‘ট্রাম্পের গল্প শুরু হলো মাত্র’

বিজ্ঞাপন
default-image

মার্কিন সাময়িকী দ্য আটলান্টিকের প্রধান সম্পাদক জেফ্রি গোল্ডবার্গ বলেছেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের গল্প মাত্র শুরু হলো। বরফখণ্ডের প্রান্তটিই কেবল আমরা দেখেছি।’

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনাদের ‘পরাজিত’ আখ্যা দিয়ে সমালোচনার ঝড় তোলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনাদের উদ্দেশ্যে বলা ট্রাম্পের এই অপমানসূচক বক্তব্যটি প্রথম সামনে আসে দ্য আটলান্টিকের মাধ্যমে। সঙ্গে সঙ্গেই সাময়িকীটিকে ‘ভুয়া সংবাদমাধ্যম’ আখ্যা দেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ প্রেক্ষাপটেই পত্রিকাটির প্রধান সম্পাদক গতকাল রোববার এ কথা বলেন।

পুরো বিষয়টি সম্পর্কে জেফ্রি গোল্ডবার্গ মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি আরও প্রতিবেদনের প্রত্যাশা করছি। সামনের দিন ও সপ্তাহগুলোয় এ সম্পর্কিত আরও নতুন নতুন তথ্য সুনিশ্চিতভাবে উঠে আসবে। আরও বহু প্রতিবেদন হবে। আমাদের একটা দায়িত্ব রয়েছে। তিনি যা-ই বলুন, আমরা সে দায়িত্ব পালন করে যাব।’

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
সাবেক মার্কিন সেনাসদস্যদের নিয়ে আগেও প্রকাশ্য বিদ্রূপ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সিনেটর জন ম্যাককেইন সাবেক মার্কিন সেনাসদস্যদের মধ্যে নমস্য ছিলেন। ভিয়েতনাম যুদ্ধে বন্দী হয়েছিলেন ম্যাককেইন। এ বিষয়টি নিয়ে ২০১৫ সালে তাঁকে প্রকাশ্যে বিদ্রূপ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, যাঁরা যুদ্ধে বন্দী হন, তাঁরা বীর হন কীভাবে? বীর হলেন তিনি, যিনি লড়াই করেন, ধরা না পড়ে জয়ী হতে পারেন

দ্য আটলান্টিকের প্রধান সম্পাদক জেফ্রি গোল্ডবার্গ প্রতিবেদনে বলেছেন, নিহত মার্কিন সেনাদের স্মৃতিময় গোরস্থানে ট্রাম্প না যাওয়ার জন্য মিথ্যা অজুহাত দিয়েছেন। উপরন্তু, যুদ্ধে নিহত সেনাদের একদল ‘ব্যর্থ’ লোক বলে উল্লেখ করেছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রথম বিশ্বযুদ্ধে নিহত মার্কিন মেরিনদের ‘লুজারস’ ও ‘সাকার্স’ বলে বিদ্রূপ করেছেন।

হোয়াইট হাউস থেকে এ প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়ে বলা হয়েছে, এ সংবাদের কোনো ভিত্তি নেই। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাবেক মার্কিন সেনাসদস্যদের স্বার্থে কী কী করেছেন, তার ফিরিস্তিও দেওয়া হয় হোয়াইট হাউস থেকে।

সাবেক মার্কিন সেনাসদস্যদের নিয়ে আগেও প্রকাশ্য বিদ্রূপ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সিনেটর জন ম্যাককেইন সাবেক মার্কিন সেনাসদস্যদের মধ্যে নমস্য ছিলেন। ভিয়েতনাম যুদ্ধে বন্দী হয়েছিলেন ম্যাককেইন। এ বিষয়টি নিয়ে ২০১৫ সালে তাঁকে প্রকাশ্যে বিদ্রূপ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, যাঁরা যুদ্ধে বন্দী হন, তাঁরা বীর হন কীভাবে? বীর হলেন তিনি, যিনি লড়াই করেন, ধরা না পড়ে জয়ী হতে পারেন।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিশ্বস্ত সূত্রের বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন কার্ল বার্নস্টেইন, যিনি ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারি উদ্‌ঘাটনের জন্য বিখ্যাত। তিনি বলেন, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্র সাংবাদিকদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ওয়াটারগেট বিষয়ে করা ২০০ প্রতিবেদনের প্রায় সবগুলোই এ ধরনের সূত্রের ওপর ভিত্তি করে করা। বার্নস্টেইন বলেন, ‘ট্রাম্প জমানায় প্রায় সব প্রতিবেদনের ক্ষেত্রেই অতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে এ ধরনের সূত্র। কারণ সত্যের কাছে পৌঁছানোর জন্য আমাদের হাতে এখন এটিই একমাত্র বিকল্প।’

বর্তমান প্রশাসন সম্পর্কে কার্ল বার্নস্টেইন বলেন, ‘আমাদের মানতেই হবে যে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর প্রেসিডেন্সি সম্পর্কে যেসব সত্য আমরা জানি, তার প্রায় সবই এসেছে এমন প্রতিবেদনের মাধ্যমে। প্রেসিডেন্টের খবরগুলোই বরং ভুয়া। সাংবাদিকেরা সত্যিকারের প্রতিবেদনই হাজির করছেন।’

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image
যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্টের কথায় আমরা ভয় পাচ্ছি না। আমরা আমাদের কাজ চালিয়ে যাব।
জেফ্রি গোল্ডবার্গ, প্রধান সম্পাদক, দ্য আটলান্টিক

রোববার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দ্য আটলান্টিককে আক্রমণ করেই থামেননি। তিনি এর সিংহভাগ শেয়ারের মালিক লরেন পাওয়েল জবসকেও আক্রমণ করেন। এ সম্পর্কিত এক টুইটে তিনি লেখেন, ‘স্টিভ জবস কোনোভাবেই খুশি হতেন না এটা দেখলে যে, তাঁর রেখে যাওয়া অর্থ তাঁর স্ত্রী উগ্র বামপন্থী এক সাময়িকীর পেছনে ঢালছেন, যা এক অশিষ্ট লোকের (গোল্ডবার্গ) পরিচালনায় ভুয়া খবর ও ঘৃণা উগরে দিচ্ছে।’

এই টুইটের পর ট্রাম্পের উদ্দেশে জেফ্রি গোল্ডবার্গ বলেন, তাঁর সাময়িকী ট্রাম্প প্রশাসনের বিষয়ে লেখা চালিয়ে যাবে। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্টের কথায় আমরা ভয় পাচ্ছি না। আমরা আমাদের কাজ চালিয়ে যাব।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন