default-image

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আর মাত্র ছয় দিন বাকি। নির্বাচনী প্রচারের শেষ মুহূর্তে এসে ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী জো বাইডেনের শিবির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত রাজ্যগুলোতে জোর প্রচারণা শুরু করেছে। ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করতে ২০১৬ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের সহজে জয় পাওয়া এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন বাইডেন। পাশাপাশি কংগ্রেস ও সিনেটে আসন বৃদ্ধির জন্যও জোর প্রচারে নেমেছে ডেমোক্র্যাট দল।

জাতীয়ভাবে জনমত জরিপে ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী জো বাইডেন এগিয়ে আছেন সন্তোষজনক ব্যবধানে। শেষ মুহূর্তে দেখা যাচ্ছে, এবারের নির্বাচনের ব্যাটলগ্রাউন্ড রাজ্য হিসেবে পরিচিতি পাওয়া মিশিগান, পেনসিলভানিয়া ও উইসকনসিনের মতো রাজ্যেও জনমত জরিপে বাইডেন এগিয়ে আছেন।

২৭ অক্টোবর জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে জো বাইডেন প্রচারণা চালিয়েছেন। এ রাজ্যে ডেমোক্রেটিক দল ১৯৯২ সালের পর কোনো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয় পায়নি।

বিজ্ঞাপন
default-image

জর্জিয়ার প্রান্তিক শহর ওয়ার্ম স্প্রিং এলাকায় দেওয়া বক্তব্যে জো বাইডেন বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশকে বিভক্ত করে ফেলেছেন। তিনি নির্বাচিত হয়ে ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্টের আমেরিকার মতো সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করবেন।

জর্জিয়ার আটলান্টা নগরীতেও জো বাইডেন জনাকীর্ণ সমাবেশ করেছেন। লোকজনকে ভোট দেওয়ার জন্য বেরিয়ে পড়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

চলতি সপ্তাহে বাইডেন আবার ছুটে যাচ্ছেন আইওয়াতে। এ রাজ্যে ২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প ৯ শতাংশ ব্যবধানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে হারিয়েছিলেন। এবারের জনমত জরিপে বাইডেনকে এগিয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। ডেমোক্রেটিক দলের ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কমলা হ্যারিস ছুটে যাচ্ছেন টেক্সাসে। রিপাবলিকান রাজ্য হিসেবে দীর্ঘ দিনের পরিচিতি পাওয়া এ রাজ্যেও দুই প্রার্থীর অবস্থান এখন সমান সমান। জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, এ রাজ্যে প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরাও বেশ কয়েকটি আসনে এগিয়ে আছেন।

default-image

নির্বাচনী প্রচারের শেষ সপ্তাহে এসে ডেমোক্র্যাট প্রচার শিবির তাদের প্রচার কৌশলে পরিবর্তন এনেছে। সুইং স্টেটে সর্বশক্তি নিয়োগ করার পাশাপাশি ডেমোক্র্যাটদের নতুন টিভি প্রচার শুরু হয়েছে। আইওয়া, টেক্সাস, জর্জিয়া এবং ওহাইওতে ডেমোক্রেটিক দলের ব্যাপক প্রচারে রিপাবলিকান শিবির অনেকটাই উৎকণ্ঠিত। কারণ তাদের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত রাজ্যে হানা দিচ্ছে ডেমোক্রেটিক দল।

রিপাবলিকান রাজ্যগুলোতে জো বাইডেনের জয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই
বিল স্টিফেন, ট্রাম্পের প্রচার ব্যবস্থাপক

এসব রিপাবলিকান রাজ্যগুলোতে জনমত জরিপ আভাস দিচ্ছে, ২০২০ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হতে পারে। দলের সমর্থকেরাও এ নিয়ে আশাবাদী হয়ে উঠেছে। ডেমোক্রেটিক দলের লক্ষ্য এখন শুধু প্রেসিডেন্ট পদ নয়, কংগ্রেস ও সিনেটে আসন বৃদ্ধি করে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করাও তাদের লক্ষ্য।

যুক্তরাষ্ট্রের গত নয় দফা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কাজ করেছেন ডেমোক্র্যাট কৌশলবিদ জো ট্রিপি। তিনি মনে করেন, শেষ সপ্তাহের প্রচারে বাইডেনের প্রচার শিবির পরিষ্কারভাবেই শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।

ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনকে জয়ের জন্য টেক্সাস, জর্জিয়া, ওহাইও বা আইওয়াতে বিজয়ী হতেই হবে এমন নয়। তবে জয়ের জন্য ট্রাম্পকে এসব রাজ্যে জয় পেতে হবে। বাইডেনের প্রচার শিবির এখন মনে করছে, জোয়ারকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের ভোট বৃদ্ধি করা। সিনেট ও কংগ্রেস প্রার্থীদের পক্ষে ভোট বৃদ্ধি করে তাদের বিজয়কে সহজ করা।

এর পাশাপাশি ঝুঁকির কথাও ডেমোক্র্যাট শিবিরে আলোচিত হচ্ছে। রিপাবলিকান রাজ্যগুলোতে বেশি জোর দেওয়ার কারণে সুইং স্টেটগুলোতে শেষ মুহূর্তের কোনো বিপর্যয় জো বাইডেনের জন্য ভালো হবে না বলে মনে করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
বাইডেনের প্রচার শিবিরে অর্থের জোর প্রবাহ রয়েছে। এ কারণেই ব্যাটলগ্রাউন্ড রাজ্যের বাইরে যাওয়াটা ভালো কাজ হচ্ছে। ভোট বৃদ্ধি করাসহ কংগ্রেস ও সিনেটে আসন বৃদ্ধি করার জন্য এ প্রয়াস যুগান্তকারী। এ বিস্ময়কর পরিবর্তনটা দেখতে ভালোই লাগছে
জো ট্রিপি, ডেমোক্র্যাট কৌশলবিদ

ট্রাম্পের প্রচার ব্যবস্থাপক বিল স্টিফেন বলেছেন, রিপাবলিকান রাজ্যগুলোতে জো বাইডেনের প্রচারকে তিনি স্বাগত জানান। উদ্বিগ্ন সমর্থকদের উদ্দেশ করে দেওয়া এক বক্তব্যে বিল স্টিফেন বলেছেন, এসব রাজ্যে বাইডেনের জয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই।

এদিকে জো বাইডেন সাংবাদিকদের বলেছেন, তিনি কোনো কিছু নিয়েই নিশ্চিত নন। তিনি বলেন, সৌভাগ্যবশত আমরা এমনভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারছি, যা এসব চিহ্নিত রাজ্যে আগে কখনো করা যায়নি।

জো ট্রিপি বলেছেন, বাইডেনের প্রচার শিবিরে অর্থের জোর প্রবাহ রয়েছে। এ কারণেই ব্যাটলগ্রাউন্ড রাজ্যের বাইরে যাওয়াটা ভালো কাজ হচ্ছে। ভোট বৃদ্ধি করাসহ কংগ্রেস ও সিনেটে আসন বৃদ্ধি করার জন্য এ প্রয়াসকে যুগান্তকারী উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিস্ময়কর পরিবর্তনটা দেখতে ভালোই লাগছে।

মন্তব্য পড়ুন 0