default-image

ক্ষমতা ছাড়ার শেষ সময়ে এসে একের পর এক বড় ধাক্কা খাচ্ছেন বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট থাকাকালে তিনি পুরো সময়জুড়ে শরণার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে আসতে এবং আশ্রয় নেওয়ার ক্ষেত্রে নানা ধরনের বাধা সৃষ্টি করেছেন। তাদের এ দেশে নিরুৎসাহিত করতে একের পর এক নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে আসা শরণার্থীদের বৈধতা ঠেকাতে বারাক ওবামার রাজনৈতিক আশ্রয়ের সুযোগও বাতিল করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বারাক ওবামার সময়ে যেখানে বছরে প্রায় ১ লাখ শরণার্থী বৈধতা পেতেন, সেখানে ট্রাম্প প্রশাসন সেটা কমিয়ে ১৫ হাজারে নামিয়ে এনেছে।

চার বছরের ক্ষমতার মেয়াদে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইমিগ্রেশন নীতিমালাকে কঠোর থেকে কঠোরতর করতে চার শ’-এর বেশি নির্বাহী আদেশে সাক্ষর করেন। এরপর ক্ষমতা ছাড়ার শেষ মুহূর্তে ডিসেম্বরেও রাজনৈতিক কারণে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য দরজা বন্ধ করতে তিনি নানা তোড়জোড় শুরু করেন।

মূলত শপথ গ্রহণের পর ট্রাম্পের প্রথম দিকের উদ্যোগের মধ্যে অন্যতম ও আলোচিত নির্বাহী আদেশ ছিল মুসলমান অধ্যুষিত বিভিন্ন দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা নিষিদ্ধ ঘোষণা। এবার ট্রাম্পের সেই আইনগুলো বাতিল করে দেন ওয়াশিংটন ডিসির ফেডারেল জজ জেমস ডনেটো। ৮ জানুয়ারি তিনি এই নির্দেশ জারি করেছেন।

বিজ্ঞাপন
এখন থেকে নিজ দেশে রাজনৈতিক অথবা অন্য কোনো কারণে নিগৃহীত হওয়ার ভয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের আর তৃতীয় কোনো দেশে আশ্রয়ের আবেদন করার প্রয়োজন হবে না।

এখন থেকে নিজ দেশে রাজনৈতিক অথবা অন্য কোনো কারণে নিগৃহীত হওয়ার ভয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের আর তৃতীয় কোনো দেশে আশ্রয়ের আবেদন করার প্রয়োজন হবে না। এমনকি সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময়কালের আশ্রয় আইন এখন থেকে বলবৎ থাকবে। আজ সোমবার থেকে এই আইন কার্যকর হবে।

সম্প্রতি বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক নির্দেশে বলেছিলেন, আশ্রয়প্রার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আগে অন্য কোনো দেশে আশ্রয় চেয়ে পাননি, এমন নথিপত্র দেখাতে হবে। অন্যথায় তার আবেদন গ্রহণ করা হবে না। এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের বহু বছরের প্রচলিত একটি রীতির পরিপন্থী, তাই তাঁর আদেশের বিরুদ্ধে আদালতের আশ্রয় নেওয়া হয়েছিল।

উল্লেখ্য, ট্রাম্পের অ-আমেরিকান আর অ-অভিবাসী—এই নির্দেশ ১২ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। এর আগে ট্রাম্পের জারি করা আরও কিছু পদক্ষেপ এভাবেই থমকে গেছে আদালতের নির্দেশে। অর্থাৎ আগের মতোই যেকোনো পথে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকেই সংশ্লিষ্টরা আশ্রয়ের আবেদন করতে পারবেন। সেটি মঞ্জুরের ব্যাপারটি নির্ভর করবে আশ্রয় সংশ্লিষ্ট অফিসার অথবা ইমিগ্রেশন কোর্টের ওপর।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন