default-image

নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন নিশ্চিতভাবেই একটা বড় ব্যাপার। যোগ্য বহু মানুষই এই মনোনয়ন পান না। ফলে কারা মনোনয়ন পাচ্ছেন, তার খবরের দিকে সবার তীক্ষ্ণ নজর থাকে। গতকাল সোমবার সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়ে জামাই জ্যারেড কুশনারের এই মনোনয়ন পাওয়ার খবর চাউর হয় এবং অবধারিতভাবেই আলোচনার জন্ম দেয়।

ট্রাম্পের মেয়ে-জামাই জ্যারেড কুশনার ও ২০১৮ সালে জর্জিয়ার ডেমোক্রেটিক রাজ্যপাল হিসেবে মনোনয়ন পাওয়া স্টেসি আব্রামস নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পেয়েছেন বলে খবর প্রকাশ হয়। এই খবরে উভয় দলের শীর্ষ পর্যায় নড়েচড়ে বসে। প্রশ্ন ওঠে, কীভাবে এই দুজন ব্যক্তি এমন একটি মনোনয়ন পেলেন। অনেকেই মনে করেন, তাঁরা এর যোগ্য কোনোভাবেই নন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, নোবেল শান্তি পুরস্কার জেতা, আর এর মনোনয়ন পাওয়া সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। মূলত বিভিন্ন মাধ্যম থেকে সংগৃহীত প্রস্তাবের ভিত্তিতেই এই মনোনয়ন দেওয়া হয়। কারা এই মনোনয়নের জন্য সুপারিশ করতে পারেন, তার তালিকার দিকে তাকালেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়।

নোবেল কমিটির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, এই মনোনয়ন দিতে পারবেন কোনো দেশের আইনসভার সদস্য, সরকার, আন্তর্জাতিক আদালত, বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য, সমাজ বিজ্ঞান, ইতিহাস, দর্শন, আইন ও ধর্মতত্ত্বের অধ্যাপক, শান্তি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দ, সাবেক নোবেল বিজেতা, নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পরিষদের সদস্য, নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির বর্তমান ও সাবেক সদস্য এবং নরওয়েজিয়ান নোবেল ইনস্টিটিউটের সাবেক উপদেষ্টাবৃন্দ।

বিজ্ঞাপন
অক্টোবরে পুরস্কারটি ঘোষণার আগ পর্যন্ত এ তালিকায় যুক্ত হবে নতুন নতুন নাম। ফলে কুশনার ও আব্রামস মনোনয়ন পাওয়ায় এত ক্ষোভের কিছু নেই। বিশ্লেষকেরা বলছেন, ‘নিজের ক্ষোভকে সংযত রাখুন। তাঁরা শেষ পর্যন্ত জিতবেন না বলেই মনে হয়

সিএনএন বলছে, নোবেল শান্তি পুরস্কারের মনোনয়নের সুপারিশ করার জন্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তালিকা এতই লম্বা যে, যে কারও পক্ষে চাইলে দল ভারী করে মনোনয়ন বাগিয়ে নেওয়া সম্ভব। জ্যারেড কুশনার নিশ্চিতভাবে এই পন্থাতেই এগিয়েছেন। ঠিক যেমন এগিয়েছিলেন তাঁর শ্বশুর সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০২০ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য ২১০ জন ব্যক্তি ও ১০৭ প্রতিষ্ঠান মনোনয়ন পেয়েছিল। সে তালিকায় ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্পও।

কুশনারের ক্ষেত্রে এই মনোনয়নটি দিয়েছেন ট্রাম্পপন্থী আইনজীবী হিসেবে পরিচিত অ্যালান ডারশোইৎজ। ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের সদস্য থাকাকালে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি স্থাপনে কুশনারের অবদানের কথা উল্লেখ করে তাঁকে মনোনয়ন দিতে সুপারিশ করেন ডারশোইৎজ, যিনি হার্ভার্ড ল স্কুলের একজন ইমেরিটাস অধ্যাপক। মজার বিষয় হলো. ইসরায়েল ইস্যুতে কুশনারের পরামর্শে সাবেক ট্রাম্প প্রশাসন এমন কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি স্থাপনের বিষয়টিকে আরও অনিশ্চিত করেছে বললে কোনোভাবেই কম বলা হবে না।

সিএনএন জানায়, স্টেসি আব্রামসকে মনোনয়নের সুপারিশটি করেছেন লারস হল্টব্রেকেন, যিনি নরওয়ের সোশ্যালিস্ট পার্টির একজন সদস্য। আব্রামস মনোনয়ন পেয়েছেন ভোটারদের অধিকার ও নিবন্ধনে বিশেষ অবদান রাখার জন্য। এবার শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পেয়েছেন ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার আন্দোলন ও জলবায়ু ইস্যুতে আন্দোলন করে যাওয়া গ্রেটা থুনবার্গ। রয়েছেন রুশ অ্যাকটিভিস্ট আলেক্সেই নাভালনি। এই মনোনয়ন তালিকা নিশ্চিতভাবেই সামনে আরও লম্বা হবে। অক্টোবরে পুরস্কারটি ঘোষণার আগ পর্যন্ত এ তালিকায় যুক্ত হবে নতুন নতুন নাম। ফলে কুশনার ও আব্রামস মনোনয়ন পাওয়ায় এত ক্ষোভের কিছু নেই। বিশ্লেষকেরা বলছেন, ‘নিজের ক্ষোভকে সংযত রাখুন। তাঁরা শেষ পর্যন্ত জিতবেন না বলেই মনে হয়।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন