এখনো নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে বলে নিজের দাবি অব্যাহত রেখেছেন। আইনজীবীদের নির্বাচনে চুরি হয়েছে উল্লেখ করে অভিশংসন আদালতে যুক্তিতর্ক করার চাপ দিয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাচ ব্রাওয়ার ও ডেবোরাহ বারবিয়ার নামের দুই শীর্ষ আইনজীবী অভিশংসন আদালতে ট্রাম্পের পক্ষে থাকবেন বলে জানানো হয়েছিল। তবে এই দুই আইনজীবীই এখন আর ট্রাম্পের পক্ষে নেই। পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমেই আইনজীবীদের সঙ্গে ট্রাম্পের এমন বিচ্ছেদ ঘটেছে। প্রধান আইনজীবী হিসেবে বাচ ব্রাওয়ারই অভিশংসন আদালত মোকাবিলার জন্য ট্রাম্পের আইনজীবী দল গঠন করছিলেন।

বিজ্ঞাপন
default-image

জোস হাওয়ার্ড নামের নর্থ ক্যারোলাইনার একজন আইনজীবী ট্রাম্পের অভিশংসন মোকাবিলায় জড়িত হয়েছিলেন বলে তাঁর প্রচার শিবির থেকে বলা হয়েছিল। এবার জোস হাওয়ার্ডের সঙ্গে একই কাজে যুক্ত হওয়া জনি গ্যসার ও গ্রেগ হ্যারিস নামের অন্য দুই আইনজীবীও অভিশংসন মামলা থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছেন।

এখনো অন্য কোনো আইনজীবী ট্রাম্পের এ মামলায় যুক্ত হওয়ার কথা জানা যায়নি। ট্রাম্পের শেষ সময়ের সহযোগী রুডি জুলিয়ানি জানিয়েছেন, তিনি মামলায় আইনজীবী হিসেবে থাকছেন না। জুলিয়ানি নিজে বলেছেন, তাঁকে সাক্ষী হিসেবে মামলায় ডাকা হতে পারে। ট্রাম্পের ভুয়া মামলা নিয়ে দৌড়ঝাঁপের জন্য দিনে ২০ হাজার ডলার ফি দাবি করেছিলেন জুলিয়ানি। এ ঘটনায় ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের অবনতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

বিষয়টির সঙ্গে অবগত আছেন এমন লোকজনের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলেছে, নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে এবং ভোট জালিয়াতি হয়েছে বলে অভিশংসন আদালতে যুক্তি তুলে ধরার জন্য ট্রাম্প আইনজীবীদের চাপ দিচ্ছিলেন। নির্বাচনের ফল না মানার অবস্থান থেকে ট্রাম্প এখনো সরে আসেননি।

ট্রাম্পের ওপর মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী কার্যকর করা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনে বলা আছে, কোনো ব্যক্তি সরকারের উৎখাতের জন্য বা সরকারের বিরুদ্ধে সহিংসতায় যুক্ত থাকলে সেই ব্যক্তি সরকারের কোনো দায়িত্ব পালনের জন্য স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ হবেন

ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার পর কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টকে অভিশংসন করা যায় না—এমন যুক্তির বদলে নির্বাচনে কারচুপি নিয়ে যুক্তি তুলে ধরার কৌশল নিয়ে অনেক আইনজীবী সম্মত হননি। আইনজীবীদের কোনো ফি দেওয়া হয়নি এবং ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ফি দেওয়ার জন্য কোনো চুক্তিও করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ট্রাম্পের প্রচার ব্যবস্থাপক জেসন মিলার বলেছেন, ডেমোক্রেটিক দলের পক্ষ থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন বিচারটি অসাংবিধানিক বলে এর মধ্যেই বলা হয়েছে। সিনেটে ৪৫ জন রিপাবলিকান এমন অভিশংসন দণ্ডের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন। জেসন মিলার বলেছেন, তাঁরা শিগগির অভিশংসন আদালত মোকাবিলার জন্য আইনজীবী দল গঠন করবেন।

গত ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের পর থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রচার চালিয়েছেন যে, নির্বাচনে কারচুপি ও ভোট জালিয়াতি হয়েছে। তাঁর পক্ষে এই দাবি নিয়ে করা অর্ধশতাধিক মামলা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আদালত গ্রহণ করেননি। সব শেষে বিভিন্ন রাজ্যের রিপাবলিকান কর্মকর্তা ও আইনপ্রণেতাদের ওপর প্রভাব সৃষ্টি করে নির্বাচনের ফল পাল্টে দেওয়ার চেষ্টা করেন ট্রাম্প।

বিজ্ঞাপন
default-image

কংগ্রেসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের শেষ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার সময়েও ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সমর্থক আইনপ্রণেতাদের দিয়ে ফল পাল্টানো ও নির্বাচনী ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রয়াস চালান। ৬ জানুয়ারি ট্রাম্প তাঁর সমর্থকদের ওয়াশিংটনে জড়ো করেন। তাঁর উসকানিতে উগ্র সমর্থকেরা ক্যাপিটল হিলে কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে হামলা চালায়। এ হামলায় পাঁচজনের মৃত্যু ছাড়াও এর জের ধরে পুলিশের দুজন সদস্যের আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটেছে।

৬ জানুয়ারির তাণ্ডবের জের ধরে কংগ্রেস ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দফা অভিশংসন প্রস্তাব গ্রহণ করে। ১০ জন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা ট্রাম্পকে অভিশংসনের পক্ষে ভোট দেন। অভিশংসন প্রস্তাব সিনেটে পাঠানো হলে ১০০ জন সিনেট সদস্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিশংসন বিচার সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার শপথ নেন।

ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে মার্কিন সিনেটে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিশংসন আদালতের কাজ শুরু হওয়ার কথা। সিনেটে অভিশংসন দণ্ড কার্যকর হলে ট্রাম্প ভবিষ্যতে আর নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবেন না। প্রয়োজনীয় রিপাবলিকান সমর্থন না পেলে ট্রাম্পের অভিশংসন দণ্ড না হওয়ার সম্ভাবনাও আছে।

এ ছাড়া ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী কার্যকর করা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনে বলা আছে, কোনো ব্যক্তি সরকারের উৎখাতের জন্য বা সরকারের বিরুদ্ধে সহিংসতায় যুক্ত থাকলে সেই ব্যক্তি সরকারের কোনো দায়িত্ব পালনের জন্য স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ হবেন।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন